নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্বাভাবিক সময়ের প্রায় ৮ দিন আগে বর্ষা ঢুকে পড়ল ভারতের দক্ষিণ অংশে। শনিবার কেরল দিয়ে দেশের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, ১৬ বছর আগে এত তড়িঘড়ি বর্ষা এসেছিল কেরলে। তবে শুধু কেরল নয়, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের মিজোরামের কিছু অংশেও শনিবারই বর্ষা ঢুকেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। আগামী দু’-তিনদিনের মধ্যে দেশের আরও কিছু অংশের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায়ও বর্ষা ঢুকে যেতে পারে। দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা কবে নাগাদ ঢুকবে, সরকারিভাবে তা এখনও জানানো হয়নি। তবে আবহাওয়াবিদরা আশা করছেন, দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার আগমন এবার অনেকটাই আগেভাগে ঘটতে পারে। কারণ, ২৭ মে নাগাদ উত্তর বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে চলেছে। ওই সময় বর্ষা উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করবে। তাই নিম্নচাপের ধাক্কায় দক্ষিণবঙ্গেও অনেক আগে মৌসুমি বায়ু চলে আসতে পারে। দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা শুরু হওয়ার স্বাভাবিক দিন ১০ জুন। উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে ৫ জুন। বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, স্বাভাবিক দিনের ৭ দিন আগে বা পরে বর্ষা এলেও স্বাভাবিক বলেই ধরা হয়। কিন্ত এবার ৭ দিনেরও আগে, মে মাসেই রাজ্যে বর্ষার আগমনের সম্ভাবনা আছে। ২০০৯ সালে মে মাসের শেষে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’ দক্ষিণবঙ্গের উপকূলে আছড়ে পড়েছিল। সেই ঘূর্ণিঝড়ে ভর করে রাজ্যে বর্ষা ঢুকে পড়েছিল। রাজ্যে ইতিমধ্যে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত আপাতত চলবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী সপ্তাহে (২৮-৩০ মে) দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। উপকূলবর্তী দুই ২৪ পরগনা, পুর্ব মেদিনীপুর ছাড়াও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এই তালিকায় আছে। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি ছাড়াও পূর্ব বর্ধমান ও হুগলিতে ৩০ মে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।



