Bartaman Logo
৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তিন মাসে হাওড়া সিটি পুলিসের সাইবার কিয়স্কে দায়ের দুশোরও বেশি অভিযোগ, আর্থিক প্রতারণা আড়াই কোটি টাকারও বেশি

একের পর এক নিত্যনতুন ও অভিনব কৌশলে সাধারণ মানুষকে সাইবার প্রতারণার জালে ফেলছে অপরাধীরা। হয় ভীতির কারণে, না হয় স্রেফ লোভে পড়েই ফাঁদে পা দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

তিন মাসে হাওড়া সিটি পুলিসের সাইবার কিয়স্কে দায়ের দুশোরও বেশি অভিযোগ, আর্থিক প্রতারণা আড়াই কোটি টাকারও বেশি
  • ১৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০

সুদীপ্ত কুণ্ডু, হাওড়া: একের পর এক নিত্যনতুন ও অভিনব কৌশলে সাধারণ মানুষকে সাইবার প্রতারণার জালে ফেলছে অপরাধীরা। হয় ভীতির কারণে, না হয় স্রেফ লোভে পড়েই ফাঁদে পা দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। হাওড়া শহরে সাইবার অপরাধের ঘটনা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে গত তিন মাস আগে সাইবার হেল্প কিয়স্ক চালু করেছিল সিটি পলিস। দেখা গিয়েছে, সেখানে দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে গত তিন মাসে আড়াই কোটি টাকারও বেশি খুইয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন সাধারণ মানুষ। অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ইতিমধ্যেই ৫০ লক্ষ টাকারও বেশি প্রতারিতদের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরেছে পুলিস।

Advertisement

আর্থিক প্রতারণা, সাইবার প্রতারণা ও যেকোনও ধরনের সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ যাতে দ্রুত সাধারণ মানুষ জানাতে পারেন, সেই লক্ষ্যে গত মে মাসে হাওড়া সাইবার ক্রাইম থানায় তিনটি সাইবার হেল্প কিয়স্ক চালু করা হয়। সেখানে তিনটি হেল্পলাইন নম্বর ২৪ ঘন্টার জন্য চালু রয়েছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গত তিন মাসে দুশোরও বেশি অভিযোগ দায়ের হয়েছে সেখানে। প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে আড়াই কোটি টাকারও বেশি খুইয়েছেন প্রতারিতরা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডিজিটাল অ্যারেস্ট কিংবা অনলাইন লগ্নি সংক্রান্ত অপরাধ ঘটেছে। সাইবার অপরাধ ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিসের দ্বারস্থ হয়েছেন যাঁরা, তাঁদের অধিকাংশরই খোয়া যাওয়া টাকা ফিরিয়ে দিতে পেরেছে পুলিস। ইতিমধ্যেই ৫০ লক্ষ টাকারও বেশি উদ্ধার হয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তে নেমে দিল্লি, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান গুজরাতের মত রাজ্যগুলোতে অভিযান চালিয়েছেন গোয়েন্দারা। 

প্রসঙ্গত, গত জুলাই মাসেই ডিজিটাল অ্যারেস্ট ও অনলাইন বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রতারণা চক্রের ফাঁদে পড়ে ৬৭ লক্ষ টাকা খুইয়ে ফেলেন হাওড়ার দুই বাসিন্দা। এই দুই ঘটনায় পশ্চিম দিল্লির উত্তমনগর ও কানপুরের গোয়ালতলি থেকে দুই মূল চক্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, 'সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ যত দ্রুত অভিযোগ জানাবেন, টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি থাকে। অপরাধীদের ধরার ক্ষেত্রে গোল্ডেন আওয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'

সম্পর্কিত সংবাদ