নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: বাল্যবিবাহ রুখতে লাগাতার সচেতনতা শিবির, কন্যাশ্রীর মতো প্রকল্পের সুফল মিলছে হাতেনাতে। স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে নিজেই নিজের বিয়ে রুখল রায়গঞ্জ ব্লকের দেবীনগর প্রমদা সুন্দরী গার্লস হাইস্কুলের এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছাত্রী। গোটা ঘটনায় সেই কন্যাশ্রীকে ঘিরে আপ্লুত স্কুল কর্তৃপক্ষ। যা স্কুলের অন্যান্য ছাত্রীদের কাছেও নজির হয়ে রইল।
ঘটনাটির সূত্রপাত কয়েক দিন আগে হলেও, ছাত্রীটি স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায় শুক্রবার। তারপর দেরি না করে রায়গঞ্জের বিডিও, পুলিস, প্রশাসন সকলের কাছেই বিষয়টি জানান স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মালঞ্চ গঙ্গোপাধ্যায়। আইনগত দিক সহ অল্পবয়সে বিয়ের নেতিবাচক দিক নিয়ে অভিভাবকদের বুঝিয়ে অবশেষে ছাত্রীর বিয়ে আটকায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন।
ছাত্রীর বক্তব্য, বড় হয়ে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন আমার। কিন্তু পরিবার থেকে আচমকা বিয়ে ঠিক করা হয়। কিন্তু অসময়ের এই বিয়েতে আমি রাজি নই। সেই বিষয়টি আমি আমার স্কুলে জানাই। স্কুল কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে তৎক্ষণাৎ এগিয়ে আসে। আমার অভিভাবকদের বোঝায়। গ্রামে পুলিস আসে। শেষ পর্যন্ত বিয়ে আটকায়।
স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা বলেন, এক ছাত্রী শুক্রবার চিঠি দিয়ে জানায়, তাকে তার অমতে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ৬ এপ্রিল বিয়ে ঠিক হয়েছে। তারপর আমায় ফোন করে যোগাযোগ করে। অভিভাবক সহ মেয়েটিকে স্কুলে ডেকে পাঠাই। পুলিস, প্রশাসন সহ বড়ুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ভবনন্দ বর্মনকে বিষয়টি জানাই। তারপর ওই গ্রামে গিয়ে এলাকবাসীদের বোঝানো হয়। শেষে সমস্যার সমাধান হয়।
সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয়, মেয়েটি নিজেই উদ্যোগী হয়ে নিজের বিয়ে রুখেছে। সেটাই স্কুলের জন্য নজির হয়ে থাকল। প্রধান শিক্ষিকার কথায়, ছাত্রীটি সত্যিই কন্যাশ্রী। স্কুলের অন্যান্য পড়ুয়াদের তাকে দেখে শেখা উচিত।
পঞ্চায়েত প্রধান ভবানন্দ বলেন, স্কুল থেকে আমাকে বিষয়টি জানানোর পর উদ্যোগী হই। পুলিশ প্রশাসন ও চাইল্ড লাইনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে গ্রামে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে এই বিয়ে রোখা হয়।