নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিম্ন দামোদর বন্যানিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কাজ আগামী নভেম্বরের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। আশা করছে রাজ্য সেচদপ্তর। ডিভিসির বাঁধগুলি থেকে ছাড়া মাত্রাতিরিক্ত জলের জন্য নিম্ন দামোদর এলাকার পূর্ব বর্ধমান, হুগলি ও হাওড়া জেলার বিরাট অংশে ভয়াবহ বন্যা হয়। সেটির নিয়ন্ত্রণে এই প্রকল্প বিশেষ কার্যকরী হবে। মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এই প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই যতটা হয়েছে, তাতেই বন্যার প্রকোপ কমানো সম্ভব হয়েছে অনেকটাই। দাবি সেচ দপ্তরের। সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া আরও জানান, গতবছর বন্যার সময় ডিভিসি রেকর্ড পরিমাণ (প্রায় ৫ লক্ষ কিউসেক হারে) জল ছেড়েছিল। তার ফলে হাওড়া ও হুগলি জেলার কিছু এলাকায় খানিকটা সমস্যা হয়েছিল। এবছরও বর্ষাকালে তেমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তা আরও ভালোভাবে মোকাবিলা করা হবে। তার জন্যই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে ডিভিসি সূত্রের খবর, প্রকল্পটি নিম্ন দামোদর এলাকার বন্যানিয়ন্ত্রণে খুব কার্যকরী ভূমিকা নিচ্ছে।
বিশ্ব ব্যাঙ্কের ঋণ ও রাজ্য সরকারের খরচে মোট ৩৩৫২ কোটি টাকার প্রকল্পটি (ওয়েস্ট বেঙ্গল মেজর ইরিগেশন অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট) রূপায়িত হচ্ছে। মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৭০ শতাংশ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাঙ্ক। ঋণের টাকা রাজ্য সরকারকেই সুদসহ পরিশোধ করতে হবে। ২০২০ সালের মে মাসে এই প্রকল্পের জন্য বিশ্ব ব্যাঙ্কের সঙ্গে চুক্তি হয়। তারপরেই শুরু হয় প্রকল্পের কাজ। সেচদপ্তর সূত্রের খবর, গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট প্রায় ৩০৩৯ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে ৯২ শতাংশ কাজ।
নিম্ন দামোদর এলাকার তিনটি জেলার বন্যানিয়ন্ত্রণে এই প্রকল্পটি বিশেষভাবে কার্যকরী তো হবেই। তিনটি জেলার ১৭টি ব্লক এবং একটি পুরসভার বন্যাপ্রবণ এলাকার ১৭ লক্ষ মানুষ সুবিধা পাবেন। এর পাশাপাশি এই তিন জেলা ছাড়াও পশ্চিম বর্ধমান ও বাঁকুড়া জেলায় সেচের সুবিধা সম্প্রসারিত হবে। শুধুমাত্র ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ৩৪৮টি সেচের জলনিয়ন্ত্রক কাঠামো ও ৬২০টি আউটলেট গেট নির্মাণ করা হয়েছে। এই কাজের ফলে মোট ১ লক্ষ ২৪ একর জমি সেচের আওতায় এসেছে। প্রকল্পটির ফলে সব মিলিয়ে পাঁচটি জেলার ৪২টি ব্লকে ৯ লক্ষ ২৯ হাজার একর জমিতে সেচের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পটির কাজ চলার মধ্যেই বন্যার দুর্ভোগ আগের তুলনায় অনেকটা কমেছে বলে তথ্য ও পরিসংখ্যানসহ দাবি করেছে সেচদপ্তর। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষেই ১৪.৬০ কিমি দীর্ঘ নদীবাঁধের সংস্কার করা হয়েছে। পলি তোলা হয়েছে ২০ কিমি দীর্ঘ নিকাশি খালের। নতুন ব্রিজ করা হয়েছে ৩০টি। গত সেপ্টেম্বরে ব্যাপক বৃষ্টি এবং ডিভিসির ছাড়া জলে ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। তা সত্ত্বেও প্লাবন এবং নদীবাঁধের ভাঙন প্রতিরোধ করা গিয়েছে। প্রকল্পটির আশীর্বাদে জলও নেমে গিয়েছে দ্রুত।