Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শিলিগুড়ি ও দার্জিলিং সংযোগকারী ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের দায়িত্ব ফেরানোর দাবি নবান্নের

ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত পাহাড়। এই অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং সংযোগকারী ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক (সাবেক ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়ক) রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ফেরত চাইল তারা।

শিলিগুড়ি ও দার্জিলিং সংযোগকারী ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের দায়িত্ব ফেরানোর দাবি নবান্নের
  • ৯ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত পাহাড়। এই অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং সংযোগকারী ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক (সাবেক ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়ক) রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ফেরত চাইল তারা। অতি গুরুত্বপূর্ণ এই পাহাড়ি রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল রাজ্য পূর্তদপ্তর। প্রায় ২০ বছর আগে রাস্তাটি জাতীয় সড়ক হিসেবে ঘোষণা হয়। সেই সময় থেকেই এই রাস্তার দায়িত্বে ছিল রাজ্য পূর্তদপ্তরের জাতীয় সড়ক শাখা। কিন্তু কোনও সদর্থক কারণ না দর্শিয়েই একতরফাভাবে এই রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সংস্থা ন্যাশনাল হাইওয়ে অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের (এনএইচআইডিসিএল) হাতে তুলে দেয় মোদি সরকার।

Advertisement

তবে সড়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, রবিবারের বিপর্যয়ই প্রমাণ করে দিয়েছে, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে এই রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য উপযুক্ত রাজ্য সরকারই। এই প্রেক্ষিতে ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ফেরত চেয়ে নীতিন গাদকারির সড়ক পরিবহণ ও হাইওয়ে মন্ত্রককে চিঠি দিল নবান্ন।  সূত্রের খবর, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা এক নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে কোন রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব রাজ্য পূর্তদপ্তরের হাতে যাবে  আর কোনটা জাতীয় সড়ক শাখার। তার সবক’টি মাপকাঠি অনুযায়ী এই রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকার কথা রাজ্যের হাতেই। কোনওভাবেই এর দায়িত্ব জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (এনএইচএআই) বা এনএইচআইডিসিএল-এর হাতে যাওয়া উচিত নয় বলেই মত রাজ্যের প্রশাসনিক মহলের। কেন্দ্রের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও জাতীয় সড়ক সাড়ে পাঁচ মিটার চওড়া বা দুই লেনের হলে তার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য রাজ্যকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। পর্যাপ্ত পরিকাঠামো থাকলে সেই দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে পূর্তদপ্তরের জাতীয় সড়ক শাখাকে। আবার, রাস্তার কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে, এমন কোনও ‘ইনস্টলেশন’ না থাকলে তার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব রাজ্যের হাতে দেওয়া যেতে পারে। প্রশাসনিক মহলের ব্যাখ্যা, এই রাস্তার উপর এমন কোনও ‘ইনস্টলেশন’ নেই। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ৭৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জাতীয় সড়কের জন্য চার জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার এবং তাঁদের নেতৃত্বাধীন দল নির্দিষ্ট চার জায়গায় সর্বক্ষণ মোতায়েন রাখা হতো। ফলে কোনও জায়গায় ধস নামলে খুব কম সময়ের মধ্যে পৌঁছে গিয়ে মেরামতির কাজ শুরু করতে পারতেন তাঁরা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সড়কের মেরামতি যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই মত বিশেষজ্ঞ মহলের।
প্রসঙ্গত, সেবক থেকে সিকিমের গ্যাংটক সংযোগকারী ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে এনএইচআইডিসিএল’র হাতে তুলে দেয় কেন্দ্র। এই জাতীয় সড়কের প্রায় ৫২ কিলোমিটার অংশ রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। আগে এই অংশের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও ছিল রাজ্য পূর্তদপ্তরের জাতীয় সড়ক শাখার হাতে। উত্তরবঙ্গের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক দেখভালের দায়িত্ব রাজ্যের হাত থেকে নিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রে। প্রশ্ন উঠছে, প্রাকৃতিক বিপর্যয় প্রবণ এসব অঞ্চলে এর ফলে সাধারণ মানুষের সমস্যা বাড়বে না তো? 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ