Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ধর্ম অবমাননার ভুয়ো অভিযোগে হিন্দুদের উপর অত্যাচার, রিপোর্ট, বাংলাদেশে ভোটে লড়াইয়ের প্রস্তুতি সংখ্যালঘুদের পার্টির

ধর্ম অবমাননার ভুয়ো অভিযোগ তুলে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার ক্রমশ বাড়ছে। অভিযোগ তুলল একটি মানবাধিকার সংগঠন

ধর্ম অবমাননার ভুয়ো অভিযোগে হিন্দুদের উপর অত্যাচার, রিপোর্ট, বাংলাদেশে ভোটে লড়াইয়ের প্রস্তুতি সংখ্যালঘুদের পার্টির
  • ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ঢাকা: ধর্ম অবমাননার ভুয়ো অভিযোগ তুলে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার ক্রমশ বাড়ছে। অভিযোগ তুলল একটি মানবাধিকার সংগঠন। দ্য হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিজ (এইচআরসিবিএম) নামে ওই সংগঠনটি তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করেছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দুদের হেনস্তা, সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া এমনকি মেরে ফেলার জন্য ধর্ম অবমাননার ভুয়ো অভিযোগ তোলা হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত শত্রুতা, সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলা বা অন্য কোনও আক্রোশ থেকে এমন কাজ করা হচ্ছে। একবার ধর্ম অবমাননার ভুয়ো অভিযোগ ছড়িয়ে দিতে পারলেই দলে দলে মানুষ (যাদের ‘মব’ বলা হচ্ছে) হামলা চালাচ্ছে। ফলস্বরূপ, প্রাণ নিয়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে সংখ্যালঘুরা। এই প্রসঙ্গে ময়মনসিংহের দীপুচন্দ্র দাসের উদাহরণও দিয়েছে এইচআরসিবিএম। ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপুকে প্রথমে পিটিয়ে, তারপর গাছে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়। কিন্তু পরে তদন্তে উঠে আসে, কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি নিয়ে আক্রোশের জেরে দীপুর বিরুদ্ধে ভুয়ো অভিযোগ তোলে সহকর্মীরাই। এরপর উত্তেজিত জনতার হাতে দীপুকে তুলে দেওয়া হয়।

Advertisement


সংগঠনটি জানিয়েছে, চলতি বছরের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের ৩২টি জেলায় ৭৩টি ভুয়ো ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই টার্গেট করা হয়েছে হিন্দুদের। এই সব অভিযোগকে সামনে রেখে গণপিটুনি দেওয়া, সম্পত্তি কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এইচআরসিবিএম আরও জানিয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসেই ২৫৮টি সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। তাতে প্রাণ গিয়েছে ২৭ জনের। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার কোনও কড়া পদক্ষেপ না করায় সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক ক্রমশ বাড়ছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি)। মূলত সংখ্যালঘুদের দাবিদাওয়া তুলে ধরার জন্যই গত এপ্রিলে তৈরি হয়েছে এই দলটি। নির্বাচন কমিশনের ছাড়পত্রও মিলেছে। বাংলাদেশের জাতীয় পরিষদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ৯১টি আসনে লড়াই করতে পারে বিএমজেপি। দলের সভাপতি সুকৃতিকুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, তাঁরা ৪০ থেকে ৪৫টি আসনে জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। তাঁর দাবি, আওয়ামি লিগ নির্বাচনে নিষিদ্ধ ঘোষণা হওয়ায় পর সংখ্যালঘুদের কথা বলার জন্য কোনও দল নেই। বিএমজিপি সেই জায়গা নেবে। সংখ্যালঘুরা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করত হবে বলেও দাবি করেছেন সুকৃতি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ