নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কোরিয়াল গরদের শাড়ির ঐতিহ্য শতাব্দী প্রাচীন। বর্তমানে শাড়ি বোনার শিল্পীর সংখ্যা অস্বাভাবিকরকম হ্রাস পেয়েছে। হাতে গোনা কয়েকজন এই কাজ করছেন। মুর্শিদাবাদের মির্জাপুরে জনা দশেক শিল্পী এই কাজ জানেন। তাঁদের হাতেই রয়েছে বিলুপ্তপ্রায় এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব। তাঁদের এই শিল্পকলাকে বাঁচিয়ে রাখার অক্লান্ত লড়াইয়ে পাশে এসে দাঁড়াল রাজ্য সরকার।
আজ, বৃহস্পতিবার থেকে বিধাননগর বইমেলা প্রাঙ্গণে ক্ষুদ্র শিল্প দপ্তরের উদ্যোগে চালু হচ্ছে ‘বাংলার তাঁতের হাট’। দুর্গাপুজোর আগে যেখানে শতাধিক তাঁতি ও শিল্পী, ১১টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী, ৬৬টি তাঁতি সমবায় সমিতি, দু’টি হ্যান্ডলুম সংস্থা, ১০টি হ্যান্ডলুম ক্লাস্টারের সদস্য নিজেদের বোনা শাড়ি বিক্রির সুযোগ পাবেন। থাকবে তন্তুজ, বিশ্ব বাংলা মার্কেটিং কর্পোরেশন, বঙ্গশ্রী, পশ্চিমবঙ্গ রেশম শিল্পী সমবায় মহাসঙ্ঘ লিমিটেড এবং পশ্চিমবঙ্গ খাদি বোর্ডের স্টল।
বেচাকেনার পাশাপাশি তাঁতের হাটে নজর কাড়তে চলেছে বিলুপ্তপ্রায় কোরিয়াল গরদ। যা সকলের সামনে বসে বুনবেন মির্জাপুরের তাঁতিরা। এই দুর্লভ শিল্পকে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে জায়গা করে দেওয়া হচ্ছে তাঁতের হাটের থিম প্যাভিলিয়নে। কোরিয়াল আসলে হল গরদের উপর তৈরি নকশা। যা শাড়িকে আকর্ষণীয় করে তোলে। রাজ্য সরকারের এক আধিকারিক জানান, বৃহস্পতিবার থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে বাংলার তাঁতের হাট। হাজার হাজার মানুষ পুজোর কেনাকাটা করবেন এখান থেকে। সেখানে বিলুপ্তপ্রায় এই শিল্পকে তুলে ধরলে ভালো প্রচার হবে। চাইলে এই শাড়ি কিনতে পারবেন রেশম শিল্পীর স্টল থেকে। এছাড়াও অন্যান্য শোরুম এবং গড়িয়াহাটে এবং আলিপুরের শিল্পোন্নতে রাজ্যের অধীনে থাকা ‘রেশম শিল্পীর’ দোকানেও মিলবে জিআই ট্যাগ প্রাপ্ত কোরিয়াল গরদ।
বার্ধক্যের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়া কোরিয়াল গরদ শিল্পী রবীন্দ্রনাথ গিঁচ জানান, আমাদের বাপ-দাদুর থেকে শুনেছি একটি কোম্পানি ছিল ইংরেজদের। গর্দান বা ওইরকম কিছু নাম। তারাই প্রথম এই শাড়ির অর্ডার দিয়েছিল। সেই থেকে নাম হয় গরদ। তবে সাধারণ গরদের থেকে একেবারে আলাদা এই কোরিয়াল গরদ। শাড়ি বোনার সময়েই মাকু পালটে পালটে বুনতে হয়। পাড় থেকে শুরু করে পুরো শাড়ি মালবেড়ি সিল্কের সুতো দিয়ে নানা কারুকাজ করা হয়। নিজস্ব চিত্র