Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘মমতা ম্যাজিকে’ হিলকার্ট রোডে খোলা হাওয়া, যানজটমুক্ত শিলিগুড়ি

সত্যজিত্ রায়ের চলচ্চিত্রে দু’হাতে তালি বাজিয়ে মনের সাধপূরণ করত গুপি-বাঘা।

‘মমতা ম্যাজিকে’ হিলকার্ট রোডে খোলা হাওয়া, যানজটমুক্ত শিলিগুড়ি
  • ২০ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সায়ন চট্টোপাধ্যায়, শিলিগুড়ি: সত্যজিত্ রায়ের চলচ্চিত্রে দু’হাতে তালি বাজিয়ে মনের সাধপূরণ করত গুপি-বাঘা। ভূতের রাজার বরে নিমেষে চলে যেত একস্থান থেকে আরএক স্থানে। এভাবে স্বল্পসময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে কে না চায়! কিন্তু যানজটে ‘বিদ্ধ’ শহরে সেই উপায় আছে কি? তবে সোমবার যেন সেই ‘ইচ্ছেই পূরণ’ হল শিলিগুড়ির। ভূতের রাজার বর-এ না হলেও আরএক ‘যাদুবলে’ যানজটমুক্ত হল বাংলার দ্বিতীয় বড় শহর। 

Advertisement

এদিন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মুখমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গ সফরে শিলিগুড়ি এসেছেন। সেই উপলক্ষ্যে শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা যেন একলহমায় পাল্টে গেল। সকালে অফিসে যাওয়ার পথে যানজটহীন হিলকার্ট রোড দেখে শহরবাসীর মুখে একটাই কথা, এটাই দিদির ম্যাজিক। মহাত্মা গান্ধী মোড় থেকে সফদর হাসমিচক, হাসপাতাল মোড় থেকে কোর্ট মোড়, রোজ সকালের যানজট থেকে মুক্তি পেল। 
মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে পুলিস ও প্রশাসনের তত্পরতা তুঙ্গে। ভিআইপি মুভমেন্টে শহরবাসীর চলাচলে যাতে অসুবিধা না হয় সেজন্য প্রথম থেকে সতর্ক সংশ্লিষ্ট মহল। এদিন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিস আধিকারিকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মোতায়েন ছিলেন ট্রাফিক কর্মীরা। প্রধান সড়কে যান নিয়ন্ত্রণে বেশকিছু জায়গা থেকে গাড়ি অন্যপথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। দার্জিলিং মোড় হয়ে আসা গাড়িকে বর্ধমান দিয়ে ঘুরিয়ে জলপাই মোড় দিয়ে এসএফ রোডে নিয়ে যাওয়া হয়। টিকিয়াপাড়া মোড়েও ট্রাফিক কর্মীরা ছিলেন তত্পর। যানজটের জন্য দার্জিলিং মোড় থেকে হাসমিচক হয়ে কোর্ট মোড় আসতে অন্যদিন আধ ঘণ্টা থেকে ৪৫ মিনিট লাগে। এদিন অফিস টাইমে এই সড়ক কয়েক মিনিটে পার করেছেন শহরবাসী। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস উড়ালপুলে বাইক, গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য ছিল উধাও। টিকিয়াপাড়া হয়ে হাসমিচক যাতায়াতে উড়ালপুলে যানজট হয়নি। কোর্ট মোড়েও দেখা মেলেনি সেই নিত্যদিনের যানজট। 
তবে এদিন পাড়ার অলিগলি দিয়েই যাত্রী নিয়ে ছুটেছে অধিকাংশ টোটো। যার জেরে হাকিমপাড়া থেকে হায়দরপাড়া, আশ্রমপাড়া থেকে ইসকন রোডের মতো পকেট রুটগুলিতে ছিল ভিড়। তবে তা নিয়ে অবশ্য শহরবাসীর তেমন অভিযোগ নেই। বরং হিলকার্ট রোড, বিধান রোডে খোলা হাওয়ায় অনেকটাই স্বস্তি দিয়েছে পথচলতিদের। শিবমন্দির থেকে চাকরি করতে শিলিগুড়িতে আসেন অঙ্কিতা দত্ত। তিনি বলেন, যানজট থাকায় রোজ ঘণ্টা খানেক আগে বাড়ি থেকে রওনা দিই। এদিন সেই তুলনায় অনেকটাই আগে শহরে ঢুকতে পেরেছি। শিলিগুড়ি কলেজের ছাত্র ধ্রুব দাস সময়মতো পরীক্ষা দিতে পৌঁছতে পারবেন কি না তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। কিন্তু এদিনের হিলকার্ট দেখে তাঁর মন্তব্য, প্রতিদিন রাস্তা যানজটহীন থাকলে সময়মতো কলেজ পৌঁছতে আর বেগ পেতে হবে না। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের নার্স মৌমিতা তরফদার তপশ্বী বলেন, অল্প সময়ে সহজেই কর্মস্থলে পৌঁছতে পেরেছি। প্রতিদিন শহরের গতি এমনই থাকলে শহরবাসীর সুবিধে হবে।
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ট্রাফিক কর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিদিনই যানজট রুখতে পুলিস তত্পর থাকে। এদিনও তার অন্যথা হয়নি।  নিজস্ব চিত্র। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ