Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুজো ম্যাপের নয়া হটস্পট এখন কল্যাণী মহালয়াতেই মণ্ডপে জমজমাট ভিড়

সবে মহালয়া! মানুষ আর ঘরে থাকতে চাইছেন না। খাস কলকাতার নামজাদা মণ্ডপের কাহিনি নয়। শহর থেকে ঘণ্টা দেড়েক বা তারও বেশি ট্রেন জার্নি করে মানুষ দৌড়োচ্ছেন কল্যাণীতে।

পুজো ম্যাপের নয়া হটস্পট এখন কল্যাণী মহালয়াতেই মণ্ডপে জমজমাট ভিড়
  • ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সোহম কর, কল্যাণী: সবে মহালয়া! মানুষ আর ঘরে থাকতে চাইছেন না। খাস কলকাতার নামজাদা মণ্ডপের কাহিনি নয়। শহর থেকে ঘণ্টা দেড়েক বা তারও বেশি ট্রেন জার্নি করে মানুষ দৌড়োচ্ছেন কল্যাণীতে। কারণ, ঠাকুর দেখার ম্যাপে নবতম সংস্করণ কল্যাণীর আইটিআই মোড়। মহালয়ার দুপুর থেকেই লুমিনাস ক্লাবের পুজো মণ্ডপে সব বয়সের লোকজনদের ভিড়। বিকেল হতে আরও বাড়তে থাকল ভিড়। কল্যাণী ঘোষপাড়া স্টেশনে শিয়ালদহ থেকে ট্রেন এসে দাঁড়ালেই দর্শনার্থীরা যেন মিছিল করে আসছেন। এসে প্রশ্ন একটাই, ‘আজ ভিতরে ঢোকা যাবে না? সে কী!’ অনেকের যুক্তি, ‘কাল তো শ্রীভূমি খুলে গিয়েছে, তাহলে লুমিনাস খুলল না কেন?’ ঠাকুর দেখা যাচ্ছে জায়ান্ট স্ক্রিনে।

Advertisement

গালগল্প-হাসাহাসির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলল উত্সব উপভোগ। সাদা মণ্ডপের সামনে ক্লান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন বালির শ্যামল হালদার। পাশে কাউকে দেখলেই জিজ্ঞেস করছেন, ‘আপনি কোথা থেকে এসেছেন?’ এভাবে আলাপ করতেই তিনি বললেন, ‘বালি থেকে চলে এলাম। ঘণ্টা দেড়েক লাগল। বাচ্চারা বলল। আমার তো আজকেই ছুটি থাকে। কিন্তু মণ্ডপ এখনও খোলেনি!’ বলেই তিনি সপরিবারে ছুটলেন রথতলা। লুমিনাস ক্লাবের সামনে থেকেই অটোচালকরা হাঁক দিচ্ছেন, ‘রথতলা! রথতলা!’ সেখানে মণ্ডপের শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। ‘এত তাড়াতাড়ি চলে এলেন?’ এমন একটি নির্বিষ প্রশ্ন করতে কার্যত অবাকই হলেন দমদমের সৌমিত্র সাহা। গার্ল ফ্রেন্ডের ছবি তুলে তাঁর বক্তব্য, ‘আসব না? পরশু থেকে ভিড় হয়ে যাবে।’ মহালয়ার দিন থেকেই মণ্ডপের পিছন দিকে মেলা বসে যাচ্ছে। সেখানে লোকজন চাউমিন-বিরিয়ানি উদরস্থ করাও শুরু করে দিয়েছেন। নাগোরদোলা থেকে হরেক মালের দোকান, কী নেই সেখানে!
লুমিনাস ক্লাবের কর্মকতা অমিত বিশ্বাস বলছিলেন, ‘এটা আমাদের ৩৩তম পুজো। এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে উদ্বোধন করলেন। ২৩ তারিখ মণ্ডপ সকলের জন্য খোলা হবে। এবছর মায়ানমারের প্যাগোডার আদলে মণ্ডপ হয়েছে।’ এখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকেন ৮০০ পুলিস, ৫৫০ ভলান্টিয়ার, ১০০ এনসিসি আর ১২ জন বাউন্সার। লুমিনাসের পর রথতলা সর্বজনীনের পুজোও জনপ্রিয়। তাদের কর্মকর্তা কুন্তল মহাপাত্র বলেন, ‘আমেরিকার স্বামীনারায়ণ মন্দিরের আদলে আমাদের মণ্ডপ। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমাদের এখানে মানুষজন ঠাকুর দেখতে আসছেন।’ আর এই দুই ক্লাবের মাঝে রয়েছে কল্যাণীর ম্যাডক্স স্কোয়ার অর্থাত্ সেন্ট্রাল পার্কের পুজো। তার মাঠ তরুণ-তরুণীদের আড্ডাস্থল হয়ে উঠবে আর কিছুদিনের মধ্যেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ