নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পদপিষ্ট হয়ে আটজন জখম হওয়ার পর বর্ধমান স্টেশনে রেলের আধিকারিকদের তৎপরতা তুঙ্গে। সোমবার সকাল থেকে হাওড়া ডিভিশনের ডিআরএম সহ শীর্ষ আধিকারিকরা স্টেশনে আসেন। ফুটওভারব্রিজের উপর আরপিএফ সক্রিয় ছিল। বাঁশি বাজিয়ে তাঁরা যাত্রীদের এগিয়ে দিচ্ছেন। কোথাও ভিড় জমতে দিচ্ছেন না। নিত্যযাত্রীরা বলছেন, এটা পুরনো চিত্রনাট্য। এর আগেও যতবার দুর্ঘটনা ঘটেছে, রেলের আধিকারিকরা সাময়িকভাবে কয়েকদিনের জন্য এভাবেই সক্রিয় থেকেছেন। তারপর আবার বর্ধমান স্টেশন পুরনো ছন্দে ফিরেছে। সঙ্কীর্ণ সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার সময় ধাক্কাধাক্কি নিত্যদিনের ঘটনা। শারীরিকভাবে কেউ দুর্বল হলে লুটিয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক। স্টেশনে চলমান সিঁড়ি রয়েছে। কিন্তু, তা বেশিরভাগ দিনই বন্ধ থাকে। বন্ধ থাকা চলমান সিঁড়ি দিয়ে যাত্রীরা হেঁটে ওঠানামা করছেন। অনেকেই বলছেন, আগামী দিনে বর্ধমান স্টেশনে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
নিত্যযাত্রী শম্ভু দাস বলেন, সকাল এবং বিকেলের দিকটা বর্ধমান স্টেশন আতঙ্কের কারণ হয়ে ওঠে। কোন ট্রেন, কোন প্ল্যাটফর্মে আসছে, তা আগে থেকে ঘোষণা করা হয় না। শেষ মুহূর্তে ঘোষণা হওয়ায় হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। অনেক সময় আপ লোকালকেই ডাউন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তার ফলে একদিকে ট্রেন থেকে যাত্রীরা নেমে ফুটওভারব্রিজে উঠতে থাকেন। অন্যদিকে ট্রেন ধরার জন্য যাত্রীরা ওই প্ল্যাটফর্মের দিকে ছুটতে থাকেন। সন্ধ্যার দিকে আপ এবং ডাউনে যাত্রীসংখ্যা বেশি থাকে। সেই সময় সমস্যা বেশি হয়। কোন প্ল্যাটফর্মে ট্রেন আসবে, তা আগাম জানতে না পারায় যাত্রীরা ওভারব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে থাকেন। তাতে যাতায়াতের সমস্যা আরও বেড়ে যায়।
নিত্যযাত্রী সন্দীপন সরকার বলেন, অনেক সময় ঘোষক কী ঘোষণা করছেন, তা বোঝা যায় না। কথা এমন জড়িয়ে বলা হয় যা বুঝতে অনেকটা সময় চলে যায়। প্ল্যাটফর্মে ট্রেন ঢোকার মুহূর্তে ঘোষণা করা হয়। ছোট সিঁড়ি দিয়ে ভিড়ের মধ্যে ওঠানামা করার সময় দুর্ঘটনা হয়। রবিবার রাতে একসঙ্গে আটজন জখম হওয়ায় বিষয়টি সামনে এসেছে। এরকম ছোটখাট ঘোষণা হামেশাই হয়। অনেকেই জখম হয়ে গন্তব্যে পৌঁছন। ওভারব্রিজে আরপিএফের সেই তৎপরতা থাকে না।
এদিন কংগ্রেস পরিকাঠামো উন্নতির দাবিতে স্টেশন মাস্টারের কাছে স্মারকলিপি দেয়। কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার বলেন, শুধু মডেল স্টেশন ঘোষণা করলেই হবে না, পরিকাঠামো উন্নত করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। ট্রেন ছাড়ার ৩০মিনিট আগে স্পষ্ট বাংলায় ঘোষণা করতে হবে। এই স্টেশনে যাত্রীসংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গিয়েছে। ফুটওভারব্রিজ ছাড়াও বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে এধরনের দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে। যাত্রীরা বলেন, রবিবার সন্ধ্যায় ৪নম্বর প্ল্যাটফর্মে আপ লোকাল ঢোকে। তখনই ওই ট্রেনটিকেই আবার ডাউন লোকাল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। দু’দিক থেকে যাত্রীরা আসতে থাকেন। ধাক্কাধাক্কিতে অনেকেই পড়ে যান। তাঁদের মধ্যে আটজন পদপিষ্ট হয়েছেন। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা করানো হয়। বর্ধমান স্টেশনে পুলিশের তৎপরতা।-নিজস্ব চিত্র