সংবাদদাতা, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রাথমিকে সারপ্লাস ট্রান্সফার শুরু হওয়ায় ধুঁকতে থাকা বহু স্কুল পুনরুজ্জীবিত হতে চলছে। নতুন শিক্ষকের যোগদানে স্কুলগুলির শিক্ষার মান বাড়বে বলেই মত অভিভাবকদের। জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান আশিস মার্জিত বলেন, বহু স্কুলে শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। সারপ্লাস স্কুলগুলি থেকে শিক্ষক তুলে ছাত্র-শিক্ষকের অনুপাতিক হার ব্যালেন্স করার চেষ্টা চলছে। এরফলে অবশ্যই পঠন-পাঠনের মান বাড়বে।
পিআরটি (পিপুল রেসিও টিচার) নিয়ম অনুসারে ৩০ জন ছাত্র প্রতি একজন শিক্ষক থাকার কথা। ১৫০ জনের বেশি পড়ুয়া থাকলে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে এই রেসিও থেকে বাদ দেওয়া হয়। স্কুল শিক্ষাদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় মোট ৩ হাজার ১৮২টি স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ৬ লক্ষ ১০ হাজার ২৬৫ জন। শিক্ষক রয়েছেন ১৩ হাজারের কিছু বেশি। অর্থাৎ, আনুপাতিক হারে জেলায় শিক্ষকের সংখ্যা অনেকটাই কম রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলির জন্য ঊষশ্রী প্রোর্টাল চালু হওয়ায় বহু শিক্ষক গ্রামগঞ্জের স্কুল থেকে বদলি নিয়ে শহরে চলে যাচ্ছেন। বহু শিক্ষক বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বাড়ির কাছাকাছি বদলি নিয়েছেন। এরফলে বহু স্কুলে ছাত্র শিক্ষকের অনুপাতের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। কোথাও আনুপাতিক হারে পড়ুয়ার সংখ্যা কম শিক্ষকের সংখ্যা বেশি। আবার বহু স্কুলে কম সংখ্যক শিক্ষক নিয়েই বেশি পড়ুয়ার স্কুল চলছে।
এই বৈষম্য কেন হবে? এই মর্মে অমিতাভ পাল নামে মুর্শিদাবাদের এক স্কুল শিক্ষক হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। ৬ মার্চ সেই মামলার রায়ে হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু সারপ্লাস বদলির নির্দেশ দেন। ১০ এপ্রিলের মধ্যে সারপ্লাস বদলির সময়সীমাও বেঁধে দেন। এরপরই শিক্ষাদপ্তর সারপ্লাস ট্রান্সফারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
বহরমপুর সদর পশ্চিম চক্রের মহাকালী পাঠশালা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়ার সংখ্যা ৪০০। ওই স্কুলে ১৯ জন শিক্ষক রয়েছেন। সেখানে অতিরিক্ত শিক্ষক রয়েছে। ওই চক্রের ৪০ নম্বর নওদা পানুর নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের পড়ুয়া সংখ্যা ২৬৪ জন। শিক্ষকের সংখ্যা ১১। সেখানেও সারপ্লাস শিক্ষক রয়েছে। বড়ঞা দঙ্গিণ চক্রের নিমা বাহাদূরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা ২০৪ জন। প্রধান শিক্ষক বাদে শিক্ষকের সংখ্যা তিনজন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চঞ্চল মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের এখানে সাতজন শিক্ষকের দরকার। শিক্ষক পেলে সেকশন ভাগ করে পড়াতে পারব। পড়ার মান বাড়বে।’ ওই চক্রের গ্রামশালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৭৯ জন পড়ুয়ার জন্য পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। প্রধান শিক্ষক তারকসিন্ধু দেবনাথ বলেন, শিক্ষকের ঘাটতি মিটলে পড়ুয়ারা তার সুফল পাবে।
বেলডাঙা চক্রের-১ নম্বর মির্জাপুর নিম্ন বুনিয়াদ বিদ্যালয়ে সাতজন শিক্ষক পড়াচ্ছেন ৪০০ জন পড়ুয়াকে। এমন বহু স্কুলে ছাত্র শিক্ষকের রেসিওর ভারসাম্য নেই।