


মনুসর হাবিবুল্লাহ, দিনহাটা: সদ্য স্কুল ফাইনাল পাশ করে দিনহাটা কলেজে প্রি ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছিলেন অজিত বর্মন। সেই সময় একাত্তরের ভারত-পাক যুদ্ধের দামামা বেজে যায়। সদ্য যুবক বয়সে সেনাবাহিনীর সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করেছেন অজিত। সেনাবাহিনীর পরামর্শে বাড়ির পাশে তৈরি করা হয়েছিল বাঙ্কার। সাইরেন বাজতেই অন্যদের মতো তিনিও লুকিয়ে পড়তেন সেখানে। আবার সাইরেনের শব্দে বেরতেন। জেনারেল স্যাম মানেকশ এসেছিলেন দিনহাটা কলেজের ময়দানে। তিনি হেলিকপ্টার থেকে নামতেই তাকে সম্ভাষণ জানাতে হাজির হয়েছিল হাজার হাজার মানুষ। সেখানে ছিলেন তিনিও। আজ, বুধবার দেশজুড়ে মহড়া। তার আগে একাত্তরের স্মৃতি রোমন্থন করলেন অজিত বর্মন।
লাইব্রেরিয়ান হিসেবে দীর্ঘদিন চাকরি করার পরে ২০১৫ সালে অবসর নেন। তাঁর কথায়, তখন পূর্ব পাকিস্তানের অধুনা বাংলাদেশে শুরু হয় খান সেনাদের অত্যাচার। হাজার হাজার শরণার্থী আশ্রয় নেওয়া শুরু করে ভারতে। তাঁদের অনেকেই ওকড়াবাড়ি এসেছিলেন। একাধিক শরণার্থী শিবির করা হয়েছিল। কয়েকজন তাঁদের বাড়িতে আশ্রয় নেন। অজিতবাবু বলেন, হঠাৎ রাতের বেলা যুদ্ধ ঘোষণা করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। পশ্চিম সীমান্তেও শুরু হয় যুদ্ধ। সেনাবাহিনীর সুবিধার্থে সীমান্তে গিয়ে বাঙ্কার খোঁড়ার কাজে হাত লাগাই। তখন মাথার উপর দিয়ে প্রায় উড়ে যেত যুদ্ধবিমান। এত নিচু দিয়ে যেত যে বিমানের গায়ে লেখা ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্স সেটাও পড়া যেত। প্রতিদিন খেয়াল করতাম তিনটি করে বিমান পূর্ব পাকিস্তানের দিকে উড়ে যাচ্ছে। সেগুলি না ফেরা পর্যন্ত মন কেমন করত। তিনটি বিমান ফিরে এলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতাম। সন্ধ্যায় রেডিওতে খবর শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকতাম। যুদ্ধ জেতার পরে পাক সেনাবাহিনীকে বন্দি করে এদেশে নিয়ে আসা হয়েছিল। পাকিস্তানের ট্যাঙ্কগুলিও কেড়ে নিয়েছিল ভারতীয় সেনা। সেই ট্যাঙ্ক দেখতে ভিড় জমত। ভারত জেতার পরে স্বাধীন হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের মূর্তি ভাঙা হয় সম্প্রতি। সেই খবরে মন খারাপ হয় তাঁর। যাঁদের জন্য এত লড়াই করলেন, তাঁদেরই মর্যাদা দিতে পারল না ওই দেশের বর্তমানে যুব প্রজন্ম।
আজ, বুধবার দেশজুড়ে মকড্রিল হবে। শত্রুপক্ষের বিমান হানা থেকে বাঁচতে সাইরেনের শব্দে নাগরিকদের কর্তব্য শেখানো হবে। যুদ্ধের সময় ছাত্রছাত্রী ও নাগরিকদের করণীয় সম্পর্কে সচেতন করবে সরকার। একাত্তরের যুদ্ধে ভারতীয় সেনাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অজিত বর্মন। এখন ৭২ বছর বয়সেও সেনার পাশে দাঁড়াতে ইচ্ছুক তিনি।