সংবাদদাতা, মানকর: বন্ধ হয়ে গিয়েছে সমস্ত সরকারি ভাতা। রেশনের সামগ্রীও আর মেলে না। সমস্ত সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কাঁকসার বনকাটি পঞ্চায়েতের রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধা অবলা বাদ্যকর ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দোষ একটাই, আধার কার্ড নেই কারও। বর্তমানে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে রেশন কার্ড, সবেতেই আধার লিঙ্ক করা বাধ্যতামূলক করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাছাড়া, আধার কার্ড তৈরি করতে গেলে ওটিপি লাগে। তারজন্য মোবাইল ফোনের প্রয়োজন। কিন্তু, হতদরিদ্র পরিবারের কারও মোবাইল নেই। আর কেন্দ্রীয় সরকারের আধার জটিলতার জেরেই কার্যত আঁধার নেমেছে অবলাদেবীর জীবনে। এক মেয়ে এবং প্রতিবন্ধী নাতিকে নিয়ে তাঁর সংসার। এখন প্রায় অনাহারেই দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একসময় ওই পরিবারের নিজস্ব কাঁচা ঘর ছিল। প্রায় তিন বছর আগে তা ঝড়ে পড়ে যায়। এলাকার বাসিন্দারা তখন এগিয়ে এসে স্থানীয় ক্লাবঘরে তিনজনের থাকার ব্যবস্থা করে দেন। তারপর থেকে আজও তাঁরা সেখানেই কোনওরকমে দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু, তাঁদের তিনজনেরই আধার কার্ড নেই। ফলে তাঁরা সরকারি প্রকল্পের সুবিধাও পান না। এমনকী, রেশন থেকে খাদ্য সামগ্রীও মিলছে না। অবলাদেবীর বার্ধক্য ভাতাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে বহুদিন আগে। অবলাদেবী বলেন, আধার কার্ড না থাকায় আমি রেশন পাচ্ছি না। বার্ধক্যভাতাও বন্ধ। লাঠি হাতে কোনওরকমে ভিক্ষা করতে যাই। ভিক্ষা না পেলে সেদিন আর খাবার জোটে না। তিনি আরও বলেন, আমার ভোটার ও রেশন কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবই আছে। কিন্তু, আধার কার্ড নেই। কখন আধার কার্ড হয়েছে, তা জানতাম না। তাই ওই কার্ড করা হয়নি। স্থানীয়রা বলেন, অবলাদেবীর সঙ্গে থাকেন তাঁর মেয়ে মরুনী। তিনিও মানসিকভাবে খুব একটা সুস্থ নন। আর বাড়িতে থাকে প্রতিবন্ধী নাতি। শারীরিক অক্ষমতার জন্য সে বিছানা থেকে উঠতে পারে না।
এদিন এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, বর্তমানে তাঁরা যে বাড়িতে রয়েছেন, তার অবস্থাও বেহাল। দেওয়ালের চারদিকে ফাটল ধরেছে। চট, বস্তা দিয়ে আড়াল করা হয়েছে দরজা। বাড়ির লাগোয়া ঝোপ জঙ্গল। স্থানীয় বাসিন্দারা আধার কার্ডের সমস্যা দূর করতে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে জানিয়েছেন। কিন্তু অভিযোগ, এখনও কোনও কাজ হয়নি। এলাকার বাসিন্দা গোবিন্দ বাদ্যকর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই পরিবারটি চরম সমস্যায় রয়েছে। মাঝেমধ্যে গ্রামের বাসিন্দারা খাবার দেন। একেক দিন ওঁদের খাবারটুকুও জোটে না। সরকারি ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর্থিক সমস্যা আছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় যখন আধার কার্ড তৈরি করা হচ্ছিল, তখন অবলাদেবীরা তা করাননি। বনকাটি পঞ্চায়েতের উপ প্রধান সোমনাথ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি জানি। ওঁদের রেশন কার্ড বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিষয়টি আমরা ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। যাতে ওঁরা রেশনটুকু পান। কিন্তু, এখনও তা কার্যকর হয়নি। আশা করছি, তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে। দ্রুত আধার কার্ড তৈরি করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।-নিজস্ব চিত্র