নিজস্ব প্রতিনিধি, সূতি: কাশ্মীরে জঙ্গিদের গুলিতে শহিদ তেহট্টের প্যারা কমান্ডো ঝন্টু আলি শেখের স্ত্রীকে চাকরি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিসের হোমগার্ডের চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হল। নদীয়া জেলাতেই তিনি বাড়ির কাছে চাকরি করবেন বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। চাকরির নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে নিহত জওয়ানের স্ত্রী বলেন, বেঁচে থাকার শক্তি পেলাম।
মঙ্গলবার সূতির ছাবঘাটির কেডি বিদ্যালয়ের ময়দানে প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী শহিদ জাওয়ানের পরিবারকে আমন্ত্রণ জানান। নিজের বক্তব্যের শুরুতেই নিহত জওয়ানের স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের পাশে ডেকে নেন মুখ্যমন্ত্রী। হোমগার্ডের চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়ার পাশাপাশি ১০লক্ষ টাকার চেকও পরিবারের হাতে তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর কাশ্মীরের উধমপুরে তল্লাশি অভিযানে গিয়ে জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে প্রাণ হারান প্যারা কমান্ডো ঝন্টু। তাঁর স্ত্রী শাহানাজ পারভিন এই চাকরিতে যোগ দেবেন।
মমতা বলেন, ঝন্টু আলি শেখ কাশ্মীরে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। যাঁরা দেশের জন্য কাজ করেন তাঁদের আমি স্যালুট জানাই। ওঁরা আমাদের গর্ব। সবসময় যেন এইসব পরিবারকে আমরা মনে রাখি। ঝন্টুর স্ত্রী আগে হায়দরাবাদে থাকতেন। এখন ফিরে এসেছেন। কৃষ্ণনগরে হোমগার্ডের চাকরি করবেন। এখন থেকে আমাদের সরকার সবসময় পরিবারের একজন হিসেবে ওদের পাশে থাকব। আমরা কথা দিলে কথা রাখতে জানি। এইসব পরিবার আমাদের গর্ব। স্বল্প সাহায্য করলাম। আগামী দিনে ও যা চাইবে তাই করব।
মঞ্চেই কান্নায় ভেঙে পড়েন শাহানাজ। মুখ্যমন্ত্রী যেন পুনরায় বেঁচে থাকার ভরসা দিলেন তাঁকে। শহিদ জওয়ানের স্ত্রী বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণে আমি এসেছি। উনি আমাকে চাকরি দিয়েছেন। ওঁর উপর আমি ভরসা করেছি। এতদিন খুব হতাশায় ছিলাম। আজ যেন বেঁচে থাকার শক্তি পেলাম। আমি গৃহবধূ। এক ছেলে এবং এক মেয়ে নিয়ে সংসার। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছিলাম। এই চাকরি পাওয়ায় পরিবার বেঁচে গেল। চাকরির পাশাপাশি উনি আর্থিক সাহায্যও করেছেন। মুর্শিদাবাদের সূতিতে ছাপঘাটির জনসভা বক্তব্য রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।