Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তৃণমূল নেতার স্ত্রীর নামে লোন ৫৯ লক্ষ অডিটে অনিয়ম ধরা পড়ায় তড়িঘড়ি শোধ ২৮ লক্ষ

নন্দকুমার ব্লকের ব্যবত্তারহাট কো-অপারেটিভ এগ্রিকালচার ক্রেডিট সোসাইটি থেকে তিনি লোন পেয়েছেন ৫৯লক্ষ টাকা

তৃণমূল নেতার স্ত্রীর নামে লোন ৫৯ লক্ষ  অডিটে অনিয়ম ধরা পড়ায় তড়িঘড়ি শোধ ২৮ লক্ষ
  • ২৩ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: তৃণমূল নেতার স্ত্রীর বার্ষিক আয় শূন্য‌। আয়কর মেটান না। অথচ, নন্দকুমার ব্লকের ব্যবত্তারহাট কো-অপারেটিভ এগ্রিকালচার ক্রেডিট সোসাইটি থেকে তিনি লোন পেয়েছেন ৫৯লক্ষ টাকা। ব্যবত্তারহাট পশ্চিম অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি শিবপ্রসাদ সামন্ত ওই সমবায়ের বোর্ডের সম্পাদক। সমিতি থেকে লোন মঞ্জুর করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট গাইডলাইন রয়েছে। কিন্তু, ন্যূনতম সিকিউরিটি ডিপোজিট ছাড়াই তাঁরই স্ত্রীকে বিপুল টাকার লোন দেওয়া হয়েছে। তাতে কোনও নিয়ম মানা হয়নি। ওই তৃণমূল নেতা ও তাঁর স্ত্রী মোট ৯০লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছেন। এই মুহূর্তে দু’জনে খাতায় কলমে ঋণখেলাপি। তাঁদের কাছ থেকে সমিতির পাওনা ১কোটি দু’লক্ষ টাকা। বিষয়টি অডিটে উঠে আসার পরই হইচই পড়ে যায়। ৩১মার্চের মধ্যে সব টাকা শোধ করার জন্য তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়। চলতি সপ্তাহে তিনি ২৮লক্ষ টাকা শোধ করেছেন।

Advertisement

শিবপ্রসাদবাবু বলেন, ৩১মার্চের মধ্যে আমি ১কোটি দুই লক্ষ টাকা শোধ করব। আপাতত ২৮লক্ষ টাকা শোধ করেছি। বাকি টাকাও শোধ করে দেব। স্ত্রীর এলআইসির নথিপত্র, সম্পত্তির কাগজপত্র বন্ধক রেখে লোন হয়েছিল। তবে অডিট বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় আমি সব টাকা ৩১মার্চের মধ্যে শোধ করার পরিকল্পনা নিয়েছি। 
অভিযোগ, ওই সমবায় সমিতির পরিচালন কমিটির পদে থেকে প্রভাব খাটিয়ে শিবপ্রসাদবাবু নিজের ও স্ত্রীর নামে ৯০লক্ষ টাকা লোন মঞ্জুর করিয়েছেন। এই লোনের জন্য ন্যূনতম নিয়ম মানা হয়নি। সম্প্রতি অডিটে বিষয়টি ধরা পড়েছে। শুধু তাই নয়, ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙিয়ে সমবায় সমিতির নামে তমলুক শহরে দুই জায়গায় জমি কেনা হয়েছে। তারজন্য খরচ দেখানো হয়েছে সাত কোটি টাকা। ওই জমি কিনতেই কমিশন বাবদ খরচ দু’কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। অডিট টিম জমি কেনায় মোটা কমিশন এবং ন্যূনতম সিকিউরিটি ছাড়া ঋণ দেওয়ার ঘটনায় সমিতি থেকে কৈফিয়ত তলব করে। শুধু তাই নয়, ওই দুই ঘটনায় রাজ্য সমবায় দপ্তরের নির্দেশে তমলুকের এআরসিএস অফিস ওই সমিতি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তমলুক রেঞ্জের এআরসিএস তিন সদস্যের টিম গড়েছেন। সেই টিম তদন্ত শুরু করতেই সম্পাদকের উপর চাপ বেড়েছে।
জানা গিয়েছে, সমবায় সমিতির নামে তমলুক শহরে কেনা ৪৫ডেসিমল জমিও বিক্রি করা হবে। বোর্ডের মিটিংয়ে ওই জমি বিক্রি করা হবে বলে ঠিক হয়েছে। তবে, ওই জমি বিক্রি করে সাত কোটি টাকা আসবে না। তাহলে লোকসানের দায়ভার কে নেবে? এনিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে যাতে জমি বিক্রি করা হয় সেব্যাপারে ওই সমবায় সমিতিকে নির্দেশ দিয়েছে তমলুক-ঘাটাল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক। আর্থিক লোকসানের হাত থেকে ওই সমবায় বাঁচানোর সবরকম চেষ্টা চলছে। লোন মঞ্জুর এবং জমি কেনা নিয়ে যেসব ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছিল তা সংশোধন করে সমিতিকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ