সংবাদদাতা, চাঁচল: ইচ্ছে ছিল, গ্রামে ব্যবসা করে স্বনির্ভর হবেন। সেজন্য প্রয়োজন মোটা টাকা। সেই টাকা জোগাড়ে কেরলে কাঁজে খোঁজে পাড়ি দিয়েছিলেন এক যুবক। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হল না। কেরলে একটি পরিত্যক্ত কুঁয়ো থেকে যুবকের পচাগলা দেহ উদ্ধার হল। শুক্রবার রাতে সেই দুর্ঘটনার খবর পৌঁছয় গ্রামে। তা শুনে কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবার। বৃদ্ধ বাবা এবং মা সহ পরিজনরা এখন শোকে বিহ্বল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম মহেশ দাস(৩০)। তিনি চাঁচল-২ ব্লকের গৌরহন্ড পঞ্চায়েতের মালিকানের বাসিন্দা। একবছর হল এলাকার যুবকদের সঙ্গে কেরলে পাড়ি দেন তিনি। সেখানে দিনমজুরি করে উপার্জন করতেন। যা কামাই হত, তার থেকে বাড়িতেও পাঠাতেন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত থেকে মহেশকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। সহকর্মী ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কেউ সঠিক হদিশ দিতে পারেনি। সকলে নিখোঁজের বিষয়টি কার্যত এড়িয়ে চলেন। শুক্রবার রাতে যুবকের ভাড়া ঘর থেকে অদূরে পরিত্যক্ত একটি কুঁয়ো থেকে তাঁর পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়। সেখান থেকে মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানানো হয়। পরিবারের দাবি, মহেশকে খুন করা হয়েছে।
মৃতের এক দাদা বাসুদেব দাস মহারাষ্ট্রের পুনে-তে কাজ করেন। ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে তিনিও কেরলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। সেখানে থানায় খুনের অভিযোগ করা হবে বলে পরিবার জানিয়েছে। মৃতের দাদা বিষ্ণু দাস বলেন, মঙ্গলবার বাড়িতে পুজোর আয়োজন হয়েছিল। ছোটভাই কেরল থেকে ভিডিও কল করে পুজো দেখে। ওর বাড়ি আসা নিয়ে কথা হচ্ছিল। এর মধ্যেই ওর দেহ উদ্ধার হয়েছে। ভাইকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে বলে আমাদের আশঙ্কা।
চাঁচল-২ এর বিডিও ঘটনার কথা শুনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পরিবারটিকে ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ব্যাপারে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। মৃত পরিযায়ী শ্রমিক মহেশ দাসের মা-বাবা। চাঁচলের মালিকানে।-নিজস্ব চিত্র