Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

লক্ষ্মীর বেশে ঘাটাল থেকে ধর্মতলায় লক্ষ্মীকান্ত মমতা সেজে সভাস্থলে এলেন নদীয়ার সঙ্গীতা

কেউ লক্ষ্মী ঠাকুর হয়েছেন। কেউ সাদা শাড়ি পরে সেজেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেউ হয়েছেন স্ট্যাচু। কেউ এসেছেন শাহরুখ খানের মতো পোশাকে।

লক্ষ্মীর বেশে ঘাটাল থেকে ধর্মতলায় লক্ষ্মীকান্ত মমতা সেজে সভাস্থলে এলেন নদীয়ার সঙ্গীতা
  • ২২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্ক দে, কলকাতা: কেউ লক্ষ্মী ঠাকুর হয়েছেন। কেউ সাদা শাড়ি পরে সেজেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেউ হয়েছেন স্ট্যাচু। কেউ এসেছেন শাহরুখ খানের মতো পোশাকে। একুশের সভাস্থল এমনিতেই রঙিন। আরও রঙিন করে তুললেন এঁরা। তৃণমূল কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ছবি তোলার দাবি তোলার আবদার মেটালেন অকাতরে। ধর্মতলা চত্বরে দেখা মিলল এরকম অনেক শ্রীনাথ বহুরূপীর। তাঁদের ঘিরে মোবাইলে সেলফি ও ছবি তোলার কার্যত হিড়িক।

Advertisement

লক্ষ্ণীর ভাণ্ডার হাতে ধর্মতলায় উপস্থিত লক্ষ্মী ঠাকুর স্বয়ং। যিনি লক্ষ্ণী সেজেছেন তাঁর নামও লক্ষ্মী। ঘাটালের বাসিন্দা লক্ষীকান্ত কর্মকার, তিনি শাড়ি-গয়না পরে লক্ষ্মী ঠাকুর সেজে একুশের সভায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার যে অসামান্য তা অনবরত প্রচার করে গেলেন। তৃণমূলের শহীদ দিবস পালনের অনুষ্ঠানে ধর্মতলায় সকলের নজর কাড়লেন এই বহুরূপী। তাঁর এক হাতে ঘট, অন্য হাতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্ল্যাকার্ড। মানুষটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্ধভক্ত। বলেন, ‘দিদি গরিবের কথা ভেবে এই প্রকল্প করেছেন। এটি অনবদ্য।’ তাই বিভিন্ন নির্বাচনের সময় গ্রামে গ্রামে ঘুরে তিনি এভাবেই বহুরূপী সেজে প্রচার চালিয়েছেন। ঝড় হোক, বন্যা হোক, যাই হোক, প্রতিবছর একুশে জুলাইয়ের সভায় আসেনই আসেন লক্ষ্মীকান্ত।
তাঁর একটু দূরে গায়ে সোনালি রং লাগিয়ে স্ট্যাচু হয়ে দাঁড়িয়ে গোপাল মণ্ডল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি থেকে এসেছেন। মাথায় সাজিয়ে রেখেছেন কাঠের ফ্রেম। তাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা। ফ্রেমের একদিকে রবীন্দ্রনাথ-নজরুল ইসলামের ছবি। অন্যদিকে দীঘার জগন্নাথ মন্দির ও দিল্লির জামা মসজিদের ছবি। আর ধরে রেখেছেন রামকৃষ্ণ-সারদার ছবি দেওয়া কাঠামো। তাঁকে ঘিরে ভিড় চোখে পড়ার মতো। কেউ তুললেন ছবি। কেউ সেলফি। কম বয়সের ছেলেমেয়েদের মধ্যে সেলফি তোলার হিড়িক ছিল তাঁকে ঘিরে। গোপালবাবু জানান, প্রতিবছরই মানুষের মনোরঞ্জনে স্ট্যাচু সেজে আসেন একুশের সভাস্থলে।
তবে অনেকের নজর কাড়লেন সঙ্গীতা সামন্ত। মমতা সেজে এসেছিলেন সভাস্থলে। তিনি নবদ্বীপের বাসিন্দা। পেশায় তাঁতশিল্পী। নিজের হাতে বুনেছেন নীলপাড় সাদা শাড়ি। পায়ে গলিয়েছেন সাদা হাওয়াই চপ্পল। দূর থেকে তাঁকে ভিড়ের মধ্যে দেখে চমকে গিয়েছেন সকলে। কাছে এসে ভুল ভেঙেছে। নবদ্বীপ থেকে প্রথমে হাওড়া স্টেশন। তারপর সেখান থেকে হুডখোলা জিপে মমতার মতোই সকলের উদ্দেশে হাত জড়ো করে নমস্কার জানাতে জানাতে বা হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানাতে জানাতে ধর্মতলায় আসেন। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নদিয়া জেলার কর্মী-সমর্থকরা। তাঁর সঙ্গেও দেখা গিয়েছে ছবি তোলার হিড়িক। এর পাশাপাশি বোলপুর থেকে শাহরুখ খান সেজে আসা বহুরূপীও নজর কেড়েছে সকলের।
সবমিলিয়ে সোমবার নানা রঙে রঙিন হয়ে উঠেছিল ধর্মতলা। ঢাক-ঢোল সহযোগে মিছিল হোক কিংবা ছৌ-নাচ, সবমিলিয়ে গোটা রাজ্যের টুকরো টুকরো ছবি ছড়িয়ে ছিল শহরের প্রাণকেন্দ্রে। যাঁর যেমন পছন্দ, কেউ ক্যামেরাবন্দি করেছেন, কেউ যত্ন করে রেখে দিয়েছেন স্মৃতিতে।  নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ