নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: রানাঘাটে এক বেসরকারি হোমের আবাসিক এক মূক-বধির তরুণীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘনীভূত হয়েছে রহস্য। মৃতের পরিবারের তরফে তরুণীকে শারীরিক নির্যাতন ও যৌন হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্তে নেমে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে রানাঘাট থানা। ধৃতের নাম কৌশিক কর। তার বাড়ি রানাঘাটের বেগোপাড়া এলাকায়। বৃহস্পতিবার তাকে রানাঘাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশ ও মৃতের পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, তরুণীর বয়স প্রায় ২৫ বছর। বাড়ি কল্যাণী মহকুমার মদনপুরে। ছোটবেলা থেকেই তিনি মূক ও বধির। দীর্ঘদিন ধরে মেয়ের চিকিৎসা ও দেখভালের জন্য পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান। কয়েক মাস আগে রানাঘাটের বেগোপাড়ার ওই বেসরকারি হোমে তাঁকে রেখে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অভিযোগ, ওই হোমে মেয়েকে রাখতে পরিবারকে মোটা টাকা দিতে হয়েছিল। পাশাপাশি তরুণীকে সুস্থ করে তোলার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের।
কিন্তু বাস্তবে চিকিৎসার পরিবর্তে তরুণীর উপর লাগাতার অত্যাচার চলছিল বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার সময় থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। কয়েক সপ্তাহ আগে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসা চলার পর তাঁকে ফের ওই হোমে নিয়ে যাওয়া হয়। এই বিষয়টি নিয়েও পরিবারের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয় বলে জানা গিয়েছে।
এরপর পরিবারটি নিজেরাই মেয়েকে হোম থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। বাড়িতে আনার পরেই পরিবারের সদস্যরা লক্ষ্য করেন, তরুণীর শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে তাঁকে আবার রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। গত বুধবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত তরুণীর বউদি অভিযোগ করে বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার সময় তাঁকে নির্দয়ভাবে মারধর করা হয়েছে এবং যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে। তাঁর কথায়, মেয়েটা কিছু বলতে বা শুনতে পারে না। সেই অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে ওর উপর অমানবিক অত্যাচার হয়েছে।
তরুণীর মৃত্যুর পর পরিবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করে রানাঘাট থানায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং আশ্রয়কেন্দ্রের কর্ণধার কৌশিক করকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রের কার্যকলাপ, সেখানে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সেই দিকগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অনেকেই বেসরকারি আশ্রয়কেন্দ্রগুলির ভূমিকা ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।