নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে চাকরি বাতিলের রায়ে উত্তর দিনাজপুর জেলাজুড়ে হাহুতাশ চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে। জেলার প্রায় ৭০০ জনের চাকরি গিয়েছে বলে খবর জেলা মাধ্যমিক স্কুল পরিদর্শকের দপ্তরের।
নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে চাকরি বাতিলের রায়ে উত্তর দিনাজপুর জেলাজুড়ে হাহুতাশ চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে। জেলার প্রায় ৭০০ জনের চাকরি গিয়েছে বলে খবর জেলা মাধ্যমিক স্কুল পরিদর্শকের দপ্তরের।
প্রতিদিনের মতো শিক্ষক, শিক্ষিকারা বৃহস্পতিবার স্কুলে ক্লাস করানোর সময়ই সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিষয়ে শোনেন। বেশিরভাগই মুষড়ে পড়েন চাকরি বাতিলের এই রায় শুনে। কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে।
দেবীনগর কৈলাশচন্দ্র রাধারানি বিদ্যাপীঠের দু’জন শিক্ষিকার চাকরি গিয়েছে। চাকরিহারা ওই শিক্ষিকা কৃষ্ণমৃত্তিকা নাথের বক্তব্য, আমার বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনায় হলেও চাকরি সূত্রে রায়গঞ্জে থাকি। সজল নয়নে তাঁর মন্তব্য, এদিন ক্লাস করতে গিয়ে চাকরি বাতিলের বিষয়টি শুনি। চরম সমস্যায় পড়লাম। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পূর্ণ করেছি। ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছিলাম। রাজ্যপালের কাছ থেকে গোল্ড মেডেলও নিয়েছি। ওই স্কুলেরই চাকরিহারা আরেক শিক্ষিকা প্রিয়াঙ্কা গুহর কথায়,আদালতের রায়ে আমরা মানসিকভাবে চরম বিধ্বস্ত। অন্যদিকে, কালিয়াগঞ্জে পার্বতী সুন্দরী হাইস্কুলের ১৩ জন, হেমতাবাদের ভরতপুর হাইস্কুলের সাত শিক্ষকের চাকরি গিয়েছে।
এদিকে চরম বিপাকে চোপড়া গার্লস হাইস্কুল এবং চোপড়া হাইস্কুল। চোপড়া গার্লস হাইস্কুলে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্কুলের শিক্ষিকারা। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মিলি সান্যাল জানিয়েছেন, প্রায় ৩৩০০ ছাত্রী স্কুলে পড়ে। নয়জন শিক্ষিকার চাকরি চলে যাওয়ায় স্কুল বিপদে পড়বে। কারণ তাঁদের মধ্যে পাঁচজন বিজ্ঞানের শিক্ষিকা ছিলেন। চোপড়া হাইস্কুলের আটজনের চাকরি গিয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল রহমানের কন্যা রোশনারা বেগম সহ ব্লকে প্রায় ৪০ জনেরও বেশি শিক্ষক, শিক্ষিকা চাকরি হারিয়েছেন। বিধায়ক কন্যা কালিয়াগঞ্জ হাইস্কুলের ইংরেজির শিক্ষিকা ছিলেন।
ইটাহার হাইস্কুলে সাত, ইটাহার উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে চার,শিবরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে তিন, চুরামন প্রহ্লাদ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই, বানবোল উচ্চ বিদ্যালয়ে চার, দুর্গাপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে দুই, মারনাই চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় পাঁচ, বৈদড়া উচ্চ বিদ্যালয় চারজন, কাপাশিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে আট শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। স্কুলের একাধিক শিক্ষক, শিক্ষিকার চাকরি বাতিল হওয়া নিয়ে ইটাহার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুব্রত নারায়ণ ধর বলেন, এখন স্কুল কীভাবে চলবে, সেটাই চিন্তার বিষয়। চোখে জল কৃষ্ণমৃত্তিকা নাথের। - নিজস্ব চিত্র।