প্রত্যেকেই গুণী ও পেশাদার। কর্মক্ষেত্রে স্বনামধন্য। কিন্তু তাঁদের জীবনেও আধিব্যধি আছে। আছেন ভরসার চিকিৎসকও। ডক্টর্স ডে-তে তাঁদের শ্রদ্ধা-ভালোবাসা জানালেন সেলিব্রিটিরা।
প্রত্যেকেই গুণী ও পেশাদার। কর্মক্ষেত্রে স্বনামধন্য। কিন্তু তাঁদের জীবনেও আধিব্যধি আছে। আছেন ভরসার চিকিৎসকও। ডক্টর্স ডে-তে তাঁদের শ্রদ্ধা-ভালোবাসা জানালেন সেলিব্রিটিরা।
অপরাজিতা আঢ্য
(অভিনেত্রী)
ডাঃ নিরূপ মিত্র। তিনিই আমার কাছে ‘ভগবান’। তাঁকে আমি ‘বাবাই’ বলে ডাকি। ২০১৭-য় আমার ভয়ঙ্কর হাম হয়। শুধু বাবাই ছিলেন বলে, হাসপাতালে না ভর্তি হয়ে বাড়িতে থেকেই সুস্থ হই। ভয়াবহ ডায়ারিয়ার সময়ও একটুও ভয় না দেখিয়ে বাড়িতে রেখে দিব্য সুস্থ করেছেন। কোভিডের সময়ও তাঁর দক্ষতা দেখেছি। পরিবারের সবাই সবটুকু ভরসা, বিশ্বাস ও ভালোবাসা দিয়ে তাঁর উপর নির্ভর করি। ওঁর দীর্ঘায়ু কামনা করি।
অনুপম রায় (গায়ক)
বাবা জেনারেল মেডিসিনের প্র্যাকটিশনার। তাই ছোটবেলা থেকে বাবাই আমার ‘ডাক্তারবাবু’। আজও টুকটাক যে কোনও অসুখবিসুখে বাবা সামাল দিয়েছেন। আলাদা করে ডাক্তারদের কথা বলতে হলে, বলব আমার ডেন্টিস্টের কথা। ডাঃ বিক্রমজিৎ মুখোপাধ্যায়। তিনি শুধু আমার বাবার বন্ধুর ছেলে নন, আমারও বন্ধু। ওঁর সঙ্গে আড্ডা, আলাপ সবই ঠিক ডাক্তার-রোগীর সম্পর্কের মতো নয়। বিক্রম খুব ভালো গান করেন। তাঁর কাছে আমি কৃতজ্ঞ, কারণ তিনি আমার তিনটি বেয়াক্কেলে আক্কেল দাঁত একটুও কষ্ট না দিয়ে তুলে এই বয়সে আমার জীবনে আক্কেল ফিরিয়ে এনেছেন।
হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
(লেখক)
আমি তেমন অসুস্থ হতাম না।
তবে বছর দুই আগে আমার ফুসফুসে এক কঠিন সংক্রমণ হয়। শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তখন পিজিতে ভর্তি হই। তার আগে বাইরেও নানা হাসপাতাল ও চিকিৎসকের থেকে পরামর্শ নিয়েছিলাম। প্রত্যেকেই বলেছিলেন আমার অপারেশন করতে হবে। ছুটে যাই পিজিতে। সেখানে আমাকে সুস্থ করার দায়িত্ব নেন পালমোনোলজি ডিপার্টমেন্টের প্রধান ডাঃ অমিতাভ সেনগুপ্ত। তখন এই পালমোনোলজি বিভাগের একটা অংশ শম্ভুনাথ পণ্ডিতে স্থানান্তরিত হয়েছে। আমাকে উনি ওখানে ভর্তি করেন। একমাস ভর্তি ছিলাম। অকৃপণ দরদ দিয়ে তাঁর টিম আমার চিকিৎসা করছে! যেখানে বেসরকারির প্রায় সকলেই আমাকে লাং অপারেশন করতে বলেন ও মেডিসিন দিয়ে ভালো করার কোনও নিশ্চয়তা দেননি, সেখানে ডাঃ অমিতাভ সেনগুপ্ত ও তাঁর ইউনিট শুধু মেডিসিনের উপর ভরসা রেখে সাংঘাতিক সংক্রমণ সামলে দিয়েছিলেন। সরকারি হাসপাতালে এমন চিকিৎসা মেলে, আমার ধারণা ছিল না। তাঁর কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ।
জয়দীপ মুখোপাধ্যায়
(পরিচালক)
আমি যখন ক্লাস এইট-নাইনে পড়ি, একদিন শুনলাম, পাড়ার বনিমামা (ডাঃ সৌপায়ন দত্ত) ডাক্তার হয়েছেন। আমাদের পাড়া বকুলবাগানেই চেম্বার শুরু করলেন। বনিমামা অত্যন্ত দক্ষ একজন কার্ডিওলজিস্ট। শুধু হার্টের অসুবিধাই নয়, ছোটখাট যে কোনও রোগে তিনিই আমাদের পরিবারের ‘মেডিক্যাল গার্জিয়ান’। তবে গুরুগম্ভীর ডাক্তার মোটেই নন, বরং একেনবাবু থেকে শুরু করে আমার অন্য সিনেমা বা সিরিজ দেখে মতামত দেন। তবে আমাদের একজন ‘ফোনের ডাক্তার’ও আছেন। মানে, রাতবিরেতে কোনও সমস্যায় পড়লে আমরা তাঁকে ফোন করি। ওষুধও খাই তাঁর কথায়! তিনি আমার ভায়রাভাই, অরুণ চক্রবর্তী। মানুষটি এককালে ডাক্তার হতে চেয়েছিলেন। পারিবারিক কারণে পড়তে পারেননি। কিন্তু তাঁর ডাক্তারি বইপত্র পড়ার নেশা ও ডাক্তারি জ্ঞান অতুলনীয়। দু’জনের প্রতিই ডক্টরস’ডে-তে আমার কৃতজ্ঞতা।
লিখেছেন:
মনীষা মুখোপাধ্যায়