Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

বায়ুসেনার এয়ারস্ট্রিপ বেচে দেন প্রতারক মা ও ছেলে! দীর্ঘ ২৮ বছর পর তদন্তে পাঞ্জাব পুলিস

পাঞ্জাবের ফিরোজপুরে অবস্থিত ভারতীয় বায়ুসেনা ঘাঁটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি তৈরি করেছিল ব্রিটিশরা। স্বাধীনতার পর তিন-তিনটি যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল পাকিস্তান সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই এয়ারস্ট্রিপটি।

বায়ুসেনার এয়ারস্ট্রিপ বেচে দেন প্রতারক মা ও ছেলে!   দীর্ঘ ২৮ বছর পর তদন্তে পাঞ্জাব পুলিস
  • ২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ফিরোজপুর (পাঞ্জাব): পাঞ্জাবের ফিরোজপুরে অবস্থিত ভারতীয় বায়ুসেনা ঘাঁটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি তৈরি করেছিল ব্রিটিশরা। স্বাধীনতার পর তিন-তিনটি যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল পাকিস্তান সীমান্তের কাছে অবস্থিত এই এয়ারস্ট্রিপটি। কিন্তু প্রতিরক্ষা বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে সেই সরকারি জমিই বেমালুম লোপাট করে বিক্রি! আর এই প্রতারণার নেপথ্যে মা-ছেলে জুটি। ২৮ বছর পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। নথি জাল করে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সম্পত্তি বিক্রির অভিযোগে প্রতারক মা ও ছেলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। তদন্তে নেমেছে পাঞ্জাব পুলিস। 

Advertisement

পুলিস সূত্রে খবর, পাক সীমান্তবর্তী ফুট্টুওয়াল গ্রামে অবস্থিত এই বায়ুসেনা ঘাঁটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৈরি এই এয়ারস্ট্রিপ ১৯৬২ সালে ভারত-পাক, ১৯৬৫ সালের চীন-ভারত ও ১৯৭১ সালে ভারত-পাক যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। অভিযোগ, রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগসাজশে সরকারি নথি জাল করে এই বিমান ঘাঁটি বিক্রি করে দেন ঊষা আনসাল ও তাঁর পুত্র নবীন চাঁদ। ১৯৯৭ সালে জালিয়াতির এই ঘটনা ঘটে।
এক মামলার প্রেক্ষিতে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট সম্প্রতি পাঞ্জাবের ভিজিলেন্স ব্যুরোর প্রধানকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। গত ২০ জুন প্রতারণা ও জালিয়াতি সহ একাধিক ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজ শুরু করেছে পাঞ্জাব পুলিসের এক টিম। প্রাথমিক তদন্তে ভিজিল্যান্স ব্যুরো জানিয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৫ সালের ১২ মার্চ এই জমি কিনেছিল তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। স্বাধীনতার পর জমিটি ভারতীয় বায়ুসেনার অধীনে চলে আসে। পরে নথি জালিয়াতি করে সেই জমি নিজেদের নামে করেন ঊষা ও তাঁর পুত্র নবীন। এরপর তাঁরা এই জমি বিক্রি করে দেন। জানা যাচ্ছে, বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছিল অনেক আগেই। রাজস্ব বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী নিশান সিং অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। ২০২১ সালে তিনি ফিরোজপুরের ডেপুটি কমিশনারকে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের অনুরোধ করেন। সরকারের তরফে কোনও হেলদোল নেই দেখে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন নিশান। ১৯৯৭ সালে এই জমির বিক্রয় দলিলে জমির মালিক হিসেবে একাধিক জনের নাম ছিল। অথচ বায়ুসেনার কাছে এ বিষয়ে কোনও খবর ছিল না। এই ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, এমন ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড়সড় বিপদ। ফিরোজপুরের ডেপুটি কমিশনারকেও ভর্ৎসনা করেছে হাইকোর্ট। ৪ সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ