Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্বল্প সময়ে মুনাফা মেলে, পাট ছেড়ে ঘাস চাষের দিকে ঝুঁকছেন রানিনগরে সীমান্তের বহু চাষি

স্বল্প সময়ে মিলছে অধিক মুনাফা। তাতেই ‘সোনালি তন্তু’ পাট ছেড়ে গোখাদ্য ঘাস চাষে ঝুঁকেছেন সীমান্তের বহু কৃষক

স্বল্প সময়ে মুনাফা মেলে, পাট ছেড়ে ঘাস চাষের দিকে ঝুঁকছেন রানিনগরে সীমান্তের বহু চাষি
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: স্বল্প সময়ে মিলছে অধিক মুনাফা। তাতেই ‘সোনালি তন্তু’ পাট ছেড়ে গোখাদ্য ঘাস চাষে ঝুঁকেছেন সীমান্তের বহু কৃষক। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতার ঘেঁষা রানিনগরের চরের মাঠগুলিতে একসময় পাট চাষের ব্যাপক রমরমা দেখা যেত। তবে বছর কয়েকের ব্যবধানে সেই আগ্রহ অনেকটা কমে এসেছে। বদলে সীমান্তের মাঠগুলিতে জায়গা করে নিচ্ছে গোখাদ্য ঘাস। চাষিদের দাবি , গত কয়েক বছরে ব্যাপক হারে বেড়েছে পাটের বীজের দাম। সঙ্গে রয়েছে কীটনাশকের অস্বাভাবিক হারে মূল্যবৃদ্ধি, সেইসঙ্গে পরিচর্যার বিপুল খরচ কাটিয়ে পাট থেকে লাভের অঙ্ক বের করা মুশকিল হয়ে পড়েছে কৃষকদের। অপরদিকে, রোপণ থেকে শুরু করে পাট শুকিয়ে তা বাজারজাত করার জন্য যতটা সময় লাগে, সেই সময়ে ওই একই জমিতেই দু’বার ঘাসের চাষ করা যায়। আর তাতেই, স্বল্প সময়ে অধিক লাভের কারণে গবাদি পশুর ঘাস চাষে এগিয়ে আসছেন কৃষকরা। একদিকে গবাদি পশুর চারণ ভূমির অভাব, অপরদিকে স্বল্প খরচে স্বল্প সময়ে অধিক লাভ, তার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে ক্রমবর্ধমান গবাদি পশুর খাবার ঘাসের চাহিদা, মূলত এই কারণগুলিকে কেন্দ্র করেই ঘাস চাষে আগ্রহ বাড়চ্ছে কৃষকদের। 

Advertisement

স্থানীয় এক কৃষক লুৎফার শেখ বলেন, পাটের আবাদে সেভাবে এখন আর লাভ হয় না। এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়। তাহলে, কুইন্টাল প্রতি পাটের দাম ওই চার-পাঁচ হাজার টাকা করেই আসে। ওই টাকায় লাভের অঙ্ক আর কতটা থাকবে বলেন? 
অপর এক কৃষকের কাছে এব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, যে টাকা পাটের পেছনে খরচ করব, সেই টাকায় ঘাস চাষ করে কিছুটা হলেও লাভের মুখ দেখতে পাব! বিক্রির পাশাপাশি বাড়ির গোরু-ছাগলও খেয়ে বাঁচবে। তাই আর নতুন করে পাট চাষে আগ্রহ নেই। রানিনগরের বিভিন্ন বাজার এলাকায় ভ্যান নিয়ে ঘুরে ঘুরে ঘাস বিক্রি করা ব্যবসায়ী শহিদুল মন্ডল বলেন, ঘাস বিক্রি করে মোটামুটি ভালোই অর্থ আসে। এলাকার এক শিক্ষক বলেন, পাটের দাম না মেলায় মানুষ ধীরে ধীরে আগ্রহ হারাচ্ছেন। পাটের দাম না বাড়লে মানুষ আরও আগ্রহ হারাবেন। সরকারের বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ