নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: দিনে মক ড্রিল। রাতে ব্ল্যাক আউট। পহেলগাঁওয়ে পাক জঙ্গি হামলার প্রত্যাঘাতে বিশেষ অভিযান ‘অপারেশ সিন্দুর’-এর পরই বুধবার এমন কর্মসূচি পালিত হয়েছে উত্তরবঙ্গের জেলায় জেলায়। কোথাও এসএসবি, কোথাও আরপিএফ, আবার কোথাও এনসিসি মক ড্রিল করে। বিপদকালীন পরিস্থিতিতে নিজেদের রক্ষা করা এবং পরবর্তীতে বিপদগ্রস্তদের উদ্ধারের কৌশল মক ড্রিলে দেখানো হয়েছে। রাতে আলো নিভিয়ে করা হয়েছে ব্ল্যাক আউট।
এদিন গোটা দেশের পাশাপাশি ‘চিকেন নেক’ শিলিগুড়িতেও মক ড্রিল করে এসএসবি। তারা মাটিগাড়ায় কলমজোতের আলফান্সা স্কুলে এই শিবির করে। সেখানে ছাত্রছাত্রীদের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার কৌশল বোঝানো হয়। আচমকা সেখানে একটি অস্থায়ী কাঠামোয় আগুন লাগানো হয়। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এলাকা। বাজানো হয় সাইরেন। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছন জওয়ানরা। তাঁরা আগুন নেভান। আহতদের উদ্ধারের পাশাপাশি ‘প্রাথমিক চিকিৎসা’ করেন।
এদিন শিলিগুড়ি কলেজেও মক ড্রিল করে এসসিসি। কলেজের এনসিসি’র কয়েকজন সদস্য বলেন, যুদ্ধের সময় সাইরেন বাজলে ঘরের মধ্যে নিরাপদ জায়গায় থাকতে হবে। আর ফাঁকা মাঠে থাকলে কানে হাত দিয়ে মাটিতে শুয়ে পড়তে হবে। রাস্তায় থাকলে কালভার্টের নীচে যেতে হবে। এরবাইরে বিপর্যয়ের পর হাত দিয়ে স্ট্রেচার বানিয়ে আহতদের উদ্ধার করা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের কৌশল শেখানো হয়েছে। এমন শিবির এদিন শালুগাড়ার আরএকটি স্কুলে হয়েছে।
এদিন সন্ধ্যায় জলপাইগুড়ি স্টেশনে করা হয় ব্ল্যাক আউট। সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৭টা ১০ মিনিট পর্যন্ত নিভিয়ে দেওয়া হয় স্টেশনের সমস্ত আলো। সেই সময় যাতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেব্যাপারে স্টেশনে অপেক্ষারত যাত্রীদের উদ্দেশ্যে আবেদন জানায় আরপিএফ। এনজেপি-হলদিবাড়ি প্যাসেঞ্জার ট্রেনকে ১০ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখা হয় রানিনগর স্টেশনে। শিলিগুড়িতে ইসকন মন্দিরেও পাঁচ মিনিটের জন্য ব্ল্যাক আউট করা হয়।
এদিকে, ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর থেকেই গৌড়বঙ্গের তিন জেলা উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহে বাড়তি পুলিসি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, মক ড্রিল নিয়ে এদিন পর্যন্ত সরকারি কোনও নির্দেশিকা আসেনি। তবে দুই জেলায় বাড়তি নজরদারি রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিস।