সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: দলবেঁধে খাবারের সন্ধানে এসে বাড়ির নীচতলায় থাকা গোয়ালঘরে ঢুকে আটকে পড়ল হস্তীশাবক। আর সেই শাবককে উদ্ধার করতে গিয়ে গোয়ালঘর সহ বাড়ির একাংশ ভেঙে তছনছ করে দিল মা হাতি। ডুয়ার্সের নাগরাকাটা ব্লকের বামনডাঙা তন্ডু চা বাগানের তন্ডু গোঠ লাইনের ঘটনা। রবিবার রাত ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত গোঠ লাইনে ছিল আটটি হাতির দল। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রায় ছ’শো সুপারি গাছ ভেঙে দিয়ে যায় হাতির পালটি।
গত মাসেই হাতির পাল মালবাজারের নেপুচাপুরে চা বাগান পারাপার হওয়ার সময় বাগানের নালায় একটি হস্তীশাবক পড়ে যায়। অনেক চেষ্টা করেও শাবকটিকে নালা থেকে টেনে তুলতে পারেনি মা হাতি। পরে শাবকটি নালাতেই মারা যায়। এবারে গোঠ লাইনে মা হাতি কোনও ঝুঁকি নেয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা ঈশ্বর সাহুর কাঠে দোতলা বাড়ির নীচের তলায় তক্তা ও টিন দিয়ে ঘেরা গোয়ালঘর। হাতির পালে থাকা একটি হস্তীশাবক ঈশ্বর সাহুর গোয়ালঘরে ঢুকে পড়ে আটকে যায়। বের হতে না পেরে শাবকটি চিৎকার জুড়ে দেয়। শাবকের চিৎকারে দিশেহারা অবস্থা হয় মা হাতির। বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে ভিতরে ঢুকে টিন ও তক্তা দিয়ে ঘেরা গোয়াল ঘর গুঁড়িয়ে দিয়ে শাবককে উদ্ধার করে নিয়ে যায় হাতিটি, জানান ঈশ্বর সাহু।
তন্ডু গোঠ লাইনের বাসিন্দা ভগবান দাস বলেন, মাঝেমধ্যেই খেরকাটা ও গোরুমারার জঙ্গল থেকে হাতি, চিতাবাঘ গ্রামে চলে আসছে। গন্ডারও মাঝেমধ্যে চলে আসে। রাতে ঘণ্টা দেড়েক আটটি হাতি আমার সুপারি বাগানে ঢুকে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। বাগানের ২০০টি সুপারি গাছ ভেঙে দিয়েছে।
আরএক বাসিন্দা কেশব থাপা জানান, সুপারি গাছগুলি দুই-আড়াই ফুট হয়েছিল। ৪০০টি গাছ উপড়ে ফেলে দিয়েছে হাতির পাল। বিপুল ক্ষতি হল। বনকর্মীরা সোমবার সকালে এসে ক্ষতিগ্রস্ত সুপারি বাগান দেখে গিয়েছেন। ক্ষতিপূরণ পেলে খুব ভালো হবে।
হাতির পাল শুধু সুপারি বাগান নষ্ট করেনি। তন্ডু গোঠ লাইনের ৩৬৯ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের জানালা, দরজা ভেঙে দেয়। চাল, সব্জি খাওয়ার জন্য হামলা চালিয়েছিল বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা সাগর সাহু।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাতির পাল যখন গ্রামে এসেছিল তখন প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। বিদ্যুৎও ছিল না। ফলে সার্চ লাইট জ্বালিয়ে নিজেরাই পটকা ফাটিয়ে, চিৎকার চেঁচামেচি করে হাতির পালকে খেরকাটা জঙ্গলের দিকে তাড়িয়ে দেন গ্রামবাসীরা।
জলপাইগুড়ি বনবিভাগের ডিএফও বিকাশ ভি জানান, খেরকাটা থেকে বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট সংগ্রহ করে দপ্তরে পাঠাবেন। তারপর কীভাবে সাহায্য করা যায় তা বিবেচনা করা হবে। নিজস্ব চিত্র।