Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চড়া দামে বীজ কিনে চাষ, রসুনের দাম না মেলায় মাথায় হাত মুর্শিদাবাদের চাষিদের

গত বছর আকাশ ছুঁয়েছিল রসুনের দাম। মহার্ঘ রসুন বাঁচাতে রীতিমতো মাঠ পাহারা দিতে হয়েছিল কৃষকদের।

চড়া দামে বীজ কিনে চাষ, রসুনের দাম না মেলায় মাথায় হাত মুর্শিদাবাদের চাষিদের
  • ৩০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: গত বছর আকাশ ছুঁয়েছিল রসুনের দাম। মহার্ঘ রসুন বাঁচাতে রীতিমতো মাঠ পাহারা দিতে হয়েছিল কৃষকদের। মাত্র এক সিজিনেই রসুনের বাড়তি দামের কারণে ফুলেফেঁপে উঠেছিল রসুনের কারবারিরা। এবারও বাড়তি দাম পাওয়ার আশায় অনেকেই বেশি দাম দিয়ে বীজ কিনে চাষ করেছিলেন রসুনের। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু যে দামে বীজ কিনে রসুন চাষ করেছিলেন, সেই দামের দশ শতাংশও বাজারে মিলছে না। ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন রসুন চাষিরা।

Advertisement

প্রসঙ্গত, মশলা ফসল ও ওষধি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় সারাবছরই রসুনের চাহিদা থাকে। চাহিদা থাকলেও মুর্শিদাবাদে রসুনের চাষ তুলনামূলক কম হয়। তবে গত বছর বাড়তি দাম মেলায় এবারে অনেকেই অন্যান্য ফসল ছেড়ে রসুন চাষে ঝুঁকেছিলেন। গতবছর জমির কাঁচা রসুনই কুইন্টাল প্রতি প্রায় ৭ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর শুকনো অবস্থায় তার দাম ৩০ হাজার ছাড়িয়েছিল। রসুনের বাড়তি দাম দেখে যাঁরা গতবছর রসুন চাষ করেননি, তাঁরাও মরসুমের শুরুতেই ধান কেটে রসুন রোপণ করেছিলেন। ডোমকল মহকুমার সবক’টি ব্লকের বিভিন্ন মাঠে গমের পাশপাশি রসুন চাষে উৎসাহ দেখাচ্ছে কৃষকরা। সাগরপাড়া ও রানিনগর ছাড়াও ডোমকল মহকুমার প্রতিটি ব্লকেই এবারে রসুন চাষে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন চাষিরা। এবছর ফলনও ভালোই হয়েছে। তবে চাষিদের দাবি কাঙ্খিত দাম মিলছে না। যে দামে রসুন বীজ কিনেছিলেন তাঁরা, তার দশ শতাংশ দামও পাওয়া যাচ্ছে না। চাষিদের আরও দাবি, গতবছর যেখানে ৩০ হাজার টাকা কুইন্টাল দাম হাঁকিয়েছিল শুকনো রসুন, সেখানে এ বছর কুইন্টাল প্রতি কাঁচা রসুনের দাম ৩ হাজার টাকাও মিলছে না। 
রানিনগরের চাষি ইয়াসিন মণ্ডল বলেন, গত বছরের দাম দেখে এবারে মাঠের পর মাঠ জুড়ে অনেকেই রসুন চাষ করেছে। কিন্তু যে দামে রসুন বীজ কিনেছিলাম এ বছর তার ধারেকাছেও নেই রসুনের দাম। সাগরপাড়ার কৃষক কুতুবউদ্দিন শেখ বলেন, আমাদের সীতানগরে বরাবরই রসুন চাষ হয়ে থাকে। গতবার ভালোই দাম পেয়েছিলাম। এবারও প্রায় তিন  বিঘা জমিতে রসুন চাষ করেছিলাম। তবে এবছর রসুনের দাম দেখে চিন্তা হচ্ছে। ইসলামপুরের শাহিন শেখ নামের এক রসুন বিক্রেতা বলেন, পাইকারি বাজারে রসুনের দাম কুইন্টাল প্রতি তিন হাজার টাকারও কম। আর খুচরো বাজারে ওই দাম বেড়ে হচ্ছে ৫ হাজার টাকা কুইন্টাল। এবছর রসুনের দাম সেভাবে নেই বললেই চলে। জেলা উদ্যান পালন দপ্তরের আধিকারিক প্রিয়রঞ্জন সন্নিগ্রাহী বলেন, এখন যেহেতু কাঁচা রসুন উঠছে স্বাভাবিকভাবেই দামটা কম রয়েছে। তবে চাষিরা রসুন স্টক করে রাখলে পরবর্তীতে ভালো দাম পেতে পারেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ