বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে আর অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে পেরতে হবে না নদী-নালা-ব্রিজ। হত্যে দিতে হবে না কলকাতা বা বড়-মাঝারি শহরের সরকারি হাসপাতালেও। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এবার বাংলার মানুষের দুয়ারেই পৌঁছে যাবে হাসপাতাল। অত্যাধুনিক একটি গাড়ি, তাতে চিকিৎসক, নার্স, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট অ্যাটেনডেন্ট তো থাকছেনই। পাশাপাশি, সাত-আট আসন বিশিষ্ট প্রতিটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালে মিলবে অনলাইন প্রেসক্রিপশন, ইসিজি এবং রক্ত সংগ্রহ ও পরীক্ষার সুযোগ। চিকিৎসকদের রোগী দেখার সুবিধার জন্য থাকবে বিশেষ ধরনের এগজামিনেশন রুমও। বেশ কিছু ‘মোবাইল’ হাসপাতালে একই সঙ্গে থাকবে পোর্টেবল এক্স-রে এবং ইউএসজি’র সুবিধাও। অগ্রাধিকার পাবে রাজ্যের জঙ্গলমহল ও চা-বাগানের মতো তুলনামূলক নিম্ন আয়ের এলাকা। কাগজে কলমে এই ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালের নাম মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট। স্বাস্থ্য পরিবহণ শাখার নিজস্ব ডিজাইনে তৈরি এই ফাইভ-জি ভ্রাম্যমাণ গাড়িকে মিনি হাইটেক হাসপাতাল বললে কম বলা হবে।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, রাজ্য মোট ২১০টি এমন ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে কমবেশি প্রায় ৩০টি মোবাইল হাসপাতালে থাকবে এক্স-রে, ইউএসজি’র সুবিধাও। ব্লক হাসপাতালে থাকবে এই মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিটটি। ভেহিকেল লোকেশন ট্র্যাকিং ডিভাইস থাকায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে স্বাস্থ্যভবনের কাছে। চলে যাবে প্রত্যন্ত এলাকার বাড়ি বাড়ি। এই এক-একটি মিনি হাসপাতাল কিনতে রাজ্যের খরচ হচ্ছে আনুমানিক ৪০ লক্ষ টাকা। যেসব গাড়িতে ইউএসজি, এক্স-রে থাকবে, তার খরচ পড়ছে আরও বেশি।
সব মিলিয়ে গ্রামীণ এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রকল্পের পিছনে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে রাজ্য। শুধুমাত্র স্বাস্থ্য পরিষেবাকে রাজ্যের প্রত্যন্ততম প্রান্তে পৌঁছে দেওয়াই নয়, এই প্রকল্পে কয়েকশো মানুষের কর্মসংস্থানও হতে চলেছে। এজন্য মাসে ১৬ হাজার টাকা বেতনে ২৩১ জন চালক এবং ১৫ হাজার টাকা বেতনে ২৩১ জন্য মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট অ্যাটেনডেন্ট নিয়োগ করছে রাজ্য। ২৬ আগস্ট এই মর্মে বিজ্ঞাপনও প্রকাশিত হয়েছে। বিনামূল্যের চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসাথী, ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকানের পর দুয়ারে হাসপাতাল হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন ‘গেম চেঞ্জার’—এমনই মনে করছেন স্বাস্থ্যকর্তারা।



