নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ১০ বছর আগে মৃত ব্যক্তির নামে পিটিশন জমা করায় বিচারকের রোষে পড়লেন আইনজীবী, নোটারির আধিকারিক এবং ল-ক্লার্ক। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার কৃষ্ণনগর আদালতে মৃত ব্যক্তির নামে হলফনামা সহকারে মামলা দাখিলের ঘটনা সামনে এল। এনিয়ে কৃষ্ণনগর আদালতে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। সেজন্য আইনজীবী হরিদাস প্রামাণিক, নোটারির আধিকারিক সুনন্দন সরকার এবং ল-ক্লার্ক শ্রীনিবাস সরকারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠিয়েছেন বিচারক দিব্যেন্দু দাস। সেইসঙ্গে বার কাউন্সিলের কাছেও এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। এর আগেও মৃত ব্যক্তির নামে মামলা দাখিলের ঘটনায় নোটারি আধিকারিক সুনন্দন সরকারের নাম জড়িয়েছিল।
এব্যাপারে সুনন্দনবাবুকে ফোন করা হলে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, এইসব ব্যাপার নিয়ে কেন মাতামাতি করছেন? আপনাদের নোটিশ পাঠানো হবে। আমি কিছুই জানি না। মামলা সংক্রান্ত ব্যাপারে একজন নোটারি অফিসারের কাছে সবাই আসেন। কে কার জায়গায় এফিডেভিট করিয়ে এনেছেন তা কি একজন অফিসারের পক্ষে দেখা সম্ভব? আইনজীবী হরিদাস প্রামাণিক বলেন, মামলা করার পর অনেক সময় দেখা যায় কেউ মারা গিয়েছে। কিন্তু, বাড়ির লোক তা জানায়নি। এখন বার অ্যাসোসিয়েশন সিদ্ধান্ত নেবে। আইনজীবী সংগঠন ফোব্যাকের সম্পাদক দেবাশিস রায় বলেন, আইনগতভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের ২৮ এপ্রিল সম্পত্তি বিবাদ নিয়ে একটা মামলা হয়েছিল মোহন সাঁতরা নামে এক ব্যক্তির নামে। অথচ মোহন সাঁতরা নামে ওই মামলাকারী ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি মারা গিয়েছেন। যা চাপড়া থানা, কৃষ্ণনগর পুরসভার জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্তকরণ বিভাগ এবং জেলা হাসপাতাল নিশ্চিত করেছে। মৃত্যুর তারিখটা হল মামলা হওয়ার দশ বছরেরও বেশি সময় আগেকার। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে যে ১০ বছর আগে মৃত ব্যক্তি মামলার আবেদনপত্র এবং হলফনামা কীভাবে প্রদান করলেন? এমনকি ওই মৃত ব্যক্তিকে এলটিআই ল-ক্লার্ক শ্রীনিবাস সরকার শনাক্ত করেছেন। নোটারি করেছেন সুনন্দন সরকার। মামলা দায়ের করেছেন আইনজীবী হরিদাস প্রামাণিক। এই ধরনের আচরণ আদালত অপ্রত্যাশিত হিসেবেই দেখছে।