সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: নিজেদের আয় বাড়াতে খেয়ালখুশি মতো নাগরিকদের উপর ‘কর’ চাপানোর অভিযোগ ইদানীং রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভাগুলির বিরুদ্ধে উঠছে। উন্নয়নকে ‘শিখণ্ডী’ করে স্থানীয় স্তরে কখনও সাফাইয়ের কাজ, কখনও মিউটেশন, আবার কখনও জল সরবরাহের নামে কর চাপানো হচ্ছে। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের কোচবিহার পুরসভার বিরুদ্ধেও এক অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষের খবর পৌঁছেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কানে।
উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক সদর উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠকের মঞ্চ থেকে এ বিষয়ে বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ— ‘খেয়ালখুশি মতো কর চাপাতে পারবে না পুরসভাগুলি। যেমন খুশি ট্যাক্স বাড়ানো যাবে না। অনলাইনে সব ধরনের ট্যাক্স দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তারপর আবার ট্যাক্স!’ পুরকর্তাদের জন্য অসন্তুষ্ট মমতার বার্তা— ‘শুধুমাত্র ট্যাক্স বাড়ানো কারও কাজ নয়। নিজেদের গাড়ি চড়ার জন্য এটা করবেন, হতে পারে না। বরং জঞ্জাল প্রক্রিয়াকরণ করে ব্যবসা হতে পারে। সেই টাকায় উন্নয়ন করুন।’ রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের হুঁশিয়ারি—‘আপনারা (পুরসভাগুলি) স্বশাসিত বলে যা ইচ্ছে করবেন, হতে পারে না। সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনওরকম ট্যাক্স বাড়ানো যাবে না।’ এই পর্বে শুধু পুরসভাগুলি নয়, মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় ছিল গ্রাম পঞ্চায়েতও। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পঞ্চায়েতগুলি অবাধে বাড়ি, দোকান করে নেওয়ার অনুমতি দিচ্ছে। আগুন নেভানোর ব্যবস্থা থাকছে না। দমকল ঢুকতে পারছে না। এজন্য একটা সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন করে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই তা মানছে না। পঞ্চায়েতের পাশাপাশি বিডিওরা বিষয়টি লক্ষ্য রাখবেন।’
পহেলগাঁও উত্তরপর্বে পাকিস্তানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ভারতের প্রত্যাঘাত ‘অপারেশন সিন্দুর’কে সর্বান্তকরণে সমর্থন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভারতীয় সেনার কৃতিত্বকে কুর্নিশও জানিয়েছেন মমতা। সীমান্ত রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে তাই অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে আরও জোরদার করতে চান তিনি। এদিনের বৈঠকে পুলিস-প্রশাসনকে মমতার পরামর্শ—‘এখানকার সীমান্তগুলি খুবই স্পর্শকাতর। তাই পুলিস-প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। ঝাড়গ্রাম, মালদহ এবং কলকাতায় তথ্য হাতাতে আসা কিছু লোক ধরা পড়েছে। প্যান কার্ড, আধার কার্ড সহ নানা তথ্য নিয়ে চলে যাচ্ছে। তাই বি অ্যালার্ট। বাইরে থেকে এসে কোনও জঙ্গি যেন এখানে আশ্রয় নিতে না পারে। বিএসএফের দায়িত্বে বর্ডার। তা বলে আইসি, ওসিরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন, তা হতে পারে না। নজরদারি এবং টহলদারি আরও বাড়াতে হবে।’