সংবাদদাতা, কান্দি: বালি কারবারিদের দাপটে নিজের জমিতে যেতেও ভয় পাচ্ছেন চাষিরা। ভরতপুর-১ ব্লকের তালগ্রামে কুয়ে নদী লাগোয়া এলাকায় এমনই অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি জমির মালিক ও বালি কারবারিদের মধ্যে হাতাহাতির পর কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বালি কারবারিরা কুয়ে নদীর বুকে একাধিক গভীর গর্ত খোঁড়ায় এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।
ভরতপুর-১ ব্লকের উপর দিয়ে ময়ূরাক্ষী ও কুয়ে নদী বয়ে গিয়েছে। দু’টি নদীতে কয়েকটি সরকারি বালি খাদান থাকলেও তার বাইরেও বিভিন্ন জায়গা থেকে বালি তোলা হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে সেই বালি পাচার চলছে। নানা সময়ে এনিয়ে বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু তারপরও এটা বন্ধ হয়নি।
ভরতপুর-১ এর বিএলএলআরও আনন্দমোহন মাইতি বলেন, সীমানা নির্ধারণ করার আধুনিক যন্ত্র আমাদের হাতে এসে না পৌঁছনোয় এই সমস্যা হচ্ছে। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
কুয়ে নদীর তালগ্রামের কাছে একটি বালি খাদান রয়েছে। লিজ হোল্ডার হানিফ শেখ। এলাকায় দেখা গেল, ওই খাদানের বাইরেও নদীগর্ভে একাধিক গভীর গর্ত খোঁড়া হয়েছে। স্যান্ড ড্রিলিং মেশিন দিয়ে নদী থেকে বালি তোলায় এমন গর্ত হয়েছে। আগামী বর্ষায় এর প্রভাব নদীবাঁধে পড়তে পারে বলে স্থানীয়দের দাবি।
নদীবক্ষের পাশাপাশি ওই এলাকায় কৃষিজমি কেটে বালি তোলার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এনিয়ে জমি মালিকদের সঙ্গে বালি কারবারিদের হাতাহাতি হয়। পুলিস দু’পক্ষের নামেই মামলা দায়ের করেছে। কিন্তু তারপরও সমস্যা মেটেনি। জমি মালিকরা জানান, বালি কারবারিদের কারণে নিজের জমির কাছেও যেতে ভয় করছে। জমির কাছে গেলেই উত্তেজনা বাড়ছে। এক জমি মালিক বলেন, আমাদের পাশের জমি থেকে ওরা বালি তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে আমাদের জমিও ধসে পড়ছে। এনিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে সংঘর্ষ ঘটে। এখন নিজের জমিও দেখতে যেতে পারছি না।
অপর এক জমি মালিক বলেন, বালি মাফিয়া সহ একশ্রেণির প্রভাবশালী আমাদের জমির কাছে যেতে বারণ করেছে। এনিয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও লাভ হয়নি।
লিজ হোল্ডার হানিফ শেখ বলেন, আমি আমার নির্দিষ্ট এলাকায় বালি তুলি। ওই জমির মালিকরা যা বলছেন, সেটা সঠিক নয়। আমরাই জমি মালিকদের হাতে আক্রান্ত। ব্যবসা করতে এসেছি, সংঘর্ষ করতে আসিনি। -নিজস্ব চিত্র