Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজমিস্ত্রির ছেলে মাধ্যমিকে ৬৫৮, স্বপ্ন ডাক্তার হওয়ার

মেদিনীপুর শহর লাগোয়া আল আমিন মিশন অ্যাকাডেমির ছাত্র মেহেরাজের সাফল্যে খুশিতে আত্মহারা গ্রামের মানুষ।

রাজমিস্ত্রির ছেলে মাধ্যমিকে ৬৫৮, স্বপ্ন ডাক্তার হওয়ার
  • ৭ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। সংসারে অভাব স্পষ্ট। অভাবকে জয় করেই মাধ্যমিক পরীক্ষায় সাফল্য পেল মেদিনীপুর সদর ব্লকের রামনগর এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ মেহেরাজ খান। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৫৮। মেদিনীপুর শহর লাগোয়া আল আমিন মিশন অ্যাকাডেমির ছাত্র মেহেরাজের সাফল্যে খুশিতে আত্মহারা গ্রামের মানুষ। আগামী দিনে সে ডাক্তার হতে চায়। গ্রামবাসীদের কথায়, মেহেরাজ খেলাধুলোও করে। কঠোর পরিশ্রমে সাফল্য পেয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, মাধ্যমিকের রেজাল্ট প্রকাশিত হওয়ার আগে থেকেই একাদশ শ্রেণির জন্য পড়াশোনা শুরু করেছে মেহেরাজ। মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে টানা ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা সে পড়াশোনা করেছে।

Advertisement

এদিন মেহেরাজ জানায়, সকলের সহযোগিতা ছাড়া ভালো ফলাফল করা সম্ভব ছিল না। আশা ছিল আরেকটু ভালো রেজাল্ট হবে। আগামী দিনে আমাকে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবেই। বাবা-মা ছাড়াও স্কুলের তরফেও প্রচুর সহযোগিতা পেয়েছি। শিক্ষকরা নানা ভাবে সহযোগিতা করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মেহেরাজের বাবা মহম্মদ জাবের খাঁন রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। মা জ্যোৎনারা বিবি গৃহবধূ। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে চুয়াডাঙ্গা হাইস্কুলে পড়াশোনা করেছে। তবে নবম শ্রেণিতে জাবেরবাবু ছেলেকে মিশনে ভর্তি করেন। জানা গিয়েছে, মেহেরাজ বাংলায় ৯৫, ইংরেজিতে ৯৪, অঙ্কে ১০০, ভৌত বিজ্ঞানে ৯৯, জীবন বিজ্ঞানে ৯৩, ইতিহাসে ৯৭ ও ভূগোলে ৮০ নম্বর পেয়েছে। জানা গিয়েছে, মেহেরাজের ছোট ভাই মহম্মদ সোহায়েব খানও মেধাবী ছাত্র। কঠোর পরিশ্রম করে অভাব অনটনের মধ্যে দুই ছেলের পড়াশোনার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন বাবা জাবের। এদিন জাবেরবাবু বলেন, ছোট থেকে খুবই কষ্ট করে বড় করে তুলেছি। ছেলের সাফল্যে ভীষণ খুশি। কঠোর পরিশ্রম বিফলে যায় না, তা আবারও প্রমাণিত হল। আগামী দিনে ও চিকিৎসক হতে চায়। কিন্তু খরচ কীভাবে চালাব, তা বুঝেই উঠতে পারছি না। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, রামনগর মেদিনীপুর শহর থেকে অনেকটাই দূরে। এই এলাকায় সে রকম সুযোগ সুবিধা নেই। এরপরেও এই এলাকার ছাত্রছাত্রীরা ভালো ফলাফল করে। প্রশাসনের তরফে উন্নতমানের কোচিং সেন্টার তৈরি করা হলে উপকৃত হবেন পড়ুয়ারা। এগারো গ্রাম মুসলিম সমাজসেবা কমিটির সভাপতি সব্যসাচী মণ্ডল বলেন, ও আমাদের এলাকার গর্ব। ওর সাফল্যে গ্রামের সকলেই ভীষণ খুশি। সংসারে অভাব থাকলেও লড়াই চালিয়ে গিয়েছে। আগামী দিনে আরও ভালো রেজাল্ট করার ব্যাপারে আশাবাদী। মেদিনীপুর সদর ব্লকের অনেকেই ভালো রাজাল্ট করেছে।মেদিনীপুর বিধানসভার বিধায়ক সুজয় হাজরা বলেন, পাশের হারে বড় জেলাগুলোকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর। মেহেরাজরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। জেলা থেকে প্রচুর ছাত্রছাত্রী ভালো রেজাল্ট করেছে।  মেহেরাজ খান।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ