Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

শিশুকে ভালো রাখুন গরমে

একে প্রবল গরম। তার সঙ্গে অনিয়ম করলে ফল হবে ভয়ঙ্কর। বাচ্চা রোদ্দুর থেকে বাড়িতে ঢুকলে সঙ্গে সঙ্গে স্নান করতে চলে যায় বা এসি ঘরে চলে যায়— এটাই সবথেকে বড় ভুল।

শিশুকে  ভালো রাখুন গরমে
  • ২৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

রোদ্দুর থেকে শিশুকে রক্ষা করতে কী করবেন? পরামর্শ দিলেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সহেলি দাশগুপ্ত।

Advertisement

একে প্রবল গরম। তার সঙ্গে অনিয়ম করলে ফল হবে ভয়ঙ্কর। বাচ্চা রোদ্দুর থেকে বাড়িতে ঢুকলে সঙ্গে সঙ্গে স্নান করতে চলে যায় বা এসি ঘরে চলে যায়— এটাই সবথেকে বড় ভুল। আমাদের মনে রাখতে হবে তাপমাত্রার পার্থক্য যখনই খুব বেশি হয় তখন শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা কাজ করে না। খুব গরম থেকে ঠান্ডায় গেলে বা খুব ঠান্ডা থেকে গরমে গেলে একই সমস্যা হতে পারে। ফলে ওই সময়ই সর্দি কাশি বেশি হয়। বাচ্চা গরম থেকে এলে প্রথমে তাকে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বসাতে হবে। যে ঘরে এসি নেই, সেখানে কিছুক্ষণ বসানোর পর স্নান করতে পাঠান। 
 স্কুল থেকে রোদ্দুরের মধ্যে ফেরার পর বা 
রোদ্দুরে খেলার পর বাচ্চারা ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়। 
মাঝে জল খাওয়াতে হবে। ওআরএস বা ডাবের 
জল খাওয়াতে পারেন। শরীরে যে ইলেকট্রোলাইটস বেরিয়ে যায়, সেটা উদ্ধার করতে সাহায্য করবে এগুলো। 
 আমেরিকা অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিক গাইডলাইনে বলা হয়েছে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টোর মধ্যে রোদ্দুরের তেজ সবথেকে বেশি থাকে। এই সময়টা ক্ষতিকারক ইউভি-এ এবং ইউভি-বি সবথেকে বেশি পাওয়া যায়। এসময় সূর্যের তাপ এড়িয়ে চলাই ভালো। কিন্তু এই সময়টাই শিশুদের স্কুলে যাওয়া বা অনেকের ক্ষেত্রে স্কুল থেকে ফেরার সময়। শিশুর ছ’মাস বয়স হয়ে গেলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারে। কিছু জিনিস দেখে নিন। জেল বেসড সানস্ক্রিন বাচ্চাদের জন্য ভালো। কারণ গরমে ক্রিম বেসড সানস্ক্রিন থেকে র‌্যাশ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
 বেশি রোদে বাচ্চার হিট স্ট্রোক হতে পারে। বেশি গরমে শরীরের ভিতরের তাপমাত্রা অনেক সময় অত্যধিক বেড়ে যায়। ফলে ইলেকট্রোলাইটের ক্ষয় হয়। বাচ্চার রেনাল ফেলিওরও হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বাচ্চার খিঁচুনিও হতে পারে। হিট স্ট্রোক হলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। কীভাবে বুঝবেন? যদি দেখেন, শিশু রোদ্দুর থেকে আসার পর ঠিক মতো সাড়া দিচ্ছে না। তার প্রচণ্ড মাথা ঘুরছে। হাতে, পায়ে ব্যথা অথবা গা অত্যন্ত গরম, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। অনেক সময় হিট ক্র্যাম্প হয়। রোদে বেশিক্ষণ খেললে পায়ে ব্যথা হয়। তখন ওআরএস, ডাবের জল খাওয়ান। বাচ্চা রোদ্দুরে বেরলে তার সঙ্গে ওআরএস, জল দেবেন।
 বাচ্চা স্কুলে থাকাকালীন ঠিক মতো জল খাচ্ছে কি না, সেটাও দেখতে হবে। বাচ্চাকে সহজপাচ্য খাবার দিন। বেশি তেলমশলা জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। হজম না হলে বমি হতে পারে। ফলে বাড়ির রান্না করা খাবারই বাচ্চাকে দিন। 
 এসময় ফল খাওয়ানো দরকার। মরশুমি ফলে অনেক অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। 
 শিশুর ডায়েটে প্রতিদিন মাছ রাখুন। ফল, সব্জি খাওয়ান প্রতিদিন। পরিমিত পরিমাণ জল খাওয়াতে হবে। বাইরে বেরলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। এসময় জলবাহিত কিছু রোগও হতে পারে। যেমন হেপাটাইটিস, টাইফয়েড। সেগুলো প্রতিরোধ করার জন্য সঠিক সময় ভ্যাকসিন দিতে হবে। ফিল্টার করে জল খাওয়ান। চিকেন পক্সও এসময় হয়। এর জন্যও আগে থেকে ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। 
প্রতিদিনের রুটিনে শিশুদের বেরতেই হবে। আবার গরমও বাড়বে। এই সব সাবধানতা অবলম্বন করলে শিশুর স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ