নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আজ, শনিবার বিশ্ব তামাক বিরোধী দিবস থেকেই পড়ুয়াদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে তৎপর হচ্ছে কেন্দ্র। প্রতিদিন প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শিশু-কিশোর তামাকের ব্যবহার শুরু করছে। শুধুমাত্র তাই নয়, তামাক সেবন করছে, এমন ১৩-১৫ বছর বয়সি স্কুলপড়ুয়ার হার প্রায় সাড়ে আট শতাংশ। ২০১৯ সালের ‘দ্য গ্লোবাল ইয়ুথ টোব্যাকো সার্ভে’তে উঠে এসেছে এমন বিপদজনক তথ্য। সেইমতো স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের মধ্যে তামাক সেবনের ক্ষতিকারক দিক নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগী হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে তামাকের ব্যবহার রুখতে বাড়তি পদক্ষেপ করছে শিক্ষামন্ত্রকও। আজ থেকে চালু হচ্ছে এক মাসের বিশেষ কর্মসূচি।
জানা গিয়েছে, ৩১ মে থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত ওই কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ গজের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করা চলবে না। এই জাতীয় পণ্য কোনও শিশু-কিশোরকে বিক্রিও করা যাবে না। উল্লিখিত বিশেষ কর্মসূচিতে এহেন নিয়ম মানার উপরে সবচেয়ে বেশি জোর দিতে চলেছে কেন্দ্র। পাশাপাশি কেন্দ্র চাইছে, আইন লঙ্ঘন হলেই যাতে নির্ভয়ে পুলিস-প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়া যায়, সেই সংক্রান্ত এসওপি যাতে তৈরি করে রাজ্যগুলি। এই মর্মে রাজ্যগুলির কাছে নির্দেশিকা পাঠানোর পরিকল্পনাও করছে শিক্ষামন্ত্রক।
মন্ত্রক জানিয়েছে, প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ গজের মধ্যে একটি হলুদ রেখা টেনে দেওয়া প্রয়োজন। সেই চৌহদ্দির মধ্যে কোনও তামাকজাত পণ্য বিক্রি হবে না। পুলিস, প্রশাসনের আধিকারিকদেরই তা সুনিশ্চিত করতে হবে। এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট রাজ্য প্রশাসনকেই প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করতে হবে। একইসঙ্গে তামাক মুক্ত এলাকা, তামাক মুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডিসপ্লে বোর্ডও দিতে হবে স্কুল-কলেজগুলিকে। নিয়োগ করতে হবে ‘টোব্যাকো মনিটর’। বিভিন্ন কুইজের মাধ্যমেও তামাক বিরোধী সচেতনতা গড়ে তোলার ব্যাপারে স্কুলগুলিকে উদ্যোগী হতে বলেছে শিক্ষামন্ত্রক।