Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিবভক্তদের শোভাযাত্রায় মুসলিমরাও

সাম্প্রতিক সময়ে মুর্শিদাবাদের এ যেন এক বিরল ছবি। গ্রামের ধর্মরাজ পুজোয় হিন্দু সম্প্রদায়ের শিবভক্তদের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ র‌্যালি করে নিয়ে এলেন মন্দিরে

শিবভক্তদের শোভাযাত্রায় মুসলিমরাও
  • ২১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: সাম্প্রতিক সময়ে মুর্শিদাবাদের এ যেন এক বিরল ছবি। গ্রামের ধর্মরাজ পুজোয় হিন্দু সম্প্রদায়ের শিবভক্তদের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ র‌্যালি করে নিয়ে এলেন মন্দিরে। এমনকি, রাস্তায়  শিবভক্তদের জন্য আসন পেতে মিষ্টি ও জল খাওয়ালেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। রবিবারের এই ছবি দেখল খড়গ্রাম থানার ইন্দ্রাণী গ্রাম।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইন্দ্রাণী গ্রামে একটি প্রাচীন শিবমন্দির রয়েছে। কয়েকবছর আগে ওই ভগ্নপ্রায় মন্দিরের সংস্কার করেন গ্রামের মানুষ। এরপর প্রতিবছর সেখানে ঘটা করে ধর্মরাজ পুজো হয়। সেইমতো এবছরও সেখানে বুধবার থেকে উৎসব শুরু হয়। রবিবার রাতে মহাপ্রসাদ বিলির মাধ্যমে শেষ হয়েছে।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রতিবছর এইদিনে গ্রামের অসংখ্য শিবভক্ত ভাগীরথী থেকে বাঁকে করে জল এনে বাবা মহেশ্বরের মাথায় ঢালেন। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এদিন প্রায় গ্রামের ১২০ জন শিবভক্ত সকালে উঠেই ভাগীরথী থেকে জল নিয়ে মন্দিরের দিকে হাঁটতে শুরু করেন। গ্রাম ঢোকার প্রায় এক কিলোমিটার আগে দেখা গেল বিরল দৃশ্য। স্থানীয় শেরপুর গ্রাম একদল মুসলিম সম্প্রদায়ের বাসিন্দা শিবভক্তদের জন্য রাস্তায় আসন পেতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। শিবভক্তের দল সেখানে পৌঁছতেই মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁদের সেখানে বসে বিশ্রাম নেওয়ার অনুরোধ করেন। এরপর মুসলিম সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা শিবভক্তদের হাতে তুলে দেন মিষ্টি ও জলের বোতল।
এখানেই শেষ নয়। এরপর মন্দিরে যাওয়ার বাকি রাস্তাটুকু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ র‌্যালি করে শিবভক্তদের মন্দিরে নিয়ে এলেন। সঙ্গে বাজনার দলও ছিল। এমন দৃশ্য দেখতে রাস্তার দুই ধারে প্রচুর মানুষ দাঁড়িয়েছিলেন। 
স্থানীয় বাসিন্দা হাজি আতিউর রহমান বলেন, ‘কোনও ভেদাভেদ নীতি আমাদের আলাদা করতে পারবে না। যতই ষড়যন্ত্র হোক না কেন, আমরা উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ একাত্ম হয়েই রইব।’ অপর বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে চলেছে তা নিন্দনীয়। আজকের সম্প্রীতির পরিবেশের বার্তা আমরা সকলের কাছে ছড়িয়ে দিতে চাই।’ শিবভক্ত রঞ্জিত কোনাই বলেন, ‘গ্রামের ধর্মরাজের পুজো আজ উভয় সম্প্রদায়ের মিলন উৎসবে পরিণত হয়ে গিয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমাদের জন্য শুভকামনা করছেন। এটা কোনও ছোট ব্যাপার হতে পারে না।’ অপর শিবভক্ত রাজনন্দিনী মার্জিত বলেন, ‘মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ আমাদের জন্য যে ব্যবস্থা করেছিলেন তা অকল্পনীয়। আমরা পশ্চিমবঙ্গবাসী হিসেবে গর্বিত।’ উৎসবের আয়োজক কমিটির সদস্য তোতন প্রামাণিক বলেন, ‘আজকের উৎসব উভয় সম্প্রদায়ের মিলন উৎসবে পরিণত হয়ে গিয়েছে। এখানে কোন ভেদাভেদের লেশমাত্র নেই।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ