সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: বিয়ের দু’বছর, তিন বছর পার হয়েছে। অনেকের কোলে সন্তান। অথচ অবিবাহিত দেখিয়ে কন্যাশ্রী প্রকল্পের টাকা পেতে স্কুলে আবেদন করেছিলেন তাঁরা। জয়েন্ট বিডিও তদন্তে নামতেই উঠে এল একাধিক ভুয়ো কন্যাশ্রীর আবেদন। ঘটনাটি হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের মশালদহ অঞ্চলের। বুধবার জগন্নাথপুর হাই মাদ্রাসার কন্যাশ্রী প্রকল্পের একাধিক আবেদনপত্র হাতে নিয়ে করকরিয়া ও তালগাছি গ্রামে তদন্তে যান জয়েন্ট বিডিও সোনম ওয়াংদি লামা। আবেদনকারী ছাত্রীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন অনেক আবেদন ভুয়ো।
সোনাম ওয়াংদি লামা বলেন, ২০-২৫ টি কন্যাশ্রী আবেদনপত্র নিয়ে তদন্তে গিয়ে তালগাছিতে একাধিক ভুয়ো আবেদনের ঘটনা সামনে এসেছে। টাকা নেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। কারা এই ধরনের কাজ করছে, তার তদন্ত করছি। তবে,বিডিও তাপস কুমার পাল এদিন এই অনিয়মের সঙ্গে দপ্তরের এক কর্মীর যুক্ত থাকার কথা বলেছেন। তাঁর মন্তব্য, জয়েন্ট বিডিও অনেকগুলি আবেদনের তথ্য যাচাই করতে গিয়েছিলেন। দেখা গিয়েছে ১৬টির মধ্যে ১৪টি আবেদনই ভুয়ো। ব্লক অফিসের এক কর্মী এর সঙ্গে যুক্ত আছেন। আমরা তদন্ত করছি।
কন্যাশ্রী প্রকল্পে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত মেয়েদের পড়াশোনায় খরচ করার জন্য বছরে ১০০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেয় রাজ্য সরকার। পাশাপাশি ১৮ বছরের পরেও তারা অবিবাহিত থাকলে এককালীন দেওয়া হয় ২৫ হাজার টাকা। সেই ২৫ হাজার টাকা পেতে অবিবাহিত দেখিয়ে বিয়ের পর আবেদন করেছিলেন ছাত্রীরা। এদিন জয়েন্ট বিডিওর সামনে অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন অভিভাবকরা।
অভিভাবকরা জানিয়েছেন, পঞ্চায়েত ও ব্লকের কর্মীর পরিচয় দিয়ে কন্যাশ্রী প্রকল্পের টাকা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন কয়েকজন। তাঁরা পরিবারের লোকেদের থেকে ২-৫ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন। জগন্নাথপুর হাই মাদ্রাসার ছাত্রী তথা আবেদনকারী সুকতারা খাতুনের কাকিমা বেদারা খাতুন বলেন, তিন বছর আগে ভাইঝির বিয়ে হয়েছে। তার দুই বছরের সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর কন্যাশ্রীর আবেদন করেছিল। দুই মাস আগে ব্লক ও পঞ্চায়েতের কর্মীর পরিচয় দিয়ে দু’জন এসেছিলেন। প্রকল্পের টাকা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন তাঁরা। ৩ হাজার টাকা দিয়েছি। ওই হাই মাদ্রাসার ছাত্রী সাবনাজ খাতুনের দাবি, দুই বছর আগে আমার বিয়ে হয়েছে। ডিভোর্স হওয়ার পর বাবার বাড়িতে আছি। বিয়ের পর একাদশ শ্রেণিতে কন্যাশ্রীর জন্য কে-২ আবেদন করেছিলাম। প্রকল্পের টাকা পাইয়ে দেওয়ার জন্য ব্লক ও পঞ্চায়েতের কর্মীর পরিচয় দিয়ে দু’জন এসে ৩৫০০ টাকা নিয়ে গিয়েছেন। জগন্নাথপুর হাই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মহম্মদ সাহাবুদ্দীনের কথায়, পঞ্চায়েত থেকে অবিবাহিত সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। সেই কাগজ দেখিয়ে কন্যাশ্রীর জন্য জন্য আবেদন করেন ছাত্রীরা। পোর্টালে ডকুমেন্ট আপলোড হলে তদন্তে যান ব্লক ও পঞ্চায়েত কর্মীরা। কখনও আইসিডিএস কর্মীরা তদন্ত রিপোর্ট পাঠান ব্লকে। এখানে স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনও হাত নেই।