নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: হাওড়ায় ডাম্পিং গ্রাউন্ডে বিপর্যয়ের পর উদ্বেগে খনি শহর আসানসোল। এমনিতেই খনি অঞ্চল হওয়ায় ধসের আতঙ্কে থাকেন মানুষ। তার উপর আসানসোলের কালিপাহাড়ীতে রয়েছে জঞ্জালের পাহাড়। সবচেয়ে উদ্বেগের, ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের দু’ পাশজুড়ে রয়েছে এই ডাম্পিং গ্রাউন্ড। তাই বেলগাছিয়ার মতো ঘটনা কালিপাহাড়ীতে ঘটলে ধসে যেতে পারে জাতীয় সড়ক। বিষয়টি উপলব্ধি করে জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক হতে চলেছে আসানসোল পুরসভায়। ডাম্পিং গ্রাউন্ডটি কী অবস্থায় রয়েছে, সেখানে এই ধরনের বিপর্যয়ের সম্ভবনা আছে কি না, তা নিয়ে খতিয়ে দেখা হবে।
আসনাসোল পুরসভার মেয়র বিধান উপাধ্যায় বলেন, কালিপাহাড়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড কী অবস্থা রয়েছে তা আমরা পর্যালোচনা করব। এখানে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ চলছে। একটি এজেন্সিই রাজ্যের সব ডাম্পিং গ্রাউন্ডের কাজ করায় কাজের গতি মন্থর। যাতে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের কাজে গতি আনা যায় তাঁর উদ্যোগ নেওয়া হবে। আসানসোল পুরসভার সচিব শুভজিৎ বসু বলেন, মাঝে মধ্যে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে আগুন লাগে। সেই কারণে আমরা দমকলকে সতর্ক করে রেখেছি। জলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা আছে।
হাওড়ার বেলগাছিয়ার ঘটনায় রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে রাজ্যে। সেখানে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের এলাকায় ব্যাপক ধস নেমেছে। যার জেরে জল প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত। বাড়িঘর, রাস্তা ভেঙে চৌচির। যেন ভূমিকম্প বিধ্বস্ত এলাকা। এই ঘটনা আসানসোলের কালিপাহাড়ীবাসীকে মনে করিয়ে দিয়েছে ২০০৭ সালের ঘটনা। তৎকালীন ২ নম্বর (অধুনা ১৯ নম্বর) জাতীয় সড়কে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের ঠিক পাশেই বড় ধস নেমেছিল। যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখার জন্য বিকল্প রাস্তা তৈরি করতে হয়েছিল। সেই সময়ে প্রশ্ন উঠেছিল, খনি অঞ্চল বলে ধস, নাকি ডাম্পিং গ্রাউন্ডে মাটির তলায় সৃষ্টি মিথেন গ্যাসে জন্য এই ঘটনা। তারপর কেটে গিয়েছে ১৮ বছর। পাহাড় প্রমাণ আবর্জনার স্তূপ থেকেই গিয়েছে কালিপাহাড়ীতে। যার অদূরে রয়েছে বসতি এলাকাও। এমনকী জাতীয় সড়কের পাশে রয়েছে একটি হোলসেল মার্কেট কমপ্লেক্স। শহরের প্রবেশ পথেই বিপদের গন্ধ উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, বিভিন্ন ডাম্পিং গ্রাউন্ডে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে পুরদপ্তর। হাওড়াতেও তিনটি আবর্জনার পাহাড় ছিল, তারমধ্যে একটি পাহাড় শেষ হয়েছে এই প্রকল্পের কাজের জন্য। অনেকের মতে, হঠাৎ টন টন অর্বজনার চাপ কমে যাওয়ার জন্যও এই ঘটনা হয়ে থাকতে পারে। আসানসোলেও ঠিক একই ভাবে কাজ হচ্ছে। তাই সেই সম্ভবনা এখানেও থাকতে পারে বলে অনেকের অভিমত। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতেই পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রেখেছে পুরসভা। প্রয়োজনে এলাকার মাটির পরীক্ষাও করানো হবে বলে জানা গিয়েছে। -নিজস্ব চিত্র