Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

সুরের জাদুকর ১০০

রাত্রির দৃশ্য। নায়িকা খোলা আকাশের নীচে ছাদের পাঁচিলের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। তার লিপে একটি গান শুরু হবে। ছাদে নায়কও রয়েছে। সে স্মিত মুখে গানটি শুনছে। চেষ্টা করছে প্রাণপণে স্বাভাবিক থাকার।

সুরের জাদুকর ১০০
  • ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমৃদ্ধ দত্ত: রাত্রির দৃশ্য। নায়িকা খোলা আকাশের নীচে ছাদের পাঁচিলের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। তার লিপে একটি গান শুরু হবে। ছাদে নায়কও রয়েছে। সে স্মিত মুখে গানটি শুনছে। চেষ্টা করছে প্রাণপণে স্বাভাবিক থাকার। দু’জনের অভিব্যক্তিতেই ভালবাসার গোপন উদ্ভাস। এই গানে সুর দিতে হবে। মনে হ঩তেই পারে যে, এ আর কঠিন কী! অবশ্যই কঠিন। কারণ, অবিকল এই একই দৃশ্য এবং প্রায় একরকম কথাবিশিষ্ট গান মাত্র এক বছর আগেই হয়ে গিয়েছে। তাহলে নতুন কী দেওয়া যায়? দর্শক ও শ্রোতাদের কাছে আজও এক অপার কৌতূহলের বিষয় যে, সেদিন ওই চ্যালেঞ্জটি কীভাবে গ্রহণ করেছিলেন নচিকেতা ঘোষ? এবং একশো শতাংশ সাফল্য অর্জন করে এক চরম উত্তরণের নজির সৃষ্টি করেছিলেন কোন জাদুমন্ত্রে?

Advertisement

১৯৫৭ সালে নচিকেতা ঘোষকে যে সিনেমার সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হল, তার নাম ‘পৃথিবী আমারে চায়’। যে নায়িকার লিপে গানটি হবে, তিনি মালা সিনহা। আর সেই ছাদেই অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন নায়ক উত্তমকুমার। এ পর্যন্ত ঠিক আছে। দৃশ্যটি রাতের এবং চাঁদ দেখা যাচ্ছে। আকাশের ছাদে এসেছে জ্যোৎস্না। সর্বোপরি গানের কথার কেন্দ্রীয় চরিত্র চাঁদ।
আসল সমস্যা হল, মাত্র এক বছর আগে ১৯৫৬ সালে অন্য এক কালজয়ী সিনেমায় ছিল অবিকল এই একই দৃশ্য। বাংলার দর্শক ততদিনে দেখে ফেলেছে এক অলৌকিক নবাগত জুটির ওই গান। সুচিত্রা সেন ও উত্তমকুমার। এবং সেই গান সুপারহিট। ১৯৫৬ সালের ওই সিনেমার নাম ‘সবার উপরে’। সেখানেও রাতের দৃশ্য। খোলা আকাশের নীচে ছাদে উপস্থিত হয়েছে নায়িকা। তাঁর কণ্ঠে ছিল হুবহু একই দৃশ্যকল্পের পটভূমিতে একটি গান। আর সেই গানেরও প্রধান চরিত্র চাঁদ... ‘ঘুম ঘুম চাঁদ ঝিকিমিকি তারা এ মাধবী রাত’। গান লিখেছিলেন নচিকেতা ঘোষের প্রিয় বন্ধু গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার। সুরকার আর এক মহামানব— রবীন চট্টোপাধ্যায়।
সুতরাং ঠিক এক বছরের মধ্যেই ১৯৫৭ সালে নচিকেতা ঘোষ দেখলেন ছাদ, চাঁদ, আকাশ, উত্তমকুমার, রাতের দৃশ্য—সব এক। এবং প্রণব রায় যে গান লিখেছেন সেটাও কমবেশি সাদৃশ্যপূর্ণ। এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে কি গৌরীপ্রসন্নবাবুর লেখার অনুকরণ করেছিলেন প্রণব রায়? এই সন্দেহ যাতে উৎপন্ন না হয়, সেজন্য আমাদের কিন্তু মনে রাখতে হবে যে প্রণব রায় ১২ বছর আগেই ১৯৪৪ সালে অবিস্মরণীয় একটি গান লিখে ফেলেছিলেন। ‘ঘুমের ছায়া চাঁদের চোখে।’ সংগীত জাদুকর কমল দাশগুপ্তের সুরে সেই গানটি গেয়েছিলেন তপনকুমার অর্থাৎ চিরপরিচিত তালাত মাহমুদ। অতএব চাঁদ, ঘুম, ছায়া, আকাশ নিয়ে প্রণব রায়ের লেখা আগেই হয়ে গিয়েছে।
যাই হোক। এক বছরের আগের বিখ্যাত গানটিকে ছাপিয়ে যেতেই হবে নচিকেতা ঘোষকে। এমন কিছু করতে হবে, যাতে একবারও কারও মনে না হয় যে, এ তো আগের গানেরই অনুকরণে তৈরি! চ্যালেঞ্জটি নিলেন নচিকেতা ঘোষ এবং সাফল্যের শিখরে তুলে দিলেন এই নতুন গানকেও। কী ছিল সেই গান? ‘নিশিরাত বাঁকা চাঁদ আকাশে...’।
নচিকেতা ঘোষ মালা সিনহার কণ্ঠে আনলেন গীতা দত্তকে। দেখা গেল, ‘ঘুম ঘুম চাঁদ’ এবং ‘নিশিরাত বাঁকা চাঁদের’ দৃশ্যায়ন কমবেশি একই। কিন্তু নচিকেতা ঘোষ সম্পূর্ণ অন্য শৈলীতে সুর সংযোজন করে ভিন্নধর্মী চরিত্র দিয়ে ফেলেছেন তাঁর গানকে। সেটা দেশভাগ পরবর্তী উত্তাল সময়। বিক্ষুব্ধ সমাজ যখন সর্বক্ষণ প্রবল ক্রোধে অপ্রাপ্তির জ্বালায় উত্তপ্ত, ঠিক সেই তপ্ত কটাহের কেন্দ্রস্থলে বসে নায়িকা অত্যন্ত স্নিগ্ধ এক উচ্চারণ করছে, ‘এ জীবনে যতটুকু চেয়েছি... মন জানে তারও বেশি পেয়েছি...পেয়েছি’। দুই সুরে দু’বার ‘পেয়েছি’। অর্থাৎ ভালোবাসার মানুষকে কাছে পেলে সব পাওয়া হয়ে যায়।
ঠিক পরের বছর আবার এক পরীক্ষার সম্মুখীন নচিকেতা ঘোষ। এক মেধাবী যুবকের সঙ্গে মেধাবী কন্যার দেখা হয়। তাঁদের মধ্যে ভালোবাসার সঞ্চার ঘটে। সেই দু’টি মন যখন একে অন্যকে জানার চেষ্টা করছে, ঠিক তখন প্রাক বিবাহ প্রেমপর্বে গাছের নীচে যুবকের গুনগুন শুনে মেয়েটি উৎসুক হয়ে প্রশ্ন করে, ‘এই তুমি গান জানো?’
যুবকটি স্বর্গীয় হাসি মুখে রেখে গেয়ে ওঠে ‘সূর্য ডোবার পালা আসে যদি আসুক বেশ তো!’ পাশ্চাত্য সংগীতের শৈলীতে মিশল কীর্তনের মৃদু আঙ্গিক। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, প্রথম স্তবকজুড়ে এক মূহূর্তের জন্যও উত্তমকুমার ও সুচিত্রা সেন পরস্পরের চোখ থেকে চোখ সরাচ্ছেন না। এবং দ্বিতীয়বার ‘বেশ তো’ বলার পর দু’জনে ঠিক একই সময়ে শ্বাস ছাড়ছেন...। একজন সংগীত পরিচালক কতটা তীক্ষ্ণতম মেধাবী হলে একটি কথোপকথনকে নিমেষের ম঩ধ্যে গানে পর্যবসিত করে ফেলতে পারেন?  
এ তো গেল প্রাক বিবাহ পর্ব। আমরা লক্ষ্য করলাম, ‘ইন্দ্রাণী’ সিনেমায় চিত্রনাট্যের নাটকীয় অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি গানেরও কীভাবে চরিত্রগত বিবর্তন হচ্ছে। কারণ, বহু বাধা অতিক্রম করে নায়ক-নায়িকার যখন বিবাহ হল, তখন তাঁরা পরস্পরের মধ্যে মরিয়া হয়ে খুঁজে চলেছে এক সুখের নীড়। তাই নচিকেতা ঘোষ হেমন্তবাবুকে বললেন, কোনো প্রিল্যুড ছাড়াই শুরু করতে হবে গানের প্রথম বাক্য, যেখানে থাকবে শুধু কণ্ঠ, বাদ্যযন্ত্র নয়। সেভাবেই ক্ষুদ্র বাসাবাড়িতে নবদম্পতির মধ্যে গুঞ্জরিত হল, ‘নীড় ছোট, ক্ষতি নেই...আকাশ তো বড়...।’
কিন্তু দর্শক যখন ভাবতে শুরু করেছে যে, গানটি এককভাবে নায়কই গাইছে। নায়িকা বোধহয় এখানে নিছক শ্রোতা। ঠিক তখনই বিদ্যুৎ চমকের মতো সুচিত্রা সেন সুরে সুর মিলিয়ে অন্তরায় বলে উঠলেন, ‘হে মন বলাকা মোর অজানার আহ্বানে...।’ এক সেকেন্ড আগেও আমরা জানতে পারিনি যে, গীতা দত্ত আসছেন এখনই! গোটা গানটি জুড়ে ছিল চাঁদের ছায়া। চাঁদের আলো উত্তমকুমারের মুখের অর্ধেক আলোকিত করেছে, সুচিত্রা সেনেরও মুখের একার্ধ উজ্জ্বল জোছনায় আপ্লুত। 
এই যে চমক, নচিকেতা ঘোষের কাছে সেটি ছিল পাশুপত অস্ত্র। তাঁর তূণীরে এই অস্ত্রের অভাব ঘটেনি। কিন্তু পরীক্ষা তো এখনও সমাপ্ত হয়নি। কারণ, এই নারীপুরুষের মধ্যে ইগোর সংকট আসবে, ভুল বোঝাবুঝি হবে। নায়কটি সরে যাবে অন্যত্র, গিয়ে এক অজানা জগতে। যেখানে সর্বহারাদের নিয়ে নতুন বাঁচার সংগ্রামে নিজেকে নিয়োজিত করবে। আর তখন সব রোমান্সকে সরিয়ে  নচিকেতা ঘোষের সুরে তৈরি হল ‘ভাঙ রে ভাঙ রে ভাঙ রে পাথর ভাঙ’! বহু পরিশ্রমে পাঁচের দশকে সলিল চৌধুরীর প্রভাব থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন নচিকেতা ঘোষ। কিন্তু এখানে সেই প্রভাবকে ইচ্ছাকৃতভাবে ফিরিয়ে আনা ছাড়া উপায় ছিল না। তিনি ঠিক তাই করলেন। আমরা লক্ষ্য করলাম, সেই একটি সিনেমায় নচিকেতা ঘোষের সুরের বিবর্তন সংগীত পরিচালকদের কাছে যেন এক ক্লাসরুম হয়ে থেকে গেল। 
প্রত্যেক সংগীতশিল্পী খ্যাতি পাওয়ার পর অসংখ্য গান গেয়ে থাকেন। কিন্তু লক্ষ্য করা যায় যে, কমবেশি সকলের একটি বা দুটি গান যেন ‘আইকনিক’ আখ্যা পায়। অর্থাৎ সেই শিল্পীর পরিচয় হয়ে ওঠে সেই একটি গান। অন্য কোনও গান আজীবন না গাইলেও ওই একটি গানই তাঁকে চিরকালীন করে যায়। ওই শিল্পীর নাম শুনলেই ওই গানটিই সর্বাগ্রে মনে পড়ে। স্বাধীনতা উত্তর বাংলা সংগীত জগতে নচিকেতা ঘোষ সেই ধ্রুবতারা, যাঁর সুরে গান গেয়ে প্রথম সারির প্রত্যেক শিল্পী নিজের পরিচয়জ্ঞাপক গানটি পেয়ে গিয়েছিলেন। 
হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নামের সঙ্গে কোন গান ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে? ‘আমার গানের স্বরলিপি লেখা রবে’। নির্মলা মিশ্র বলতে আমরা কোন গানের কথা আগে মনে করি? ‘এমন একটি ঝিনুক খুঁজে পেলাম না।’ ‘আমি এত যে তোমায় ভালোবেসেছি’র পাশাপাশি দ্বিতীয় কোন গানটি মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের নামের সঙ্গে উচ্চারিত হয়? ‘বনে নয়, মনে মোর পাখি আজ গান গায়। ‘এক তাজমহল গড়ো হৃদয়ে তোমার’ ছাড়া কি পিন্টু ভট্টাচার্যের সত্ত্বা পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে পারে? সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে যে গান, সেটি ‘মায়াবতী মেঘে এল তন্দ্রা!’ নচিকেতা ঘোষের ইমন রাগের উপর অসামান্য এক্সপেরিমেন্ট চমকে দিয়েছিল তামাম শ্রোতাকে। যত গানই গেয়ে থাকুন চিরযুবক তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ‘চলো রিনা..ক্যাসুরিনার’ মতো গানের কোনো বিকল্প হয়নি আজও। 
আধুনিকতা তথা যুগের সঙ্গে নিজেকে কীভাবে দ্রুত মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন নচিকেতা ঘোষ? ওই যে একটু আগে ‘নিশিরাত বাঁকা চাঁদ আকাশে’ কিংবা ‘নীড় ছোট ক্ষতি নেই’-এর কথা বলা হল, সেখানে ভালোবাসার আবহ ছিল মায়াময়। স্পষ্ট ও তীব্র প্রেমের উন্মেষ ছিল না। ছিল যেন গোপন ভালো লাগার আবেশ। কিন্তু সামাজিক লজ্জা ও আড়ষ্টতাও তাতে জড়িয়ে। সাতের দশকে সমাজ যৌবন সংস্কৃতি রাজনীতিতে এক তীব্র গতির সঞ্চার হল। সব কিছু‌ই বড়ো স্পষ্ট, সোচ্চার, উচ্চকিত এবং অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার সময়কাল। 
 যুগের চরিত্র অনুমান করে, এক নতুন কণ্ঠকে দিয়ে চাঁদের জ্যোৎস্না অঙ্গে স্পর্শ করানোর সুরে সব প্রজন্মকে আচ্ছন্ন করলেন নচিকেতা ঘোষ। সেই গান নিছক মায়াময় ছিল না, হয়ে উঠেছিল মোহময়... ‘এই মোম জোছনায় অঙ্গ ভিজিয়ে এসো না গল্প করি’। এখানে বলা হচ্ছে ‘বাতাস দিলরুবা’, ‘রূপালি চাঁদ’, ‘রূপসী রাত’ ইত্যাদি শব্দ। আরতি মুখোপাধ্যায় ছাড়া এই গানের অ্যাপিল রচনা আর কে করবেন? একথা নচিকেতা ঘোষই জানতেন। এখানেই শেষ নয়। তীব্র এক শরীরী আবেদন ও প্রেমের স্পষ্ট ব্যাকুলতা ফুটে উঠেছিল আর এক গানে, ‘মরি মরি এ কী লজ্জা... ওগো তুমি না এলে যে কাঁটাতে ভরে গো আমার ফুলের শয্যা... লজ্জা... মরি মরি এ কী লজ্জা’। এই গানের যন্ত্রানুষঙ্গ, মেজর স্কেল, মাইনর স্কেল এক অন্য মাত্রা নিয়ে এসেছিল পাড়ার পুজো প্যান্ডেলে।
সাতের দশকের নারীপুরুষ সমাজের অন্যায় ও নৈতিকতার নাম দিয়ে সংস্কারের নিগড়কে ছিন্ন করতে শুরু করেছে। তাই আর লুকোছাপা নয়। প্রিয় বন্ধু গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারকে পাশে পেয়ে, তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধে বিগত ৫০ বছরের মধ্যে সবথেকে সাহসী যে বাংলা গান উপহার দিয়েছিলেন নচিকেতা ঘোষ— ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি করবই তো!’ গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের সমাজচেতনার সঙ্গে শব্দচয়নের প্রতিভা অবিস্মরণীয়। ১৯৬১ সালে তিনি লিখেছেন স্বপ্নের এক রোমান্সযাত্রা, ‘যদি পৃথিবীটা স্বপ্নের দেশ হয়... তবে কেমন হত তুমি বলো তো’। আর ‘মৌচাকে’ এসে ১৩ বছর পর তিনি লিখছেন, ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি...।’ 
বাংলা গানের জগতে দুই প্রধান নক্ষত্র হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং মান্না দে। উভয়েই যে সংগীত পরিচালকদের কাছে সমানভাবে অবিস্মরণীয় গান উপহার পেয়েছেন, সেই বিরল তালিকার অন্যতম নচিকেতা ঘোষ। সুরব্যঞ্জনায় প্রিল্যুডে বাঁশি আর ইন্টারল্যুডের চলনে এক পথিকের ‘কোন পাখি ধরা দিতে চায়’ গানে অধরা অন্বেষণ ধরা পড়েছে হেমন্তবাবুর কণ্ঠে। আবার সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী এক ভাবগম্ভীর রচনায় আবিষ্ট হয়েছিল, ‘যদি ভাবো, এ তো খেলা নয়’। 
এবং মান্না দে! ‘আজ কেন হাহাকার করো...’ অথবা ‘কী এমন দুঃখকে সয়েছো যে তুমি সুখের সাগরে ভাসবে...’ উচ্চারণগুলি মনে পড়লে যেন এক অপার্থিব শিহরণ সৃষ্টি হয়। তবু এসবকে সরিয়ে রেখে যদি চারটি সিনেমাকে বাছাই করা যায়, তাহলে মান্না দের প্রতিভাকে কীভাবে বিশ্বজগতের কাছে উদ্ভাসিত করেছেন নচিকেতা ঘোষ তার কিছু আভাস পাওয়া যায়। ‘সন্ন্যাসী রাজা’, ‘স্ত্রী’, ‘নিশিপদ্ম’ এবং ‘মৌচাক’। ভালোবাসার আগুন জ্বালিয়ে ঝাড়বাতিকে একবার নিভিয়ে দিচ্ছেন মান্না দে। আবার হাজার টাকার ঝাড়বাতি দিয়ে রাতকে দিনও করেছেন। কোথাও তিনি নটবরকে বলছেন, আজ রাতে আর যাত্রা দেখতে যাবেন না। কখনও মান্না দে’র কণ্ঠে মালা গেঁথেছেন নচিকেতা ঘোষ, ‘যা খুশি ওরা বলে বলুক...’। আবহমানকালের এক নির্মল যৌবনের গান উপহার দিয়েছেন বাঙালিকে, ‘পাগলা গারদ কোথায় আছে...।’ ‘সন্ন্যাসী রাজা’য় নচিকেতা ঘোষ চ্যাম্পিয়ন করে দিয়েছেন মান্না দে’কে। রাজার কণ্ঠে। কিন্তু রাজার পরিবর্তে পর্দায় সন্ন্যাসীর আগমন যখন ঘটল? তখন? হেমন্তবাবু ছাড়া কে গাইবেন ‘কা তব কান্তা কস্তে পুত্রাঃ?’ রাজ্যের সিঙ্গল স্ক্রিন প্রেক্ষাগৃহগুলি যেন ওই গানে নিমেষে হয়ে উঠল, এক ধর্মসংগীতের প্রার্থনাস্থল! 
নচিকেতা ঘোষ। কাগজে নয়। পাথরে নয়। বাংলা গানের সুরের মহাকাশের হৃদয়ে লেখা রয়েছে তাঁর নাম। তা‌ই ঩‘সে নাম রয়ে যাবে...’। 
 অঙ্কন : সুব্রত মাজী
 গ্রাফিক্স : সোমনাথ পাল
 সহযোগিতায় : উজ্জ্বল দাস

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ