সংবাদদাতা, সিউড়ি: ঘড়ির কাঁটা যে সময়ই দেখাক। সে শুনশান নিশুতি রাত হোক কিংবা ঠাঁটাপোড়া রোদের দুপুর। এলাকায় কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে অথবা কোনও প্রসুতির অবস্থার অবনতির খবর তাঁর কানে পৌঁছালেই হল। একেবারে দশভুজার মতো বিপদগ্রস্তের ত্রাতা হয়ে ওঠেন ‘আশা দিদি’ মনীষা অধিকারী। চোদ্দো বছর ধরে গ্রামের মানুষের জন্য ওষুধ পৌঁছানো থেকে শুরু করে রাতবিরেতে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কাজ করে আসছেন তিনি। মহম্মদবাজারের কুলিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে মনীষাই মসিহা। তাই তো এলাকার জন প্রতিনিধিরাও মনীষা অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমূখ।
মহম্মদবাজারের কুলিয়া গ্রামেই থাকেন মনীষাদেবী। ২০১১ সাল থেকে তিনি ওই এলাকায় আশাকর্মী হিসাবে কাজ করছেন। তাঁর কাজই তাঁকে এলাকায় ‘আশা দিদি’-র পরিচিতি দিয়েছে। পরিবারে রয়েছেন পাঁচ সদস্য। বাড়ির কাজের পাশাপাশি গ্রামবাসীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরিষেবা পৌছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য তাঁর।
এলাকা সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামবাসীদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনও সমস্যা হলেই তাঁরা চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে মনীষাকে ফোন করেন। বিশেষ করে প্রসূতি মা কিংবা শিশুদের সমস্যা হলে মায়ের মতোই তিনি ছুটে যান অকুস্থলে। মনীষাদেবী জানান, কয়েকদিন আগেই রাত তিনটে নাগাদ তাঁর কাছে ফোন আসে যে এক প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ছুটে যান ওই প্রসুতির বাড়ি। সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে সোজা হাসপাতালে। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ব্যবস্থা করেন চিকিৎসার। ওই আশা কর্মী জানান, প্রতিদিন অন্তত ১০ থেকে ১২ জন গ্রামবাসী তাঁকে ফোন করেন। কোনও দিন সেই সংখ্যা ৩০ পেরিয়ে যায়। মনীষাদেবীর কথায়, আমার কাজ মানুষকে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। আমি সেটাই করি। আমি কেবল আমার কর্তব্য পালন করছি।
এই নিয়ে মহম্মদবাজার পঞ্চায়েতের প্রধান উমা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সত্যিই তিনি গ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়ান। এলাকাবাসীর কাছে তিনি খুবই জনপ্রিয়। বিশেষ করে তাঁর পরিষেবা ২৪ ঘণ্টাই পাওয়া যায়। অন্যদিকে, মহম্মদবাজারের ব্লক ২ তৃণমূল সভাপতি তাপস সিনহার কথায়, খুবই ভালো কাজ করছেন উনি। ওঁর কাজ প্রশংসনীয়। -নিজস্ব চিত্র