Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কসবা ল’কলেজে গণধর্ষণ কাণ্ড: মনোজিৎ মিশ্র সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ৫৮৩ পাতার চার্জশিট পেশ

কসবা ল’কলেজের ছাত্রী গণধর্ষণের ঘটনায় মনোজিৎ মিশ্রকে মূল অভিযুক্ত দেখিয়ে আলিপুর আদালতে চার্জশিট জমা দিল পুলিস।

কসবা ল’কলেজে গণধর্ষণ কাণ্ড: মনোজিৎ মিশ্র সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ৫৮৩ পাতার চার্জশিট পেশ
  • ২৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কসবা ল’কলেজের ছাত্রী গণধর্ষণের ঘটনায় মনোজিৎ মিশ্রকে মূল অভিযুক্ত দেখিয়ে আলিপুর আদালতে চার্জশিট জমা দিল পুলিস। শনিবার জমা পড়া ওই চার্জশিটে কলেজের অস্থায়ী কর্মী মনোজিৎ সহ চারজনের নাম রয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে। সকলের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, জোর করে আটকে রাখা ,মারধর, শ্লীলতাহানি ও তথ্যপ্রমাণ লোপাট সহ আইটি অ্যাক্টের ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ৫৮৩ পাতার এই চার্জশিটে ৮৪ জন সাক্ষী রয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছেন পাঁচ ডাক্তারও।

Advertisement

চলতি বছরের ২৫ জুন দক্ষিণ কলকাতা আইন কলেজে গণধর্ষণের শিকার হন সেখানকার এক ছাত্রী। এই নিয়ে আলোড়ন শুরু হয়। ২৬ জুন ওই ছাত্রী কসবা থানায়  অভিযোগ করলে গভীর রাতে গ্রেপ্তার করা হয় মনোজিৎ মিশ্র, তার দুই সহযোগী জায়েব আহমেদ ও প্রমিত  মুখোপাধ্যায়কে। পরে গ্রেপ্তার হয় নিরাপত্তারক্ষী পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্তভার যায় লালবাজারের হাতে। ৫৯ দিনের মাথায় জমা পড়া এই চার্জশিটে গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, ওই ছাত্রী কলেজে ফর্ম ফিলাপ করতে এসেছিলেন। ফর্ম ফিলাপ হয়ে যাওয়ার পর তাঁকে জোর করে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। এরপর নিরাপত্তারক্ষীর রুমে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে মনোজিৎ। ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও করে জায়েব ও প্রমিত। তারা ওই ছাত্রীকে জোর করে আটকে রেখেছিল। ইউনিয়ন রুম থেকে তারাই ছাত্রীকে  অপহরণ করে নিরাপত্তা রক্ষীর রুমে নিয়ে যায়। সেখানে মনোজিৎ এসে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। পুরো ঘটনায় তাকে সাহায্য করে ওই দুই ছাত্র। যে কারণে শুধু মনোজিতের সঙ্গেই ঘটনায় ওই দুজনও জড়িত। এত বড় অপরাধ ঘটছে জেনেও, নিরাপত্তারক্ষী কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। পুলিসের কাছে অভিযোগও করেনি। যে কারণে গণধর্ষণের এ ঘটনায় চারজনই জড়িত। ধর্ষণের  পর তথ্য প্রমাণ লোপাট করতে ঘটনাস্থল থেকে সব কিছু মুছে দেওয়া হয়। অর্থাৎ তথ্য প্রমাণ লোপাট করেছে চারজন মিলে। নির্যাতিতাকে অপহরণের ক্ষেত্রেও সকলের ভূমিকা ছিল। চার্জশিটে বলা হয়েছে, গণধর্ষণের ঘটনার সময় মনোজিতের কথামতো গোটা ঘটনার ভিডিও করা হয়। যা ভাইরালও হয়। এই কারনে মনোজিৎ, জায়েব ও প্রমিতের বিরুদ্ধে আইটি অ্যাক্টের ধারা রাখা হয়েছে। নির্যাতিতাকে ওই তিনজন মিলে মারধর করে বলে উল্লেখ রয়েছে। যার প্রমাণ মিলেছে। চার্জশিটে নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্ট উল্লেখ করে তদন্তকারীরা  জানিয়েছেন, এই রিপোর্ট বলে দিচ্ছে, কীভাবে তাঁর উপর  নির্যাতন চালানো হয়।  ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট, ফরেন্সিক রিপোর্ট সহ ডিজিটাল এভিডেন্সের নথি জমা দেওয়া হয়েছে প্রামাণ্য তথ্য হিসেবে। আগামী সপ্তাহে চার্জশিটের কপি অভিযুক্তদের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই মামলার কমিটমেন্ট করে বিচার পর্ব দ্রুত শুরু করতে চায় আদালত।

সম্পর্কিত সংবাদ