Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রেললাইনে যুবকের ছিন্নভিন্ন দেহ কালীগঞ্জের হাটগোবিন্দপুরের ঘটনায় রহস্য

রেললাইন থেকে কিছু দূরেই ফাঁকা জমিতে পড়ে চাপ চাপ রক্ত। সেই রক্তের দাগ রয়েছে রেললাইনের পর্যন্ত।‌

রেললাইনে যুবকের ছিন্নভিন্ন দেহ কালীগঞ্জের হাটগোবিন্দপুরের ঘটনায় রহস্য
  • ২৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: রেললাইন থেকে কিছু দূরেই ফাঁকা জমিতে পড়ে চাপ চাপ রক্ত। সেই রক্তের দাগ রয়েছে রেললাইনের পর্যন্ত।‌ আর লাইনের উপর টুকরো টুকরো হয়ে পড়ে আছে যুবকের ক্ষত-বিক্ষত দেহ। কালীগঞ্জ থানার পলাশীর হাটগোবিন্দপুরে এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিস জানিয়েছে,‌ মৃতের নাম মাফিজুল শেখ(৩৩)। পুলিস মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে পাঠিয়েছে।‌ পরিবারের তরফে থানায় খুনের অভিযোগ করা হয়েছে। মৃতের স্ত্রীর দাবি, স্বামীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কারণেই তাঁকে খুন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার ডিএসপি মত্তাকিনুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার রাতে হাটগোবিন্দপুর এলাকায় এই যুবকের ক্ষত-বিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের তরফ থেকে খুনের অভিযোগ করা হয়েছে। আমরা ঘটনার বিভিন্ন দিক তদন্ত করে দেখছি। 

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে হাটগোবিন্দপুর রেলগেট থেকে কিছুটা দূরে মাফিজুলের ছিন্নভিন্ন দেহ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছিল, ট্রেনে কাটা পড়েই ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু রেললাইন থেকে পাঁচ মিটার দূরে জমিতে অনেক রক্ত পড়ে থাকতে দেখা যায়। এমনকী, সেই রক্তের দাগ রেললাইন পর্যন্ত পড়েছিল। সন্দেহ করা হচ্ছে, তাঁকে কেউ কুপিয়ে খুন করে রেললাইন উপর ফেলে দেয়। যাতে মনে হয়, ট্রেনের ধাক্কায় ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। 
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাফিজুল শেখ পেশায় পেয়ারা ব্যবসায়ী। ১৫ বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের নিজস্ব সন্তান ছিল না। তাই এক সন্তান দত্তক নিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু কয়েক বছর ধরেই ওই যুবক প্রতিবেশী এক মহিলার সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজনও তা জেনে যায়। সেই নিয়ে বাড়িতে অশান্তি লেগেই থাকত। তাই এই ঘটনার পিছনে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিস। 
পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার রাতে হাটগোবিন্দপুর এলাকার এক চায়ের দোকানে বসেছিল মাফিজুল। সেইসময় তাঁর কাছে একটা ফোন আসে। তারপরেই সে দোকান থেকে বেরিয়ে পড়ে।‌ তার কিছুক্ষণ পরেই মাফিজুলের ক্ষতবিক্ষত দেহ রেললাইনে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ওই রাতে এক মহিলার নম্বর থেকে তাঁর কাছে ফোন এসেছিল বলে পুলিস প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে। 
মাফিজুলের স্ত্রী আরমিনা বিবি বলেন, একজনের সঙ্গে ওঁর ভাব ছিল। ওঁকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে সংসার করছিল না বলে, এইসব করল। ওই মহিলা আমাদের শেষ করা দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। মাফিজুলের বাবা সুরাত আলি শেখ বলেন, প্রমাণ লোপাট করার জন্য আমার ছেলের দেহ রেললাইনের উপর ফেলে দেয়। আমি দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই‌।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ