স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: আপনার কোনও এক পরিচিত ব্যক্তি আপনাকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করলেন। তিনি জানালেন, ‘ভুল করে তোমার মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি চলে গিয়েছে। একটু বলবে দয়া করে?’ আপনি নিশ্চয়ই কোনওদিক না ভেবে সেই পরিচিত ব্যক্তিকে ওটিপি–টি শেয়ার করে দেবেন। কিন্তু এটিই হল বড়সড় একটি জালিয়াতির ফাঁদ। যার নাম, ‘হোয়াটসঅ্যাপ ওটিপি প্রতারণা’। লালবাজারের গোয়েন্দারা সাধারণ মানুষকে সতর্ক ও সচেতন করে বলছেন, ‘যে ব্যক্তি পরিচিত সেজে আপনাকে মেসেজ করে ওটিপি চাইছে, সে আদতে জালিয়াত।’ এ ধরনের জালিয়াতি কীভাবে হয়, কীভাবে এর থেকে রেহাই পাওয়া যায় — সম্প্রতি কলকাতা পুলিশের ‘সাইবার সেফ কলকাতা’ হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে ইত্যাদির বিস্তারিত বর্ণনা করেছে লালবাজার।
পুলিশ জানাচ্ছে, প্রথমে কোনও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর পরিচিত সেজে তাঁকে মেসেজ করে প্রতারক। সে জানায়, ‘ভুল করে আপনার মোবাইলে একটি ওটিপি চলে গিয়েছে।’ তখন নিরিহ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী কিছু না ভেবেই প্রতারকের সঙ্গে সেই ওটিপি শেয়ার করে দেন। তারপরেই ঘটে যায় বিপত্তি। ওই ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হাতের মুঠোয় পেয়ে যায় সাইবার অপরাধী। এই হোয়াটসঅ্যাপ ওটিপি জালিয়াতি বিপজ্জনক কেন? গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, কোনও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার পর হ্যাকার একইভাবে ওটিপি জালিয়াতি চালিয়ে যেতে পারে। সে চাইলে ওই ব্যক্তির গোপন চ্যাট ও সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা টাকা চাইতে পারে। আবার ওই প্রতারক ‘শিকার’ হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর পরিচিতদের মেসেজ করে তাঁদের থেকেও নানা অজুহাতে টাকা চাইতে পারে।
এ ধরনের জালিয়াতির হাত থেকে কী করণীয়, তাও জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ। তাদের পরামর্শ, ‘কোনও ব্যক্তি আপনার যতই পরিচিত হোক না কেন, কাউর সঙ্গে ওটিপি শেয়ার করবেন না। হোয়াটসঅ্যাপে সবসময় ‘টু–স্টেপ ভেরিফিকেশন’ চালু করে রাখুন। কোনও বন্ধুর মেসেজ পড়ে যদি সন্দেহ হয়, তবে সরাসরি তাঁকে ফোন করুন। যদি কোনওভাবে আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে যায়, তবে সেটি পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকুন এবং পরিচিতদের হ্যাক হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে দিন।’ কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘সাইবার অপরাধের শিকার হলে এবার থেকে পুলিশের পাশাপাশি ‘ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল’ (এনসিআরপি)–এ অভিযোগ দায়ের করা আবশ্যিক করা হয়েছে। ১৯৩০ নম্বরে ফোন করে অথবা https://cybercrime.gov.in/ — এই ওয়েবসাইটে গিয়ে অভিযোগ জানানো যাবে। অভিযোগকারীদের সুবিধার্থে পুলিশও তাঁদের সহযোগিতা করবেন।’