


আপনি যদি আঁকতে ভালোবাসেন তাহলে মটকা পেন্টিং রোজগারের ভালো উপায় হয়ে উঠতে পারে। ভাঁড় বা মাটির ফুলদানি, হাঁড়ি, এমনকী পেন স্ট্যান্ডে একেবারে নতুন রূপ দিতে পারেন নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে। ঘর সাজানোর কাজেও এই মটকা দারুণ লাগে। অনেকে ছোট বড় আয়তন ও নানারকম আকারের মটকা দিয়ে ঘর সাজানোর একটা প্যাটার্ন বা থিম তৈরি করে। মটকা পেন্টিং বিষয়ে আলোচনার পর যদি আপনারও এই পেন্টিং করতে মন চায়, তাহলে জেনে নিন কীভাবে তা করবেন।
মটকা পেন্টিংয়ের ধরন
প্রথমেই জেনে নিন মটকা পেন্টিং করতে কী কী লাগবে।
উপকরণ: ভাঁড়, হাঁড়ি, ফুলদানি (যার উপর আপনি রং করতে ও আঁকতে চান) ১টা, পোস্টার কালার বা অ্যাক্রেলিক কালার ৩ থেকে ৪ রঙের, সাদা বা কালো পোস্টার বা অ্যাক্রেলিক কালার বেস তৈরি করার জন্য, সরু ও মোটা তুলি ৪-৫টা, আঁকার জন্য উপযুক্ত পেন্সিল ১টা, ফিক্সেটিভ স্প্রে ১ কন্টেনার, ল্যাকার বা ভার্নিশ স্প্রে
১ কন্টেনার। সাজানোর জন্য চুমকি, ছোট বিডস, কাচের আয়না ইত্যাদি প্রয়োজন অনুযায়ী।
পদ্ধতি: প্রথমে মটকা বা মাটির হাঁড়ি, ভাঁড়, ফুলদানি যার উপর রং করতে চান সেটাকে পরিষ্কার করে মুছে নিন। তারপর তার উপর মোটা পেন্ট ব্রাশ দিয়ে সাদা বা কালো রং করে নিন। যদি একটু ম্যাট ফিনিশ চান তাহলে পোস্টার কালার করবেন নাহলে অ্যাক্রেলিক রং করুন। এবার সেটাকে শুকোতে দিন। সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে তার উপর আঁকার জন্য উপযুক্ত পেন্সিল দিয়ে যে কোনও ধরনের নকশার আউটলাইন করে নিন। এবার বিভিন্ন রং দিয়ে নকশার ভিতর রঙিন পেন্টিং তৈরি করুন। তারপর তা শুকিয়ে নিন। এবার ফিক্সেটিভ স্প্রে দিয়ে পুরো মটকার গায়ে স্প্রে করে দিন। তাতে রংটা ধরে রাখতে সাহায্য করবে, উঠে যাবে না। এরপর যদি আপনি চান, তাহলে বিডস, চুমকি ইত্যাদি দিয়ে নকশা করতে পারেন। অল্প করে আঠা লাগিয়ে চুমকি জরি আটকে দিন। এরপর তার উপর দিয়ে ল্যাকার বা ভার্নিশ স্প্রে করে দিন। শুকিয়ে যাওয়ার পর দেখবেন একটা গ্লস আসবে।
রোজগারের উপায়
ঘর সাজানোর কাজে এই ধরনের মটকার এখন খুবই চাহিদা। তবে নকশায় নতুনত্ব আনাই মূল কথা।
একটা থিম বেছে সেই অনুযায়ী ডিজাইন করুন।
সেট হিসেবে মটকা তৈরি করলে তা ঘর সাজানোর কাজে বেশি উপযুক্ত হবে।
একাধিক কাজে ব্যবহার করা যায় এমন মটকা তৈরি করলে বিক্রির সুযোগ বাড়বে।
মটকার কয়েকটা থিম বেছে নিন। যেমন পেন স্ট্যান্ড, হোম ডেকর, ফুলদানি ইত্যাদি। সেই অনুযায়ী তার গায়ে নকশা আঁকুন।
বিক্রি করার জন্য নিজের সমাজ মাধ্যমকে কাজে লাগান। সুদৃশ্য ছবি দিয়ে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে পোস্ট করুন।
দাম খুব চড়া রাখবেন না। খরচের উপর মোটামুটি ১০ শতাংশ বাড়তি লাভ রাখুন। এছাড়াও দাম নির্ধারণ করার আগে বাজারে মটকার কেমন দাম সে বিষয়ে একটু খোঁজ নিয়ে নিন। সেই অনুযায়ী দাম ঠিক করুন।