নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সফরে আসছেন। তাই তৃণমূলের অন্দরেও প্রস্তুতি তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সমাগম হবে দাবি জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের। শুক্রবার জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব বিশেষ বৈঠকে বসে। উপস্থিত ছিলেন মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা, জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি, জেলা সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ রফিক, বিধায়ক দীনেন রায় সহ দলীয় নেতৃত্ব। বৈঠকে মূলত মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো নিয়ে আলোচনা হয়। তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছে, দলের সমস্ত স্তরের কর্মীকে ময়দানে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেদিনীপুর শহর দলীয় পতাকায় মুড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেতৃত্ব।
জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী আমাদের সকলের অভিভাবক। দলের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি ৫০হাজারের বেশি মানুষ উপস্থিত হবেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার জন্য সকলেই অপেক্ষা করে রয়েছি।
প্রসঙ্গত, জঙ্গলমহল জুড়ে মুখ্যমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। যা গত কয়েকটি নির্বাচনের ফলাফলেই স্পষ্ট। একদিকে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ। শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকার রাস্তা, পানীয় জল, নিকাশি সমস্যার সমাধান হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে ভোটবাক্সে। তবে লোকসভা ভোটের পর ফের আগামী সোমবার, ২১এপ্রিল জেলায় আসছেন তৃণমূলের সুপ্রিমো। দলের নেতা-কর্মীরা জানাচ্ছেন, লোকসভা ভোটের পর বড় আকারে কোনও দলীয় কর্মসূচি হয়নি। তাই দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অনেকেই জনসংযোগ একেবারে বন্ধ করে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী সরকারি অনুষ্ঠানে এলেও দলীয় নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন নির্দেশ দিতে পারেন। সেই নির্দেশ অনুসারেই নতুন উদ্যমে ভোটের ময়দানে নামবেন নেতা-কর্মীরা।
এক তৃণমূল নেতা বলেন, শালবনীতে পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রজেক্টের শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে। যা আগামী বিধানসভা ভোটের প্রচারে তুলে ধরা হবে। ২১ এপ্রিল রাতে সার্কিট হাউসে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তৃণমূল সুপ্রিমো জেলার প্রথম সারির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। সেই বৈঠকে সাংগঠনিক দুর্বলতার নানা দিক নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া মেদিনীপুরে কলেজ মাঠে প্রশাসনিক সভা রয়েছে।
জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ রফিক বলেন, শুধু কেশপুর থেকে কম করে দশ হাজার মানুষ আসবেন। দল সব দিক থেকে প্রস্তুত। দলের নেত্রী যা নির্দেশ দেবেন, সেই পথেই আমরা চলব। জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি বলেন, প্রশাসনিক দিক থেকেও আমরা প্রস্তুত। জেলা পরিষদের সকল জনপ্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।