Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাড়গ্রামে উদ্ধার নাবালিকা ও প্রেমিক, শারীরিক নির্যাতনের ভুয়ো ভিডিও দিয়ে মামলা, পুলিশের তদন্তে ফাঁস

নিখোঁজ নাবালিকা মেয়ের ভাইরাল হওয়া নির্যাতনের ভিডিও দিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন বাবা। পুলিশ তদন্ত করতেই বেরিয়ে এল আসল তথ্য।

মাড়গ্রামে উদ্ধার নাবালিকা ও প্রেমিক, শারীরিক নির্যাতনের ভুয়ো ভিডিও দিয়ে মামলা, পুলিশের তদন্তে ফাঁস
  • ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নিখোঁজ নাবালিকা মেয়ের ভাইরাল হওয়া নির্যাতনের ভিডিও দিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন বাবা। পুলিশ তদন্ত করতেই বেরিয়ে এল আসল তথ্য। উদ্ধার হল নাবালিকা ও তার প্রেমিক। ঘটনাটি মাড়গ্রাম থানা এলাকার। পুলিশের দাবি, ফেক ভিডিও দিয়ে মামলা করা হয়েছিল। আজ, মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি রয়েছে হাইকোর্টে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাড়গ্রাম থানা এলাকার বছর ১৬-র এক নাবালিকা গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের দাবি, পরের দিন থানায় মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও তাঁরা দেখতে পান। তাঁদের অভিযোগ, ভিডিওতে ১০-১২ জন ছেলে মেয়ের উপর অত্যাচার চালানোর পাশাপাশি সিগারেটের ছ্যাঁকা দিচ্ছে। পুলিশ ঠিকমতো তদন্ত করেননি। ভাঙরের সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাঁরাও গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ। দিন কয়েক আগে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন নাবালিকার বাবা। হাইকোর্ট তদন্ত করে সাতদিনের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেয়। পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারেন, নাবালিকার বাবা লেদার কমপ্লেক্স থানা এলাকায় ব্যাগের কারখানায় কাজ করেন। গত বছর ২৭ অক্টোবর ওই নাবালিকার মুর্শিদাবাদে বিয়ে হয়। কিন্তু রেজিস্ট্রি হয়নি। স্বামী বয়স্ক হওয়ায় সে সেখান থেকে চলে এসে কলকাতায় বাবা-মায়ের কাছে থাকছিল। সেখানেই ভাঙরের বজেরহাট এলাকার এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাবা-মা জানতে পেরে মাড়গ্রাম এলাকায় দিদিমার বাড়ি পাঠিয়ে দেন। গত ৩ জুন ওই যুবক এসে নাবালিকাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, ওরা মুম্বইয়ে রয়েছে। সেইমতো পুলিশের একটি টিম মুম্বই যায়। কিন্তু তার আগেই ওরা মাড়গ্রামের উদ্দেশে ট্রেন ধরে। সোমবার সকালে রামপুরহাট জংশনে ট্রেন থেকে নামতেই দুজনকে ধরে ফেলে পুলিশ। এরপরই আসল তথ্য বেরিয়ে আসে। 
পুলিসের দাবি, নাবালিকা স্বীকার করেছে এই ভিডিও তার নয়। ভিডিওতে যে পোশাক দেখা যাচ্ছে সেটাও তার নয়। সাতদিন ধরে সে একটি পোশাকই পড়ে রয়েছে। ফেক ভিডিও দিয়ে হাইকোর্টে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বছর উনিশের আকাশ ঢালি নামে ওই যুবকের বিরুদ্ধে নাবালিকা অপহরণের মামলা শুরু হয়েছে। সোমবার ওই যুবককে রামপুরহাট আদালতের এসিজেএম কোর্টে তোলা হয়। এই মামলায় পকসো ধারাও যুক্ত করা হয়। নাবালিকার বাবা বলেন, ভিডিওটি ফেক না মেয়েকে কেউ চাপ দিয়ে বলাচ্ছে, তা জানি না। ভিডিওতে মেয়ের মুখ হাল্কা দেখা যাচ্ছে। গলার চিৎকার, পোশাক দেখে বোঝা যাচ্ছে, আমারই মেয়ে। আর মেয়ের বিয়ে হয়নি। তবে ঠিক হয়ে আছে। হবু জামাইয়ের বাড়ি যাওয়া আসা রয়েছে মেয়ের। 
পুলিস জানিয়েছে, নাবালিকাকে উদ্ধারের পর তার বাবাকে ফোন করে আসার জন্য বলা হলেও আসেনি। যদিও নাবালিকার বাবা বলেন, আমি কলকাতায় থাকায় শ্যালককে থানায় যেতে বলেছি। এদিকে আজ মঙ্গলবার হাইকোর্টে মামলার শুনানি রয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, ফেক ভিডিও দিয়ে মামলা করার বিষয়টি হাইকোর্ট জানানো হবে। সেইসঙ্গে ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে ফেসবুককে চিঠি করা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ