Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জয়চণ্ডী পাহাড়ে ওঠার সিঁড়ির দু’পাশে স্টিলের রেলিং বসাতে উদ্যোগী সাংসদ

পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুর মহকুমা এলাকার জয়চণ্ডী পাহাড়কে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।

জয়চণ্ডী পাহাড়ে ওঠার সিঁড়ির দু’পাশে  স্টিলের রেলিং বসাতে উদ্যোগী সাংসদ
  • ৭ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুর মহকুমা এলাকার জয়চণ্ডী পাহাড়কে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। সেই পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়নে বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী এগিয়ে এসেছেন। জয়চণ্ডী পাহাড়ে ওঠার সিঁড়ির দুই পাশে স্টিলের রেলিং তৈরির জন্য তিনি সক্রিয় হয়েছেন। সেই কাজ দ্রুত হবে বলে জানানো হয়েছে। পাহাড়ে ওঠার রেলিং তৈরি হলে এলাকার মানুষের সুবিধা হবে। ফলে সংসদের কাজে এলাকার বাসিন্দারা সাধুবাদ জানিয়েছে।

Advertisement

অরূপবাবু জানিয়েছেন, জয়চণ্ডী পর্যটন উৎসবে গিয়ে বেশ কয়েকটি সমস্যার কথা শুনেছিলাম। পাহাড়ে ওঠার জন্য সিঁড়ি থাকলেও দুই পাশে কোনও রেলিং নেই। তাই সেই কাজটি সাংসদ তহবিল থেকে করার জন্য সক্রিয় হয়। সিঁড়ির দুই পাশের রেলিং করার জন্য ২৫ লক্ষ টাকা সাংসদ তহবিল থেকে দেওয়া হয়েছে। জয়চণ্ডী পাহাড় পর্যটন উৎসব হলেও এখনও পর্যন্ত সরকারি স্বীকৃতি মেলেনি। সেই স্বীকৃতির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে পাহাড়ে যাওয়ার স্থায়ী রাস্তা নেই। কিছু জমিজট সমস্যা রয়েছে। সেগুলি মিটিয়ে ফেলার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়চণ্ডী পাহাড়কে কেন্দ্র করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। এক সময় ‘হীরক রাজার দেশে’ সিনেমার শ্যুটিং হওয়ায় পাহাড়কে ঘিরে পর্যটকদের আকর্ষণ বেড়েছে। সেই পাহাড়কে কেন্দ্র করে বাম আমলে প্রয়াত সাংসদ বাসুদেব আচারিয়ার হাত ধরে বেসরকারি উদ্যোগে পর্যটন উৎসবের সূচনা হয়েছিল। সেই থেকে প্রতি বছর ২৮ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত পাঁচদিনের পর্যটন উৎসব হয়। তবে এবছর থেকে মেলা একদিন বাড়ানো হয়েছে। পর্যটন উৎসব হলেও ওই এলাকায় প্রচুর সমস্যা রয়েছে। চলতি বছরের ১৯তম পর্যটন উৎসবে বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী এসেছিলেন। তিনি শুনেছিলেন বিভিন্ন সমস্যার কথা। তখনই তিনি কথা দিয়েছিলেন পাহাড়ে ওঠার জন্য সিঁড়ির দুই পাশে স্টিলের রেলিং তৈরি করবেন।
এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, জয়চণ্ডী পাহাড়ের উপরে একটি মন্দির রয়েছে। পাহাড়ে ওঠার জন্য প্রায় ৫৫০টি সিঁড়ি রয়েছে। কিন্তু সিঁড়ি থাকলেও দুই সাইডে ধরার জন্য রেলিংয়ের ব্যবস্থা নেই। ফলে অনেকের ইচ্ছা থাকলেও পাহাড়ে চড়তে পারেন না। সমস্যাটি জেনে সাংসদ সমস্যা মেটাতে সক্রিয় হন। বর্তমানে পুরুলিয়ার পর্যটন কেন্দ্রগুলির প্রতি আকর্ষণ বেড়েছে। পরিসংখ্যান অনুসারে, প্রতি বছর ছয় লক্ষের বেশি পর্যটক পুরুলিয়া ঘুরতে আসেন। রাজ্য সরকার তা বাড়িয়ে আগামী দিন ১০ লক্ষে পৌঁছনোর চিন্তাভাবনা করেছে। তার জন্য বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রকে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যটন উৎসব কমিটির সম্পাদক তথা রঘুনাথপুর পুরসভার চেয়ারম্যান তরণী বাউরি বলেন, সিঁড়ির দুপাশে রেলিং হলে অবশ্যই ভালো হবে। কাজটি হলে পর্যটন কেন্দ্রের গুরুত্ব বাড়বে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ