অবন ঠাকুরের বাসভবন ভাঙার কাজ আবার বন্ধ করল পুরসভা
  • ৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: শান্তিনিকেতনের অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্মৃতি বিজড়িত আবাস বাড়ি ভাঙার কাজ ফের সোমবার বন্ধ করল বোলপুর পুরসভা। এটি ভাঙার খবর সামনে আসে গত ফেব্রুয়ারিতে। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বংশধর অয়নেন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার এক প্রোমোটারকে জমিসহ ওই বাড়ি বেচে দেন। এরপরই সেখানে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বানানোর উদ্যোগ শুরু হয়। বাড়িটি ধূলিস্যাৎ হওয়ায় মর্মাহত অবনীন্দ্রনাথের নাতনি ধীরা ঠাকুর মজুমদার। তিনি বলেন, বাড়িটি বিক্রির আগে বিশ্বভারতীকে জানালে হেরিটেজটি রক্ষা পেত। অবশ্য বিশ্বভারতী এমন কোনও প্রস্তাব পায়নি বলেই জানিয়েছে। পুরসভা ও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে যাওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, অবনীন্দ্রনাথের জীবদ্দশাতেই আবাস বাড়িটি তৈরি। এখানে তাঁর কিছুকাল কেটেছে। তাঁরই নামে এলাকার নাম অবনপল্লি। পরবর্তীকালে অলকেন্দ্রনাথের পুত্র অমিতেন্দ্রনাথ ঠাকুরও এই বাড়িতে ছিলেন। বাড়ির বর্তমান মালিক অমিতেন্দ্রনাথের পুত্র অয়নেন্দ্রনাথ। এই বিষয়ে শান্তিনিকেতনের প্রাক্তনী ও আশ্রমিকদের ক্ষোভ গোচরে আসতেই জেলাশাসক বিধান রায় আগেই তদন্তের নির্দেশ দেন। তখনই গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয় পুরসভা। কিন্তু তার তিনমাস পর ফের রবিবার বাড়িটি জেসিবি মেশিন দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়! দুঃসংবাদ মিডিয়া মারফত পেয়ে এদিন পুর চেয়ারপার্সন পর্ণা ঘোষের নির্দেশে ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের চার আধিকারিক সেখানে যান এবং কাজ বন্ধ করে দেন। সব মিলিয়ে ইতিমধ্যেই যা ঘটে গিয়েছে তাতে শান্তিনিকেতনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অপূরণীয় ক্ষতি। মনে করছেন আশ্রমিক অপর্ণা দাস মহাপাত্র ও পাঠভবনের প্রাক্তন শিক্ষক কিশোর ভট্টাচার্য। ‌
ভাইপোর তরফে ‌বাড়ি বিক্রি প্রসঙ্গে ধীরাদেবী বলেন, বাড়িটি কেনার ব্যাপারে বিশ্বভারতীকে জানালে আমি নিশ্চিত যে তারা ইতিবাচক ভূমিকাই নিত। বিষয়টিতে সহমত হয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, ঠাকুরবাড়ির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন অবনীন্দ্রনাথ। তাঁর আবাস বাড়ি শান্তিনিকেতনের অন্যতম হেরিটেজ। বাড়িটি কেনার জন্য তাঁর বংশধররা আমাদের কাছে আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ অবশ্যই ভাবনাচিন্তা করত।