


মুম্বই: শেখ হাসিনা পরবর্তী পর্বে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন বেড়ে চলেছে বাংলাদেশে। সেই অভিযোগ মাথায় নিয়েই তিনদিন পরে সাধারণ নির্বাচন প্রতিবেশী দেশে। তার আগে বাংলাদেশের হিন্দুদের পাশে থাকার বার্তা আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের। তাঁর সাফ কথা, ‘ক্রমবর্ধমান হিংসা এবং নিজেদের অধিকার নিয়ে বাংলাদেশের ১ কোটি ২৫ লক্ষ হিন্দু যদি লড়াই শুরু করেন, তাহলে বিশ্বের সকল প্রান্তের হিন্দুকে তাঁরা পাশে পাবেন।’ মুম্বইতে চলছে আরএসএসের দু’দিনের ‘ব্যাখ্যানমালা’। ‘১০০ ইয়ার্স অব সংঘ জার্নি: নিউ হরাইজনস’ নামে সেই লেকচার সিরিজের দ্বিতীয় দিনে নানা বিষয়ে মুখ খুলেছেন ভাগবত। তবে ওরলির নেহরু সেন্টারে সবচেয়ে নজর কেড়েছে তাঁর বাংলাদেশ সংক্রান্ত বক্তব্যই। এদিনের অনুষ্ঠানে দর্শক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নানা ক্ষেত্রের সফল পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিত্ব। ছিলেন অভিনেতা সলমন খান, রণবীর কাপুর, অক্ষয় কুমার, রবিনা ট্যান্ডন, অনন্যা পান্ডে। ছিলেন সংগীত পরিচালক প্রীতম, পরিচালক-প্রযোজক করণ জোহর প্রমুখ।
এদিন দেশের জনবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়েও সরব হয়েছেন সংঘ প্রধান। তাঁর কথায়, ‘আগের সরকারগুলি জনবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়ে কিছুই করেনি। জন্মহার এবং বেআইনি অনুপ্রবেশের জেরে এক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এসব রুখতে সরকার এখন তৎপরতা দেখাচ্ছে। এই উদ্যোগ সফল হবেই।’
এরইমধ্যে আরএসএসের অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত অক্টোবরে কর্ণাটকের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়ে ও প্রবীণ কংগ্রেস নেতা বি কে হরিপ্রসাদ এই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এব্যাপারে রবিবার ভাগবত বলেন, ‘মানুষ আরএসএএসের অর্থের উৎস নিয়ে জানতে চায়। কর্মীদের থেকে অর্থ নিই আমরা। কোথাও গেলে আমরা টিফিন নিয়ে যাই। হোটেল থেকে খাবার কিনি না। কর্মীদের বাড়িতেই আমরা থাকি। কোনো হোটেলে থাকি না।’
জাতপাত ও সংঘের নেতৃত্ব নিয়েও অবস্থান খোলসা করেছেন ভাগবত। এদিন তিনি আরও বলেন, যে কোনো জাতের মানুষই আরএসএসের প্রধান হতে পারেন। তাঁর কথায়, ‘তফসিলি জাতি বা উপজাতির মানুষ হওয়া কোনও অযোগ্যতা বা ব্রাহ্মণ হওয়া কোনো যোগ্যতা নয়। আমরা সব জাতপাতের মানুষ নিয়েই কাজ করি। যদিও ব্রাহ্মণদের নিয়েই এর পথচলা শুরু।’ মুসলিমদের সঙ্গে সংঘাত এড়ানোরও উপায় বাতলেছেন ভাগবত। তাঁর কথায়, ‘মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় কোনো উস্কানি মূলক কথা ভেসে এলেও উত্তর দেওয়া যাবে না। এভাবেই ঝামেলা এড়ানো যাবে।’
অবসরগ্রহণ সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়েও মুখ খুলেছেন ভাগবত। তিনি বলেছেন, সংগঠন তাঁকে কাজ চালিয়ে যেতে বলেছে। সংঘ নির্দেশ দিলেই পদ ছাড়বেন। ছবি: পিটিআই