নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দেশের পুরসভা ও কর্পোরেশনগুলির জন্য আগামী ৫ বছরের জন্য অন্তত ৪ লক্ষ কোটি টাকা অনুদানের ব্যবস্থা করতে হবে। ষোড়শ অর্থ কমিশনের তরফে এমনটাই জানানো হয়েছে কেন্দ্রকে। উল্লেখ্য, আজ পর্যন্ত এই পরিমাণ বিপুল অঙ্কের অনুদান দেশের পুরসভাগুলির জন্য বরাদ্দ করতে হয়নি কেন্দ্রকে।দেশের পুরসভাগুলিই নগরোন্নয়নের কাঠামো নির্মাণের প্রধান কারিগর। কিন্তু দেখা গিয়েছে, বছরভর সবথেকে বেশি অর্থসঙ্কটে ভোগে তারাই। তার জন্য শুধুই রাজ্য সরকারগুলিকে দোষারোপ করলে হবে না বলে মনে করছে অর্থ কমিশন।
এবারের বাজেটে নানাবিধ প্রকল্প ঘোষণা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু নগর নির্মাণ ও পরিচালনার প্রধান চালিকাশক্তি যে পুরসভাগুলি, তাদের আর্থিক সংস্থান নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার নির্দিষ্ট নীতিগ্রহণ করেনি। প্রকল্প অনুযায়ী শুধু কিছু কিছু অনুদান বরাদ্দ করা থাকে। আর তার মধ্যেও যুক্ত করা হয় নানাবিধ শর্তাবলী। যদি কোনো পুরসভা সেই শর্ত পূরণ করতে না পারে, তাহলে তারা পিছিয়ে পড়ে। আর তাই ষোড়শ অর্থ কমিশন নির্দিষ্ট করে চার রকম অনুদানের কথা বলেছে—বেসিক গ্র্যান্ট, পারফরম্যান্স ভিত্তিক, স্পেশাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং আরবানাইজেশন প্রিমিয়াম। এর মধ্যে প্রাথমিক (বেসিক) পরিষেবার জন্য সবথেকে বেশি বরাদ্দ করতে বলা হয়েছে কেন্দ্রকে। প্রায় আড়াই লক্ষ কোটি টাকা।
পঞ্চদশ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৫, এই পাঁচ বছরের বরাদ্দ প্রস্তাব ছিল দেড় লক্ষ কোটি টাকা। এবারে তা বাড়িয়ে প্রায় ৪ লক্ষ কোটি টাকা করার কথা বলা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হল, কেন্দ্রীয় সরকার এই সুপারিশ সম্পূর্ণ গ্রহণ করবে কি না। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পুরসভার কেন্দ্রীয় বরাদ্দ পেতে হলে একঝাঁক সংস্কার তথা শর্ত পালন করতে হবে বলে আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্র। যারা সেই শর্ত পূরণ করতে রাজি হবে, তারাই অনুদান পাবে। এবার ষোড়শ অর্থ কমিশনের প্রস্তাবের জেরে পুরসভাগুলির ভাগ্যে অধিক বরাদ্দ জুটবে কি না, আপাতত
সেটাই দেখার।