Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

উপত্যকার গণ্ডি ছাড়িয়ে এখন উত্তর ভারতেও জনপ্রিয় কাশ্মীরি ‘ফেরান’

বেজায় ঠান্ডা। তবে জ্যাকেটে অরুচি। না পসন্দ সাধারণ শালও। শীতের ফ্যাশনে একচেটিয়া দাপট কাশ্মীরি ‘ফেরান’-এর। উপত্যকার ঐতিহ্যবাহী পোশাকই অনেকের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছে। কাশ্মীরে তো বটেই, উত্তরভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এই পোশাকে শীতযাপন করছেন তরুণীরা।

উপত্যকার গণ্ডি ছাড়িয়ে এখন উত্তর ভারতেও জনপ্রিয় কাশ্মীরি ‘ফেরান’
  • ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ফিরদৌস হাসান, শ্রীনগর: বেজায় ঠান্ডা। তবে জ্যাকেটে অরুচি। না পসন্দ সাধারণ শালও। শীতের ফ্যাশনে একচেটিয়া দাপট কাশ্মীরি ‘ফেরান’-এর। উপত্যকার ঐতিহ্যবাহী পোশাকই অনেকের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছে। কাশ্মীরে তো বটেই, উত্তরভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এই পোশাকে শীতযাপন করছেন তরুণীরা। 

Advertisement

শুধু শীতের পোশাক নয়, বরং একটি ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে এই পোশাক। শ্রীনগরের বাসিন্দা বছর ২৭-এর অনন্যা শর্মা এবছর জ্যাকেট ও শাল না পরে গাঢ় মেরুন রঙের একটি ফেরান পরেই শীত কাটিয়েছেন।  ফেরানটির উপরে থাকা সূক্ষ্ম সুতোর কাজ তাঁকে মুগ্ধ করে। অনন্যা জানান, তিনি প্রথম এই পোশাক সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছিলেন। শীতকালে পরার সাধারণ পোশাক হিসেবে অনলাইনে কিনে ফেলেন। কিন্তু হাতে নিয়ে বুঝতে পারেন, স্রেফ ঠান্ডা থেকে বাঁচার পোশাক নয়, এর আলাদা আভিজাত্য রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘ফেরান পরলে নিজেকে অন্যরকম লাগে।’ এই ভালো লাগার কারণেই বন্ধুদের জন্যও অনলাইনে আরও কয়েকটি ফেরান কিনেছেন অনন্যা। 
আগে এই ফেরান মূলত কাশ্মীরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এখন তা হিমাচল প্রদেশ, পাঞ্জাব, এমনকি দিল্লির বাজারেও পাওয়া যাচ্ছে। চণ্ডীগড়ের ব্যবসায়ী হরপ্রীত কৌর বলেন, ‘প্রথমে এক–দু’জন ক্রেতা ফেরান খোঁজ করায় তিনি সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু এখন প্রতি সপ্তাহেই ফেরান বিক্রি হচ্ছে।’ তাঁর মতে, পাঞ্জাবি মহিলারা ফেরানের আরামদায়ক অনুভূতির পাশাপাশি এর রাজকীয় ও মার্জিত চেহারা খুব পছন্দ করছেন। দিল্লির হাউজ খাস এলাকার রিয়া মালহোত্রার পড়াশোনা ফ্যাশন নিয়ে। তিনি কাশ্মীরের ফেরানের সঙ্গে মিলিয়ে বুট ও স্লিং ব্যাগ কিনেছেন। তাঁর কথায়, এখন আর শুধু শীত থেকে বাঁচাই উদ্দেশ্য নয়, বরং নিজের আলাদা স্টাইল ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করাও গুরুত্বপূর্ণ। এই ট্রেন্ড অনলাইন বাজারেও প্রভাব ফেলেছে। বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে ফেরান পাওয়া যাচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, লুধিয়ানা, অমৃতসর, মানালি এবং দিল্লি এনসিআর থেকে ফেরানের অর্ডার বেড়েছে। শ্রীনগরের ডিজাইনার সাইমা খানের কথায়, তাঁদের পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ফেরান তৈরি করে আসছে। আগে এই কাজ কাশ্মীরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এখন পাঞ্জাব ও দিল্লি থেকেও অর্ডার আসছে। এভাবে কাশ্মীরি সংস্কৃতি দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে। যা তাঁদের কাছে খুবই আনন্দের। ছবি: ইনস্টাগ্রামের সৌজন্যে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ