নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ঠিক হয়েছিল কলকাতা থেকে সোজা পৌঁছবেন কামারপুকুর চটিতে। সেখানেই বাঁধা হয় সভা মঞ্চ। কিন্তু, কামারপুকুর আসার আগে আরামবাগের মায়াপুরে আচমকা থেমে যায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়। গাড়ি থেকে নেমে রাস্তায় কিছুটা হেঁটে সোজা কমিউনিটি কিচেনে ঢুকে পড়লেন। কোনওরকম প্রস্তুতি না থাকায় মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে সকলেই হকচকিয়ে যান। যখন তাঁদের ঘোর কাটে তখন ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করেছেন পুলিসের উচ্চ পদস্থ কর্তারা। তখন ক্যাম্পে দুর্গতদের খাবার পরিবেশন চলছিল। মুখ্যমন্ত্রী তা দেখে নিজেই হাতা ডুবিয়ে বালতি থেকে খাবার নিয়ে পরিবেশন করলেন। মঞ্জু মালিক, মমতাজ বেগম, সাইনারা বেগমদের তখন ঘোর কাটছিল না। এ কাকে দেখছেন! জনদরদী মমতার এই রূপে তাঁরা মুগ্ধ হন। মুখ্যমন্ত্রী পরে সেখানকার দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলেন।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার মায়াপুরে হুগলি গ্রামীণ পুলিসের উদ্যোগে দুর্গতদের রান্না করা খাবার বিলি করা হচ্ছিল। তখন ঘড়ির কাঁটায় দুপুর দেড়টা। ক্যাম্পে খেতে বসেছিলেন বিভিন্ন জলমগ্ন এলাকার দুর্গতরা। আচমকা মুখ্যমন্ত্রী সেখানে ঢুকে পড়েন। পরে নিজের হাতেই তুলে নেন ভাত, সব্জি। একে একে দুর্গতদের পাতে ভাত, ডাল, ডিম পরিবেশন করেন। চোখের খুব সামনে থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই রূপে তখন কার্যত সম্বিৎ হারান সেখানকার দুর্গতদের অনেকেই। মুখ্যমন্ত্রী খাবার পরিবেশন করা শুরু করতেই জয় বাংলা স্লোগান দিতে থাকেন তৃণমূল কর্মীরা। ক্যাম্পের একাধিক মহিলার পাতে খাবার পরিবেশন করেন মমতা। এতে তাঁরা আপ্লুত। দুর্গত মঞ্জু মালিক বলেন, বাড়িতে জল ঢুকে গিয়ে খুব সমস্যায় পড়েছিলাম। প্রশাসনের তরফে শুকনো খাবার আগেই দেওয়া হয়েছে। এদিন ক্যাম্পে ভাত, ডাল, আলু পোস্ত ও ডিমের কারি দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী নিজে খাবার পরিবেশন করেছেন। এতে আমরা খুবই খুশি। এরকম হবে ভাবতেই পারিনি।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন ক্যাম্পে খাবার পরিবেশনেই থেমে থাকেননি। গাড়িতে ওঠার আগে মায়াপুর এলাকায় জন সংযোগও করেছেন। মায়াপুর এলাকায় তাঁকে স্বাগত জানাতে ভিড় জমিয়েছিলেন বহু তৃণমূল কর্মী সমর্থক। তাঁদের দেখে মুখ্যমন্ত্রী রাস্তায় কিছুক্ষণ হাঁটেন। হাত নেড়ে, নমস্কার করেন জনতার উদ্দেশে। তারপর ফের গাড়িতে উঠে আরামবাগ হয়ে কামারপুকুরে আসেন। মায়াপুর এলাকায় কর্মী সমর্থকদের নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আরাণ্ডি-১ অঞ্চল তৃণমূলের সভাপতি মুন্সি ইকবাল। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে দেখার জন্য মায়াপুরে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম। তিনি কমিউনিটি কিচেনে খাবার পরিবেশনের পর কিছুটা রাস্তায় হাঁটেন। এদিন দলনেত্রীকে খুব কাছ থেকে দেখতে পাওয়ায় আমরা খুবই খুশি।
সড়ক পথে এদিন কলকাতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী কামারপুকুর হয়ে ঘটালে যান। তাঁকে স্বাগত জানাতে আরামবাগ মহকুমার রাস্তার বিভিন্ন অংশ সাজানো হয়। দলীয় পতাকা, ফেস্টুন দিয়ে রাস্তার বিভিন্ন অংশ সাজানো হয়। বিভিন্ন প্রকল্পে সুবিধা দেওয়ার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েও ফেস্টুন দেওয়া হয়। তাছাড়াও বিভিন্ন মোড়ে তাঁকে স্বাগত জানাতে ভিড় জমান দলের কর্মী সমর্থকরা। সংশ্লিষ্ট জায়গায় দলের একাধিক নেতারাও হাজির ছিলেন। স্লোগানের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে উলুধ্বনি ও শঙ্খ ধ্বনিতেও মুখরিত হয় রাস্তার বিভিন্ন অংশ। মুখ্যমন্ত্রীও বিভিন্ন জায়গায় গাড়ি থেকেই নমস্কার করেন। হাত নেড়ে অভিবাদন জানান।