Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জুওলজিক্যাল পার্ক গড়া নিয়ে আশায় মুর্শিদাবাদ, জমি দেখলেন প্রশাসনিক দল

বহরমপুরে জুওলজিক্যাল পার্ক এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ার জন্য জমি পরিদর্শন করা হল।

জুওলজিক্যাল পার্ক গড়া নিয়ে আশায় মুর্শিদাবাদ, জমি দেখলেন প্রশাসনিক দল
  • ২৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিষেক পাল, নবগ্রাম: বহরমপুরে জুওলজিক্যাল পার্ক এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ার জন্য জমি পরিদর্শন করা হল। জুওলজিক্যাল পার্ক হলে নবাবী মুলুকে পর্যটনে জোয়ার আসবে বলে মনে করছেন জেলাবাসী। বহরমপুর লোকসভা থেকে জয়লাভের পর প্রথম জুওলজিক্যাল পার্ক তৈরির উদ্যোগী হন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ ইউসুফ পাঠান। নভেম্বর মাসে কেন্দ্রের পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি একটি আবেদন জমা দিয়েছিলেন। বুধবার তেলকর বিল এলাকায় জমির পরিদর্শনে যান সাংসদ এবং জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। বহরমপুর থানার অন্তর্গত নবগ্রাম বিধানসভা এলাকায় ৭৮ একর সরকারি জমিতে এই জুওলজিক্যাল পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এদিনের জমির পরিদর্শনে সাংসদ ছাড়াও হাজির ছিলেন জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র, অতিরিক্ত জেলাশাসক(ভূমি ও ভূমি সংস্কার) পি প্রমথ সহ বন দপ্তরের আধিকারিকরা। 

Advertisement

ইউসুফ সাহেব জমি পরিদর্শন করার পর আশার কথা শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি আগেই কেন্দ্রীয় পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেছিলাম। মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরে একটি জুওলজিক্যাল পার্ক এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ করার জন্য তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে একটি আবেদন জমা করেছিলাম। সেখান থেকে সবুজ সঙ্কেত মেলায় আমরা এদিন জমির পরিদর্শনে এসেছি। ৭৮ একর জমিতে এই পার্ক গড়া হবে। জমি দেখে আমরা আশাবাদী। জেলার সাধারণ মানুষ এবং বাচ্চাদের সময় কাটানোর জন্য এটা খুবই ফলপ্রসূ হবে। এখন তো কলকাতায় যেতে হয়। এখানে জুওলজিক্যাল পার্কের পাশাপাশি পিকনিক স্পট করা হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের সুবিধা হবে। এই পার্ক থেকে আয় হবে। মানুষ কাজকর্ম পাবে। 
এমনিতেই সাবেক নবাবী মুলুক পর্যটনের জন্য বিশ্বখ্যাত। দেশ ও বিদেশের বহু পর্যটক প্রতি বছর মুর্শিদাবাদ ঘুরতে আসেন। এবার বহরমপুর শহরের পাশেই একটি জুওলজিক্যাল পার্ক গড়ে তোলা হলে পর্যটকদের জন্য এই জেলা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলেই আশাবাদী বাসিন্দারা। বহরমপুরের ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের নতুন বাইপাসের কাছেই এই পার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু হয়েছে। 
নবগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক কানাইচন্দ্র মণ্ডল বলেন, চিড়িয়াখানা মানে অনেক বড় একটি ব্যাপার। আমার বিধানসভা এলাকায় এটা গড়ে উঠলে স্থানীয় মানুষজনের সুবিধা হবে। ব্যবসা বাণিজ্য বাড়বে। কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। ওই এলাকায় আরও কিছু জমি আছে, সেখানে অনুসারী কিছু প্রকল্প ভাবা যেতে পারে। 
তেলকর বিল এলাকার বাসিন্দা হরেন মাহাত বলেন, আমরা এখানকার জমিতে চাষ করি। বর্ষার সময় জমি জলে ডুবে যায়। তখন চাষ হয় না। বছরে দুবার ফসল হয়। শীতের সময় প্রচুর পরিযায়ী পাখি এখানে আসে। এখানে সরকার কিছু তৈরি করলে আমাদের এলাকার উন্নতি হবে।
বহরমপুরের খাগড়ার বাসিন্দা প্রলয় মজুমদার বলেন, বহরমপুর শহর লাগোয়া ওই এলাকায় যদি একটি চিড়িয়াখানা হয় তাহলে অবসর কাটানোর জন্য আমরা যেতে পারব। এমনিতেই শহরের আশেপাশে ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র ছাড়া ঘুরতে যাওয়ার পার্কের সংখ্যা কম। সপ্তাহ শেষে পরিবারের সঙ্গে কোথাও ঘুরতে যেতে পারি না। পাশেই যদি চিড়িয়াখানা গড়ে ওঠে, তাহলে এর থেকে আর ভালো কী হবে? 
বেলডাঙার বাসিন্দা প্রভাত ঘোষ বলেন, আমরা সার্বিকভাবে জেলার উন্নতি চাই। এখানে জুওলজিক্যাল পার্ক তৈরি হলে পার্শ্ববর্তী জেলার পর্যটকরাও এখানে এসে উপভোগ করতে পারবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ